01:14pm  Saturday, 25 May 2019 || 
   
শিরোনাম
 »  ডেভিড ক্যামেরনের পথে মেরও থেরেসা মে      »  নদী দূষণ প্রতিরোধে আমাদের স্বদিচ্ছাই যথেষ্ট"     »  ঠাকুরগাঁওয়ে কষ্টি পাথর নিয়ে আত্মগোপনে     »  গাইবান্ধায় বিপণী বিতানগুলোতে ঈদের বাজার জমে উঠতে শুরু করেছে     »  ২৩ দিন ধরে ছুটি ছাড়াই অনুপস্থিত শিবগঞ্জের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর      »  শিবগঞ্জেদু:স্থদের জন্য সোয়া ৬লাখ কেজি চাউল বরাদ্দ     »  প্রচন্ড তাপদাহ ও ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ফ্রুটব্ররার আক্রমন; ধ্বংস হচ্ছে শিবগঞ্জর আম     »  ৫৪ লাখ টাকার ‘কুজা রাজার আমবাগান’টি মাত্র ৫৫ হাজার টাকায় নিলাম     »  সোনামসজিদে বিস্ফোরক মামলার আসামি গ্রেফতার     »  শিবগঞ্জে ৪দিন ধরে কলেজ ছাত্রী নিখোঁজ   



ধাত্রীগিরি করেও পরপর তিনবার পৌর কাউন্সিলর
৮ মার্চ ২০১৯, ২৪ ফাল্গুন ১৪২৫, ৩০ জমাদিউস সানি ১৪৪০



মোসা. রহিমা খাতুন। ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভার চরনিখলা মহল্লায় তাঁর বাড়ি। নিজের বলতে কিছুই নেই। বয়স ৫৮ হলেও গত প্রায় ৪০ বছর ধরে ধাত্রীগিরি (প্রসূতি মায়েদের সন্তান প্রসবের কাজ) করে আসছেন নিজ তাগিদে, বিনাপয়সায়। পাশাপাশি পরপর তিনবার তিনি নির্বাচিত হয়েছেন পৌর কাউন্সিলর। প্রতিবারই পাঁচ-ছয়জন প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়ে, বিপুল ভোটে। এরপরও তিনি সেবা করছেন প্রসূতি মায়েদের। নিজ গ্রাম ছাড়াও আশপাশের ১০টি গ্রামের প্রসূতি মা ও শিশুদের কোনো সমস্যার খবর শুনলেই তিনি পাশে গিয়ে দাঁড়ান, বিলিয়ে দেন নিজেকে।

তিনি বড় মেয়ে তাঁকে একটি চালাঘর তুলে দিয়েছে। সেখানেই থাকেন। স্বামী মারা গেছেন ছয় বছর আগে। দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সারে। তখন স্বামীর চিকিৎসার জন্য ভিটেমাটি সবই বিক্রি করেছেন। দুই মেয়ে বকুল ও রুমার বিয়ে হয়ে গিয়েছিল আগেই। কয়েক বছর ধরে একটি বেসরকারি সংস্থায় স্বেচ্ছাসেবকের কাজও করছেন। আর এই কাজটি তিনি করছেন শুধু প্রসূতি মা ও শিশুদের জন্য।


রহিমা খাতুন বলেন: বিয়ে হয়েছিল ১৬ কি ১৭ বছর বয়সে। বছর ঘুরতেই প্রথম সন্তানের জন্ম হয়েছিল। অল্প বয়সে সন্তান হওয়ায় তখন শরীরে অনেক জটিলতা দেখা দিয়েছিল। ওই সময় ভাইয়ের ছেলের স্ত্রীও ছিল অন্তঃসত্ত্বা। তখন ছিল বর্ষাকাল, লাগাতার বৃষ্টি হচ্ছিল। ভাতিজার স্ত্রীর প্রসব বেদনা শুরু হলে পাশের গ্রাম থেকে একজন ধাত্রী ডেকে আনা হয়। কিন্তু অনেক চেষ্টা করেও ওই ধাত্রী সন্তান প্রসব করাতে পারছিলেন না। একপর্যায়ে প্রসূতি সন্তানসহ মারা যায়। এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি রহিমা। নিজেকে খুবই অপরাধী মনে হচ্ছিল। তারপর থেকে রহিমা ধাত্রীর কাজ করতে শুরু করেন। পুরনো ধাত্রীদের সাথে গিয়ে সহকারী হিসেবে কাজ করতে থাকেন। এভাবেই এখন পর্যন্ত এই কাজ করে যাচ্ছেন। রহিমা আরো বলেন, দিন নাই রাত নাই আমার কোনে বিরাম (বিশ্রাম) নাই। যেখানেই প্রসূতির প্রসব বেদনার খবর কানে আসে নিজেকে আর ঠিক রাখতে পারি না। নিজের ভেতরের একটা তাগিদেই ছুটে যাই। এ পর্যন্ত কতজন শিশু তাঁর হাত দিয়ে জন্ম নিয়েছে জানতে চাইলে তিনি হেসে বলেন, অইবো, দেড় হাজারের মতো। অহন তো পুরা উপজেলায় আমার নাম জানে। অনেকেই বাড়ি আইস্যা নিয়ে যায়। আমিও না করি না।

