05:07pm  Friday, 24 May 2019 || 
   
শিরোনাম
 »  না ফেরার দেশে চলে গেলেন সাংবাদিক শামীম রেজা !     »  ঠাকুরগাঁওয়ে গৃহবধু হত্যা মামলার ৩ আসামী আটক     »  সংবাদ সম্মেলন ও প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান     »  পলাশবাড়ীতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও অবস্থান কর্মসূচী     »  ফুলছড়ির গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের উন্মুক্ত বাজেট সভা     »  গাইবান্ধায় ‘সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা     »  গাইবান্ধায় ক্রিকেট লীগ     »  গাইবান্ধায় জেলা প্রশাসনের ইফতার ও দোয়া মাহফিল     »  রংপুর সুগার মিলে শ্রমিক-কর্মচারীদের ‘ওভার টাইম’ কাজের ভাতা কর্তনের অভিযোগ     »  গোবিন্দগঞ্জে ধান কাটামাড়াই যন্ত্র কম্বাইন হারভেস্টার প্রদর্শনী ও কৃষক মাঠ দিবস   



আদালতের নির্দেশে হিরো আলম কারাগারে
৭ মার্চ ২০১৯, ২৩ ফাল্গুন ১৪২৫, ২৯ জমাদিউস সানি ১৪৪০



বগুড়া  প্রতিনিধি: ডিশ ব্যবসায়ী থেকে তারকা বনে যাওয়া বগুড়ার সেই আশরাফুল হোসেন আলম ওরফে হিরো আলমকে আদালতের নির্দেশে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে মারধরের ঘটনায় করা মামলায় গতকাল বুধবার গ্রেপ্তার হন হিরো আলম। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে তাঁকে বগুড়ার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করলে বিচারক আহমেদ শাহরিয়ার তারিক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বগুড়া সদর থানায় পুলিশের হেফাজতে থাকা হিরো আলম আজ সকালে বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে শ্বশুরের করা মামলাটি সাজানো ও ভিত্তিহীন। তাঁর দাবি, তিনি পূর্ব পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার।

হিরো আলম বলেন, আমি সত্য বলতে কখনো ভয় পাই না আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলতে দ্বিধা করি না। অনেক আগে থেকেই ডিশের ব্যবসায় নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেছিল আমার শ্বশুর পক্ষের লোকজন। সেই সুযোগকে কাজে লাগাতে যৌতুকের মিথ্যে অভিযোগ তুলে, স্ত্রীকে নির্যাতনের নাটক সাজিয়ে আমাকে নারী নির্যাতন মামলায় ফাঁসিয়েছে। তা ছাড়া বিগত নির্বাচনে প্রশাসনের অনিয়ম আর ভোট চুরির প্রতিবাদ করেছিলাম। বড় বড় কর্তাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলাম। আমাকে মামলায় ফাঁসানোর নেপথ্যে এসব বিষয়ও কাজ করেছে।

হিরো আলম বলেন, ‘আমি সিনেমা ও মডেলিং করি। অধিকাংশ সময় বাইরে থাকতে হয়। আমার ডিশের ব্যবসার আয়-উপার্জন সবকিছুই স্ত্রী সাদিয়া বেগম ওরফে সুমিকে (২৪) ছেড়ে দিয়ে রেখেছিলাম। কোনো যৌতুক চাওয়ার প্রশ্নই আসে না। উল্টো আমার অবর্তমানে অন্যের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এর প্রতিবাদ করায় স্ত্রীর সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমার বাড়িতে হামলা করে। টাকা পয়সা লুট করে। ভাঙচুর করে। আমাকে মারধর করে। ঘটনার পরপরই আমি থানায় লিখিত অভিযোগ করি। পরদিন পুলিশ সালিসের নামে থানায় ডেকেছে, আমি ন্যায় বিচারের আশায় পুলিশের ডাকে বৃহস্পতিবার রাতে স্বেচ্ছায় থানায় এসেছি। অথচ আমার কথা পাত্তা না দিয়ে অদৃশ্য শক্তির চাপে শ্বশুরের সাজানো অভিযোগটা মামলা হিসেবে রেকর্ড করে আমাকে সেই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। পুলিশ দুই পক্ষের অভিযোগ আমলে নিয়ে তদন্ত করতে পারতেন। কিন্তু অদৃশ্য চাপে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।’

