04:05am  Wednesday, 24 Apr 2019 || 
   
শিরোনাম
 »  সরকারি ভূমি দখল করে ব্যবসা করা যাবে না     »  দিনাজপুরে পরিবেশের পরমবন্ধু ৯টি শকুন অবমুক্ত     »  খালেদা জিয়া প্যারোল চাইলে শেখ হাসিনা জামিন দিবেন     »  নির্যাতন সয়তে না পেরে ছয় তলার কার্নিশ বেয়ে নামার চেষ্টা গৃহকর্মীর!     »  সারাবিশ্বের মন্ত্রীরা এখন বাংলাদেশী মন্ত্রীদের পরামর্শ চায়     »  তোমরা কি শেখ হাসিনাকে বিচার দিবা? উত্তরে বাচ্চারা সমস্বরে বলে 'জ্বি'      »  অমুসলিমদের উপাসনালয় রক্ষায় ওমর (রা.) এর ফরমান     »  প্রথম বাংলাদেশি রোবট 'লি' হাঁটে ও কথা বলে     »  তিন বছর পর রাজ চক্রবর্তীর পরিচালনায় জিৎ-কোয়েল      »  মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে ইরানের পাশে চীন-তুরস্ক   



পুরুষ অধিকার আদায়ে লড়ছেন এক নারী সাংবাদিক
৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২২ ভাদ্র ১৪২৪, ১৪ জিলহজ ১৪৩৮



ভারতের নারীদের বিরুদ্ধে অপরাধ একটি নিয়মিত ঘটনা। আর এজন্য দেশটিতে নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনেরও অভাব নেই। কিন্তু নির্যাতিত পুরুষ অধিকার নিয়ে কেউ কখনো কাজ করেনি সেখানে। তবে এবার তার ব্যতিক্রম উদাহরণও খুঁজে পাওয়া গেছে। নির্যাতিত পুরুষদের অধিকারের পক্ষে কাজ করছেন প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতা ও সাবেক এক নারী সাংবাদিক ।


নারী নির্যাতনের ঘটনা প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোতে। দেশটিতে প্রতি ১৫ মিনিটে ঘটে একটি ধর্ষণের ঘটনা, প্রতি পাঁচ মিনিটে ঘটে নারীদের ওপর একটি গৃহনির্যাতনের ঘটনা আর প্রতি ৬৯ মিনিটে যৌতুকের জন্য প্রাণ দিতে হয় একজন গৃহবধূকে।

এছাড়া প্রতি বছর হাজারো ভারতীয় নারী গর্ভপাত করান কন্যাসন্তানের জন্মদানের ভয়ে। এমনকি জন্ম নেয়ার পর নবজাত মেয়েকে মেরে ফেলার ঘটনার সঙ্গেও নিয়মিত পরিচয় আছে ভারতীয়দের। বেঁচে থাকলে সারাজীবন বৈষম্য, সহিংসতা আর অবহেলার শিকার হয়ে থাকতে হয় দেশটির নারীদের।

এসব ঘটনা সম্পর্কে ভালোভাবেই অবহিত আছেন ৩১ বছর বয়সী দীপিকা নারায়ন ভরদ্বাজ। তবে তার প্রশ্ন- পুরুষরা কি ভারতে অরক্ষিত নয়? তারা কি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন না? তারা কি ভুক্তভোগী হতে পারেন না?

তিনি বলেন, ‘আপনি নারী হয়েছেন শুধু নারীদের জন্যই লড়াই করতে নয়। একইভাবে আপনাকে পুরুষদের জন্যও লড়তে হবে। আমি নারীদের ওপর নির্মমতা নিয়ে কোনো কথা বলতে চাই না, কারণ এ নিয়ে কথা বলার জন্য লাখো মানুষ আছে।’


এই মুহূর্তে ভারতীয় আইনের ‘৪৯৮এ’ ধারার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে লড়াই করছেন দীপিকা। এটি মূলত যৌতুকবিরোধী একটি আইন। সারা ভারত ঘুরে এ বিষয়ে নিজের প্রামাণ্যচিত্র ‘মার্টায়ার্স অব ম্যারেজ’ প্রদর্শন করেছেন তিনি। আইনটি সংশোধনে কর্তৃপক্ষকে সচেতন করতেই তার এই উদ্যোগ।যৌতুকবিরোধী আইনের অপব্যবহার রুখতে প্রতিবাদযৌতুকবিরোধী আইনের অপব্যবহার রুখতে প্রতিবাদ।

