10:30am  Monday, 18 Nov 2019 || 
   
শিরোনাম
 »  ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মওলানা ভাসানীর ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত     »  দৃষ্টি কাড়তে আমির-কন্যার ফটোশুট     »  প্রথম পুরস্কার দুই কেজি দেশি, দ্বিতীয় দুই কেজি ভারতীয়, তৃতীয় দুই কেজি পাকিস্তানি পিয়াজ!     »  দিনাজপুরে বাজারে নতুন পাতা পিয়াজ     »  ধেয়ে আসছে বুলবুলের চেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় নাকরি     »  আমাকে নির্যাতন করা হয়েছে খেতেও দেওয়া হত না     »  অফিসে বসে বাবা দেখছিলেন- অমানবিক? লোমহর্ষক? বীভৎস নির্যাতন?     »  সাবিলা নূর মধুচন্দ্রিমায় সময় কাটাচ্ছেন!     »  ১০ বছর বয়সী খেলার সঙ্গী পাঁচ বছরের শিশুকে গলা কেটে হত্যা     »  নতুন পরিবহন আইনের উদ্দেশ্য সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, জরিমানা নয়!   



৮ বছরের শিশু শ্রম দিয়ে চলে আশিকুরর সংসার
১৪ নভেম্বর ২০১৭, ৩০ কার্তিক ১৪২৪, ২৪ সফর ১৪৩৯



যে বয়সে লেখাপড়া ও খেলাধুলা করার কথা ঠিক সেই বয়সেই শিশু শ্রম দিয়ে সংসারের হাল ধরতে হয়েছে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী ৮ বছরের শিশু আশিকুর কে।

সোহেলরানা, পলশবাড়ী (গাইবান্ধা) থেকেঃ- যে বয়সে লেখাপড়া ও খেলাধুলা করার কথা ঠিক সেই বয়সেই শিশু শ্রম দিয়ে সংসারের হাল ধরতে হয়েছে ৮ বছরের শিশু গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ী গ্রামের হতদরিদ্র আমজাদ আলীর ছেলে আশিকুর (৮) কে। স্থানীয় বাজারে ছোট্ট হোটেলে কাজ করছে ৮ বছরের একটি শিশু হঠাৎ কাজের ফাকে এই প্রতিবেদকের নজরে আসে।

খোজখবর নিয়ে জানা যায়, সেই ৮ বছরের শিশু শ্রম দেয়া আশিকুরের পরিবারের করুন কাহিনীর কথা। তার বাবা হতদরিদ্র আমজাদ আলী। আমজাদ আলীর পরিবারে ছেলেমেয়ে ও তার স্ত্রীসহ সদস্য ৫ জন। তার ২ ছেলে, ১ মেয়ে। ১ম সন্তান একমাত্র মেয়ে তার বিয়ে হয়েছে। ওই পরিবারে আশিকুর বাবা-মার ২য় সন্তান। তার কৃষক বাবা আমজাদ আলীর পৌত্রিক সম্পদ বলতে বসতবাড়ী  ভিটা ছাড়া মাঠে কোন জমি নেই। সংসার স্বচ্ছল আনতে অন্যের সামান্য কিছু জমি বর্গা নিয়ে চাষাবাদ করেন। আমজাদ আলী কখনো মাছ বিক্রি আবার কখনো অন্যের বাড়ীতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ ও সংসার চালান। বাবার সামান্য আয়ে সংসার চলে না। না খেয়ে থাকতে হয় তাদের। লেখাপড়া ছেড়ে পেটের দায়ে এই বয়সে সংসারের হাল ধরতে হোটেলের ছোট-খাটো কাজ করতে হয় তাকে। ৮ বছরের এই ছোট্ট শিশুটি বাচার তাগিদে স্থানীয় বাজারে একটি হোটেলবয় হিসেবে কাজ করে। জনৈক্য হোটেল মালিকের আন্তরিকতায় তেমন কোন ভারী কাজ না করে নিয়ে টেবিল পরিস্কার, পানি ও চা দেয়া কাজ করে তার খাওয়া পড়া বাদে আশিকুরকে দৈনিক মজুরী বাবদ দেন ১শ' টাকা। বাবা ও আশিকুরের সামান্য আয়ের টাকা দিয়ে তাদের সংসার চলে।

এ ব্যাপারে আশিকুর (৮) এর সাথে কথা বললে সে জানায়, আব্বা মানুষের মাছ মারে কেনাবেচা করে আর মানুষের কাম করে। হামাহেরে জমি নাই। হামার বাড়ীতে খুব অভাব তাই মুই স্কুলে যাও না। হোটেল এলা ভাই মোক খুব আদর করে।

হোটেল মালিকের সাথে কথা বললে তিনি জানান, ওর পরিবারের কথা ভেবে ওকে ওর সামান্য কাজের বিনিময়ে ওর খাওয়া-পরাসহ  দৈনিক ১শ' টাকা করে দেই। আসলে ওর পরিবারটার অনেক অভাব।