হিরো আলম বলেন, এভাবে সাজানো মামলায় আমাকে কারাগারে আটকে রেখে আমার জনপ্রিয়তা নষ্ট করা যাবে না। কেউ বিশ্বাস করবে না, যে স্ত্রীকে ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে রেখেছি, তাঁকে মাত্র দুই লাখ টাকার জন্য হিরো আলম নির্যাতন করবেন।

বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সনাতন চক্রবর্তী বলেন, স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগে শ্বশুর সাইফুল ইসলাম ওরফে খোকন বুধবার বিকেলে হিরো আলমের বিরুদ্ধে বগুড়া সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এতে উল্লেখ করা হয়, হিরো আলম অনেক দিন ধরেই স্ত্রী সাদিয়া বেগম ওরফে সুমির কাছ থেকে দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করছেন। এর মধ্যে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর সাইফুল ইসলাম জামাইয়ের হাতে এক লাখ টাকা তুলে দেন তিনি। গত ৫ মার্চ দুপুরে হিরো আলম আরও এক লাখ টাকা দাবি করেন। এই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে স্ত্রীর ওপর রেগে যান হিরো আলম। টাকা না পেয়ে হিরো আলম চেলা কাঠের বাটাম দিয়ে সুমিকে মারধর করেন, কিল-ঘুষি মারেন। সুমির চিৎকারে এলাকায় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে আহত স্ত্রী সাদিয়াকে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
 
অন্যদিকে হিরো আলম গত মঙ্গলবার রাতে শ্বশুরসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ তুলে বগুড়া সদর থানায় পৃথক অভিযোগ করেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, গত ৫ মার্চ রাতে আটটার দিকে তাঁর স্ত্রী ও শ্বশুরের সঙ্গে ঝগড়া হয়। এর জেরে শ্বশুরপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে দলবদ্ধভাবে তাঁর সদর উপজেলার আরজি পলিবাড়ি গ্রামে নিজ বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় তাঁরা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এর প্রতিবাদ করলে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শ্বশুরপক্ষের লোকজন তাঁকে মারধর করেন। একই সঙ্গে তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন। পরে তিনি (হিরো আলম) মাটিতে পড়ে যান। এই সুযোগে শো কেজের ড্রয়ার থেকে নগদ পাঁচ লাখ টাকা, দুইটি মুঠোফোন নিয়ে যান শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এ সময় তাঁরা ঘরের বিভিন্ন আসবাবপত্রও ভাঙচুর করেন এবং হত্যারও হুমকি দেন। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে তিনি বগুড়ার মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেন।
 
আলাদা দুটি অভিযোগ পাওয়ার পর বুধবার রাতে দুই পক্ষকে সদর থানায় ডাকা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হিরো আলমের বিরুদ্ধে শ্বশুরের দায়ের করা অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। এ কারণে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বগুড়ার প্রত্যন্ত এরুলিয়া গ্রামে একসময় সিডি বিক্রি করতেন হিরো আলম। সিডি যখন চলছিল না, তখনই মাথায় আসে ক্যাবল সংযোগ ব্যবসার। কেবল সংযোগের ব্যবসার সুবাদে মিউজিক ভিডিও তৈরি শুরু করেন। ইউটিউবে প্রায় ৫০০ মিউজিক ভিডিও ছাড়ার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ গণমাধ্যমে আলোচনায় আসেন হিরো আলম। ইউটিউবে প্রকাশ করা তাঁর নিজস্ব ভিডিওগুলোও অনেক জনপ্রিয়। ভিডিওগুলোর নির্দেশনাও দেন হিরো আলম। ভিডিওগুলোর মূল চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। ইউটিউবে হিরো আলমের এসব ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তাঁর ভিডিও নিয়ে কৌতুক শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয় তাঁর ভিডিও নিয়ে হয় ট্রল।

হিরো আলম ইতিমধ্যেই 'মার ছক্কা' নামের একটি চলচ্চিত্রে নায়ক চরিত্রে অভিনয় করেছেন। বলিউড পরিচালক প্রভাত কুমারের 'বিজু দ্য হিরো' নামে চলচ্চিত্রেও অভিনয় করছেন তিনি।
২০১৬ সালে ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচিত হন তিনি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমও তাঁকে নিয়ে প্রতিবেদন ছাপা হয়।
এই নিউজ মোট   912    বার পড়া হয়েছে


নারী নির্যাতন



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.