১৯৮৩ সালে দিল্লি এবং দেশের আরো কিছু জায়গায় যৌতুক না দেয়ার কারণে বেশকিছু গৃহবধূ খুনের ঘটনা ঘটে। এরপর ওই বছরই ৪৯৮এ ধারাটি প্রণয়ন করে ভারত সরকার। তখন দেশটির খবরের কাগজে প্রতিদিনই গৃহবধূদের পুড়িয়ে মারার ঘটনা প্রকাশিত হতো। একাজ কখনো করতো স্বামী, আবার কখনো স্বামীর ভাইয়েরা। এগুলোকে রান্নাঘরের দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দেয়া হতো। তখন ভারতীয় নারী এমপিরা এ নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় এবং বিষয়ে আইন প্রণয়নের দাবি তোলে।

এ বিষয়ে দীপিকা বলেন, ‘আইনটি মহৎ উদ্দেশ্য নিয়েই প্রণয়ন করা হয়েছিল। কিন্তু যে আইনটি এক সময় অনেক প্রাণ বাঁচানোর জন্য প্রণয়ন করা হয়েছিল, সেই আইনটিই এখন অসংখ্য প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে।’ শুধু দীপিকা একাই নন, ওই ৪৯৮এ ধারার অপব্যবহারের সমালোচনা গত কয়েক বছর ধরেই চলে আসছে ভারতে। ভারতে সবচে বেশি অপব্যবহার করা হয় দণ্ডবিধির এই আইনটি।

সেখানে দিন দিন বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অসন্তুষ্ট নারীরাও অসৎ আইনজীবীদের পরামর্শে তার স্বামী এবং স্বামীর আত্মীয়দের হয়রানি করতে অপব্যবহার করছে এই আইনের। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতও। একজন বিচারপতি একে আখ্যায়িত করেছেন ‘আইনি সন্ত্রাস’ বলে। তিনি বলেন, ‘আইনটিকে রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহার করতে চায় আদালত, কোনো গুপ্তঘাতকের অস্ত্র হিসেবে নয়।’ এই অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে ভারতের ন্যাশনাল কমিশন ফর উইমেন।আইনটিকে রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহার করতে চায় আদালত, কোনো গুপ্তঘাতকের অস্ত্র হিসেবে নয়আইনটিকে রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহার করতে চায় আদালত, কোনো গুপ্তঘাতকের অস্ত্র হিসেবে নয়।

ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮এ ধারা অনুসারে, অভিযোগ দায়েরের সঙ্গে সঙ্গেই গ্রেফতার করতে হবে আসামিকে। ১৯৯৮ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত আইনটির আওতায় গ্রেফতার করা হয়েছে ২৭ লাখ মানুষকে, যার মধ্যে সাড়ে ৬ লাখ নারী এবং ৭ হাজার ৭০০ শিশু। অনেক ক্ষেত্রে অভিযুক্তের বয়স দুই বছর বয়স। এরমধ্যে ২০১৪ সালের জুলাইয়ে দুই মাসের এক শিশুকে থানায় হাজিরা দিতে আসার ঘটনা গণমাধ্যমে আলোড়ন তুলেছিল।

ওই ঘটনার পর কাউকে গ্রেফতার করার আগে নয়টি বিষয় পর্যবেক্ষণ করতে পুলিশকে নির্দেশ দেয় আদালত। সাবেক সাংবাদিক দীপিকা জানান, এ নিয়ে ব্যক্তিগত একটি অভিজ্ঞতার পর ২০১২ সাল থেকে তিনি বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করে আসছেন।
তিনি বলেন, ‘২০১১ সালে আমার এক কাজিনের বিয়ে তিন মাসের মাথায় ভেঙে যায়। এরপর তার স্ত্রী আমাদের পুরো পরিবারকে অভিযুক্ত করে যে আমরা তাকে প্রহার করেছি এবং তার কাছে যৌতুক চেয়েছি। তিনি আমাদের নামে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। আমাকেও ওই মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়- আমি নাকি তাকে নিয়মিত প্রহার করতাম!’

