11:53pm  Saturday, 19 Oct 2019 || 
   
শিরোনাম



হোটেল-চায়ের দোকানে হাজারো শিশু শ্রমিক
১২ জুন ২০১৬



কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) ২০০২ সাল থেকে প্রতিবছরের ১২ জুন ‘বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পালন করছে।

ব্রহ্মপুত্র নদ বিচ্ছিন্ন কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে শিশু শ্রমিকের সংখ্যা। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও আজ বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। বিভিন্ন সংগঠন ও নীতিমালা প্রণয়ণ ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পরও শিশু শ্রমিক কমছে না। শহরে শিশু শ্রমিক কম থাকলেও মফস্বল এলাকাগুলোতে এর ব্যাপকতা বাড়ছে।

আল মামুন বয়স ১২। তার এই বয়সে হাতে থাকার কথা বই ও খাতা-কলম। কিন্তু তা না হয়ে সে এখন চায়ের কাপ নিয়ে দোকানে দোকানে যাচ্ছে। রাজীবপুর উপজেলা চত্বরের একটি চায়ের দোকানে সকাল ৭টার দিকে এসে ধোয়ামোছার কাজ দিয়ে শুরু হয় আল মামুনের দিনের যাত্রা। কাজ করেন রাত ১১টা পর্যন্ত। খাওয়া গোসল ও রাতে থাকা হয় ওই দোকানেই। আল মামুনের বয়স যখন ৫ তখন তার মা মারা যায়। বাবা আরেকটি বিয়ে করে সংসার সাজায় কিন্তু মামুনের খোঁজ নেয়না কেউ। আল মামুনের মতো অসংখ্য শিশু হোটেল, চায়ের দোকান, মটর গ্যারেজ ও ওয়েল্ডিং কারখানায় ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করছে।

জুয়েল রানা রাজীবপুরের একটি মোটর গ্যারেজে কাজ করে। তার বয়স ১২/১৩ হবে। সে বলে, ‘স্কুলে পড়ার তো ইচ্ছা হয়। বাবাই আমাকে কাজে পাঠাইছে।’

রৌমারীর জন্দিরকান্দা গ্রামের ফরিদুল ইসলাম। তার বাবা একজন দিনমজুর। ফরিদুলের বয়স ১২ বছর। স্কুলে কয়েকদিন গিয়েছিল। তারপর সে আর স্কুলে যায় না। এখন সে ভ্যানগাড়ি চালায়। রাজীবপুর বাজারের একটি হোটেলে কাজ করে ৩ শিশু। ৩ জনের বয়স ১০ থেকে ১৪ বছরের মধ্যে হবে।

রৌমারী ও রাজীবপুর উপজেলায় শিশুদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করছে এমন একটি বেসরকারি সংস্থা আরএসডিএর দেয়া তথ্যে জানা গেছে, ১০ থেকে ১৮ বছরের নিচে এক হাজারের অধিক শিশুর নরম হাত ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। শিশুশ্রম নিষিদ্ধ হলেও এ দু’উপজেলার প্রশাসনের কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেই।

সংস্থার নির্বাহী পরিচালক আব্দুল ওয়াহাব জানান, দারিদ্র আর অসচেতনতার কারণে অভিভাবকরা কম বয়সের শিশুদের পাঠিয়ে দিচ্ছে শ্রম বিক্রির কাজে। শিশুদের স্কুলে শতভাগ উপস্থিতি ও শিশুশ্রম বন্ধ করতে হলে প্রশাসন, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনকে একজোট হয়ে কাজ করতে হবে।

রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন তালুকদার ও রাজীবপুর উপজলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন মাহমুদ জানান, লেখাপড়া ছেড়ে শিশুদের দিয়ে কাজ না করানোর বিষয়টি বিভিন্ন স্কুলে ও সভা সেমিনারে তুলে ধরা হয় থাকে। সরকারি প্রতিটি প্রাইমারি শিক্ষকদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে তাদের এলাকার একটা শিশুও যেন বাদ না পড়ে স্কুল থেকে। তারপরও আমাদের অজান্তে অনেক শিশু ঝুঁকিপূর্ণ শ্রম পেশায় জড়িত হচ্ছে।
এই নিউজ মোট   3631    বার পড়া হয়েছে


শিশু শ্রম



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.