যেভাবে সেবা দেন: এখন তো সব বাড়িতেই তাঁর মোবাইল নম্বর আছে। রাত-বিরাতে যখনই খবর আসে ছুটে যান। অবস্থা তাঁর আওতার বাইরে চলে গেলে কোনো রিস্ক নেন না। দ্রুত নিয়ে চলে যান স্থানীয় হাসপাতাল। সেখানে না হলে জেলা সদর হাসপাতালে। সেখানেই প্রসূতি মায়ের সাথে থেকে চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যান। সুস্থ মায়ের সুস্থ সন্তান হলেই তাঁর খুশির সীমা থাকে না। সারদিনই এই গ্রামে. সেই গ্রামে খোঁজ করে বেড়াই কার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা সেই সাথে দিনক্ষণ কাছে কি-না। বাকি সময় ব্যয় করি পৌরসভায়। এই কথা উঠতেই নির্বাচনের গল্পটা বলতে থাকেন। তিনি বলেন, মানুষের সেবা দিলে নির্বাচন লাগে না। কিন্তু তারপরও এলাকার লোকজন (ওয়ার্ড নম্বর ৪, ৫ ও ৬) দাঁড়াতে বলেন। আমার তো টাকা নাই, খরচ কিভাবে করব এ ধরনের কথা বলতেই প্রসূতি মায়েদের পরিবারের লোকজন নিজেরাই টাকা যোগাড় করে মনোনয়নপত্র দাখিল করে দেন। আমি কিছুই জানি না। এরপর মানুষের কাছে গেছি আর দোয়া চাইছি। পোস্টার ছাড়াও মাইকে প্রচারের সব করছে লোকজন। এরপর দেহি আমি পাস করছি। হইয়া গেলাম কমিশনার। এই ভাবেই পরপর তিনবার। তিনি বলেন, আমি তো মাইনষেরে কিছু দিতাম পারি না। সব বেডাইন কমিশনার (পুরুষ কাউন্সিলর) লইয়া যায়, আমার নামডা রাহে কাগজে কলমে।

এখন তিনি 'সেবা আপা': এক সময় নিম্ন-মধ্যবিত্ত ঘরে লোকেরাই বেশি রহিমার সেবা নিতেন। এখন তিনি সবারই সেবা আপা। রহিমা কাছে থাকলে কারও প্রয়োজন হয় না। এখন তাঁকে সহযোগিতা করেন নার্গিস. পারুল, জমিলাসহ ৫/৬ জন নারী। এই সেবায় যোগ দিতে তাঁদের নাকি ভালো লাগে। নার্গিস জানান, এমন একটা সেবা দিচ্ছেন রহিমা আপা যা সারা জীবনেও কেউ ভুলতে পারব না। নিজেকে পরের জন্য এভাবে বিলিয়ে দিতে পারেন তা কাছ থেকে না দেখলে বিশ্বাস হবে না। এখন আমরা এই কাজ করার উৎসাহ পাচ্ছি। শিমরাইল গ্রামের মনোয়ারা, আছিয়া খাতুন জানান, একজন মায়েই বুঝেন ওই সময় একজন মানুষের সেবা কতটুকু মূল্যবান। শুধু সন্তান হওয়ার সময়ই নয়, সদ্য বিবাহিত একজন নববধূকে শুরু থেকেই তাঁর করণীয় সম্পর্কে ধারণা দিয়ে দেন এবং বলে দেন কোনো চিন্তা না করার জন্য। তিনি তো আছেনই।

সেবা আপা রহিমার কথা: জীবনটাই তো পার করলাম মা ও শিশুদের জন্য। তাঁদের কিছু হলে আমার ভালো লাগে না। মাঝে মধ্যে টানা ২/৩ দিনও জেগে থাকতে হয়। গেল সপ্তাহে পাঁচজন প্রসূতি মাকে নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে থাকতে হয়েছে। তাঁদের তিনটি ছেলে ও দুটি মেয়ে সন্তান হয়েছে। এই জন্য তিনি কোনো টাকা নেননি। নিজের ভাতার টাকা থেকে খরচ করেছেন। রহিমা আপার একটাই স্বপ্ন ছোট পরিসরে হলেও মা ও শিশুদের জন্য একটি হাসপাতাল করা। যাঁদের টাকা আছে তাঁরা যদি সাহায্য করেন তাহলেই স্বপ্নটা পূরণ হতে পারে। অন্যথায় স্বপ্ন নিয়েই হয়তো একদিন চলে যাবেন তিনি।


এই নিউজ মোট   972    বার পড়া হয়েছে


হ্যালোআড্ডা



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.