শেষ পর্যন্ত পরিবারে শান্তির স্বার্থে ওই নারীর পরিবারকে বড় অংকের অর্থ দিতে হয় বলেও জানান দীপিকা। তবে মামলা এখনো তুলে নেয়া হয়নি। আর তাই শান্তির দেখা পায়নি তাদের পরিবার। এই প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতার ভাষায়, ‘আইনটি এখন হয়েছে ব্ল্যাকমেইল আর চাঁদাবাজির সবচে বড় অস্ত্র।’

পুরুষ অধিকারের পক্ষে কাজ করতে গিয়ে পুলিশ, আদালত এবং এনজিও ‘সেভ ইন্ডিয়ান ফ্যামিলি’র কাছে ছুটতে হয়েছে তাকে। নিজের চার বছরের অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি নির্মাণ করেছেন তার ‘মার্টায়ার্স অব ম্যারেজ’ প্রামাণ্যচিত্রটি। এতে যৌতুকবিরোধী আইনের ভুক্তভোগী পুরুষদের চিত্র তুলে ধরেছেন দীপিকা।

প্রামাণ্যচিত্রে দেখা যায়, মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে কারাদণ্ড ভোগ করতে অনেক স্বামীদের। এক যুবককে এমন একটি মামলায় আদালত সাজা দিলে তার মা-বাবা আত্মহত্যা করে। এর শেষে যুবক ব্যাংক কর্মকর্তা যাদবের একটি সুইসাইড নোট তুলে ধরা হয়, যেখানে লেখা থাকে ‘ওয়ান সাইডেড ল’ (একপেশে আইন)। এটি ছিল একটি সত্য ঘটনা।ভুক্তভোগী ব্যাংক কর্মকর্তা যাদবের মা-বাবাভুক্তভোগী ব্যাংক কর্মকর্তা যাদবের মা-বাবা।

এই আইনের অপব্যবহারের ঠেকানোর ব্যর্থতার কথা এর আগে স্বীকার করেছেন ভারতের সাবেক এক আইনমন্ত্রীও। দীপিকা মনে করেন, আইন হওয়া উচিত লিঙ্গনিরপেক্ষ। এই আইনের ভুক্তভোগী হয়ে অনেক পুরুষ আত্মহত্যা করছেন বলেও জানান তিনি।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভুয়া ধর্ষণ মামলার বিরুদ্ধেও কাজ শুরু করেছেন সাবেক এই নারী সাংবাদিক। ২০১২ সালে দিল্লির বাসে গণধর্ষণের ঘটনার পর ধর্ষণবিরোধী কঠোর আইন ৩৭৬ ধারা প্রণয়ন করে ভারত সরকার। এরপর থেকে রীতিমতো শুরু হয় ধর্ষণ মামলা দায়েরের প্রতিযোগিতা। এসব মামলার অনেকগুলোতেই দেখা যায়, সম্মতিক্রমে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনের পর যখন সম্পর্ক তিক্ত হয়ে ওঠে বা কোনো ঝামেলা তৈরি হয় তখনই মেয়েরা থানায় গিয়ে ধর্ষণ মামলা দায়ের করে।

এই আইনটির অপব্যবহার নিয়েও সতর্কতা দিয়েছেন ভারতের বিচারপতিরা। দিল্লির নারী সংস্থা ‘দিল্লি কমিশন ফর উইমেন জানায়, ২০১৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৪ সালের জুলাই পর্যন্ত যেসব মামলা হয়েছে তার ৫৩ দশমিক ২ শতাংশ ঘটনাই পরে ভুয়া প্রমাণিত হয়েছে।

আইনের অপব্যবহার করে পুরুষ নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলতে সামাজিক মাধ্যমকে বেছে নিয়েছেন দীপিকা। এর প্রতিক্রিয়ায় অবশ্য ভারতের নারীবাদী সংগঠনগুলো থেকে প্রতিনিয়তই অপমানিত হতে হচ্ছে এই নারীকে। তাকে ধর্ষণের সহযোগী বলেও আখ্যা দিয়েছেন কেই কেউ। তবে তা সত্ত্বেও পিছিয়ে আসতে রাজি নন তিনি।

দীপিকা বলেন, ‘অনেক নারীবাদী বলে, পুরুষদের অধিকারের জন্য কাজ করা ঠিক হচ্ছে না। আমি প্রত্যেকের জন্য ন্যায়বিচার চাই, সে যে লিঙ্গেরই হোক। আমার আন্দোলন নারীদের বিরুদ্ধে নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে।’মার্টায়ার্স অব ম্যারেজ প্রামাণ্যচিত্রের পোস্টারমার্টায়ার্স অব ম্যারেজ প্রামাণ্যচিত্রের পোস্টার।


এই নিউজ মোট   2021    বার পড়া হয়েছে


পুরুষ অধিকার



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.