আমাদের আজকের এই সভ্য সমাজে কলম হাতে না ধরে আশিকুরের মত ৮ বছরের ছোট্ট শিশু বাচ্চাকে বেছে নিতে হয়েছে শিশু শ্রমকে। আশিকুরের মত শিশু শ্রমিকদের কথা বিভিন্ন সভা সেমিনার কিংবা খবরেরর পাতায় বলা হয়ে থাকে। আগামী দিনে মানুষ হওয়ার বা সুন্দরভাবে বেচে থাকার স্বপ্ন কেউ দেখায় না।

বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডে বাংলাদেশ যখন বিশ্বের দরবারে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে পৌছিয়েছে তেমনি সরকারের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে শিশু শ্রম বন্ধে কঠোর নজরদারী রাখতে হবে। শিশু শ্রম বন্ধ রেখে আশিকুরের মত অবহেলিত ওই সকল শিশুদের প্রতি নজর দিতে হবে। তাহলেই শিশুরা শিশু শ্রমে না গিয়ে কলম হাতে ধরে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ হয়ে তারাই উন্নত জাতি গঠনে সহায়ক হবে।

 ‘আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ’ এই বাক্য বর্তমান যুগে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সভা, সেমিনার,স্কুল,কলেজে প্রধান কথা হিসেবে বলা হয়ে থাকে। কথা বলার মতো লোক অনেক রয়েছে কিন্তূ তাদের পাশে দাড়ানোর মত কেউ নেই। বাস্তবে তার প্রয়োগ ও প্রচার কোনটিরই মিল দেখা মেলে না। বর্তমানে তার ভিন্ন চিত্র ।

জাতিসংঘের শিশু সনদ একটি আন্তর্জাতিক আইন।আর আইনে রয়েছে নানা ধরনের অধিকার।১৫ বছরের কম বয়সী প্রত্যেককে বাংলাদেশের আইনে শিশু কিশোর হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।যারা ১৪ বছরের মধ্যে তারা সকলেই এ দেশের শিশু কিশোর।আর ৭-১৪ বছরের শিশুরাই শিশু শ্রমে যুক্ত।প্রতিনিয়ত শিশু শ্রম বেড়েই চলেছে।আইন আছে প্রয়োগ নেই।নেই কেউ তাদের পাশে দাড়ানোর।
বাস্তবতা হল এই যে, যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায়। তাদের ঘরে সন্তান এলে সেই শিশুটি হয় অবহেলিত ও অধিকার বঞ্চিত। পরিবারের মধ্যেই সেই শিশু পরগাছার মত বেড়ে ওঠে। দারিদ্রতার কারণেই এই ছোট্র শিশুটি একটি কঠিন বাস্তবের মুখোমুখি দ্বারায়। 'যে ছোট ছোট শিশু আশিকুরের মত তাদের নিজেদের অধিকার পায় না, জীবীকার তাগিদে আশিকুরের মত যে সব শিশুরা ভিক্ষাবৃত্তি, বাদাম বিক্রি, কাগজ কুরানো, হোটেলে কঠোর শ্রমকে মেনে নিচ্ছে। সে দেশ কিভাবে উন্নতির শেখরে পৌঁছবে। শ্রমজীবী শিশুরা এভাবেই অনাদরে অবহেলায় পড়ে রবে। অবহেলিত শিশুরা তাদের মৌলিক চাহিদাগুলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ব্যবহার করা হচ্ছে ধনী, বৃত্তবানদের বাসা বাড়ীতে এদেশের রহিমা, জমিলার মত অসংখ্য শিশুকে কাজের বুয়া হিসেবে। সেই সাথে আশিকুরের মত রহিম, করিমদের দিয়ে বিভিন্ন মিল কল-কারখানা, ফেক্টরী, হোটেলে প্রতিনিয়ত তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে নানান ধরনের কাজে। আগামী দিনে এই সকল শিশুদের ভবিষ্যৎ কি হবে? এমন প্রশ্নের উত্তর জানা নেই। শিশু শ্রমে জড়িয়ে পড়ছে একের পর এক শিশু। কিন্তুু প্রতিরোধে  ভূমিকা বিশেষ লক্ষ্যনীয় নয়। আজকের শিশু আগামী দিনের ভবিষ্যৎ এবং দেশের কর্ণধার। এই শিশুই আমাদের আশা এই শিশুই আমাদের ভরসা।
যেখানে তাদের বেঁচে থাকাই প্রশ্নবিদ্ধ সেখানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কথা চিন্তা করা কল্পনাই মাত্র। এমন পরিস্থিতিতে সরকারসহ সরকারের দায়িত্বরত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সজাগ দৃষ্টিই এই সকল অসহায় অবহেলিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে পারে। আর তা না হলে আমাদের সমাজ ব্যবস্থা তথা দেশ কখনো উন্নতির শেখরে পৌছবে না।

সোহেলরানা, পলশবাড়ী(গাইবান্ধা)

পড়ুন: শিশু‌দের শ্রমই শিশু শ্রম
এই নিউজ মোট   6640    বার পড়া হয়েছে


শিশু শ্রম



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.