02:56pm  Monday, 22 Apr 2019 || 
   
শিরোনাম



কলমাকান্দায় পানির অভাবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পল্লীর দুর্ভোগের শিকার
৬ এপ্রিল ২০১৯, ২৩ চৈত্র ১৪২৫, ২৯ রজব ১৪৪০



শুক্রবার বিকালে সরজমিনে গেলে বিশুদ্ধ পানির অভাবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পল্লীর দুর্ভোগের শিকার পরিবারের লোকজন জানান, উপজেলার লেঙ্গুরা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী চেংগ্নী গ্রামের হতদরিদ্র পাঁচ পাড়ায় লোকজনের জন্য সরকারিভাবে টিউবওয়েল কিংবা গভীর কূপ তৈরি করে না দেওয়ায় তাদের ভাগ্যে জুটছে না বিশুদ্ধ পানি।

পাহাড়ি ছড়ার ময়লাযুক্ত ঘোলা পানি না হয় টিলার নিচে তিন চাঁক্কির তৈরি অগভীর কূপের (কুঁয়ো বা ইদারা) ময়লা পানিই সীমান্তবর্তী কলমাকান্দায় শতাধিক ক্ষুদ্র নৃৱগোষ্ঠী পরিবারের নিকট একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশুদ্ধ পানির অভাবে এমন দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার পাহাড় টিলাঘেরা পাঁচ পাড়ার শতাধিক ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী পরিবারের লোকজন গত ৪৮ বছর ধরেই।

গ্রামে স্বচ্ছল পরিবারের লোকজনের সুবিধামতো নিজ নিজ বাড়িতে কয়েকটি টিউবওয়েল থাকলেও হতদরিদ্র সুবিধাবঞ্চিত ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী লোকজনের ব্যক্তিগত সামর্থ্য না থাকায় তারা নিজেদের একটি পাড়াতেও বসাতে পারছেন না বিশুদ্ধ পানির জন্য টিউবওয়েল কিংবা একটি গভীর কূপ।

উপজেলার লেঙ্গুরা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের টিলাঘেরা চেংগ্নীর টেংরা টিলাপাড়া, বাঙ চাকুয়া, বাতানগ্রী, কনকোণা, ধলধলাসহ পাঁচ পাড়ার লোকজন তাদের পানি দুর্ভোগের কথা জানাতে গিয়ে বললেন, একসময় পাড়ার লোকজন ওপারের মেঘালয় পাহাড় থেকে নেমে আসা চেংগ্নী ছড়ার ময়লাযুক্ত পানিই কাপড় দিয়ে ছেঁকে কোনো রকম পরিষ্কার করে পান করতেন। ধীরে ধীরে স্বচ্ছল পরিবারের লোকজন সুবিধা থাকায় গ্রামের কয়েকটি বাড়িতে টিউবওয়েল বসিয়েছেন কিন্তু সেগুলোতেও আয়রনের পরিমাণ মাত্রাতিরিক্ত। অপরদিকে আর্থিক সুবিধা না থাকায় পাড়ার লোকজন নিজেরা হাজার-দু'হাজার টাকা সংগ্রহ করে বন বিভাগের টিলার নিচে তিনটি পাকা চাকায় প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর পুর্বে কোনো রকম একটি ইদারা বসিয়ে খাবার পানিসহ পরিবারের অন্যান্য প্রয়োজনে পানি সংগ্রহ করে যাচ্ছেন।

উপজেলার চেংগ্নী'র বাতানশ্রীপাড়ার ফাতেমা হাগিদক (৬৫) বললেন, এই তিন চাকার কুয়োতে বছরের কার্তিক মাস থেকে চৈত্র মাস পর্যন্ত ৬ মাস পানিই থাকে না, শুকিয়ে যায়, কারণ কুয়োটি গভীর নয়, এ কারণে বছরের বাকি ছয় মাস চেংগ্নী ছড়ার পানি সংগ্রহ করতে হয় তা-ও একসময় ছড়ার পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেলে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বিএসএফকে বলেকয়ে ছড়ার উৎসমুখ জিরো লাইন থেকেও পানি সংগ্রহ করে নিয়ে আসতে হয়।

একই গ্রামের টেংরা টিলাপাড়ার প্রয়াত জিনেং রিছিলের স্ত্রী শতবর্ষী জেমদিনী রাকসাম অনেকটা ক্ষোভ নিয়ে নিজেদের গারো (মান্দি) ভাষায় টিলার ওপর বসেই সম্প্রতি বলছিলেন, 'সতব্রিশনি বিলছি নাম্মাচিক রিংমানজাজক' যার অর্থ, ৪৮ বছরেও বিশুদ্ধ পানি পান করতে পারলাম না।

চেংগ্নী মাতৃমণ্ডলীর পাস্টার গিজিয়ন চিসিম (৬৫) বললেন, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে শুরু করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও মেম্বারসহ অনেকের কাছে ধরনা দিয়েও এ এলাকার লোকজনের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করতে একটি টিউবওয়েল কিংবা একটি গভীর কূপের ব্যবস্থা আজও করা গেল না।

উপজেলার চেংগ্নী টেংরা টিলাপাড়ার সুবিনাথ সাংমা (৫৫) বললেন, একটি তিন চাকার কুয়ো থেকে পানি সংগ্রহ করছে পাঁচ পাড়ার আবালবৃদ্ধবণিতাকে লাইন ধরতে হয়, আবার কুয়োয় পানি না থাকলে সেই সীমান্তের জিরো লাইন থেকে তৈলের টিন, কলস না হয় বালতি দিয়ে পানি ভরে ঘাড়ে বয়ে আনতে হয়। তিনি আরো বলেন, কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি উদ্যোগী হয়ে একটি টিউবওয়েল বা গভীর নলকূপ বসিয়ে দিতেন এ পাঁচ পাড়ার লোকজনের বিশুদ্ধ পানির দুর্ভোগ দূর হয়ে যেত।

উপজেলার লেঙ্গুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভূঁইয়ার নিকট এ বিষয়ে জানতে চাইলে চেংগ্নীর ওই এলাকায় পানির দুর্ভোগের বিষয়টি পরিষদ অবহিত আছেন স্বীকার করে বললেন, আসলে ওখানে প্রায় হাজার ফুট গভীর নলকূপ বসাতে হবে, যা অত্যন্ত ব্যয়বহুল, মাটির নিচ থেকে পাথর সরিয়ে যদিও বিকল্প হিসাবে একটি গভীর কুয়ো বসানো যায় তাতেও ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা ব্যায় হবে। তিনি আরো বলেন, সরাসরি উপজেলা প্রশাসন উদ্যোগ নিলেই কেবল দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই এলাকায় পানির সমস্যা নিরসন করা সম্ভব হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেনের নিকট এ বিষয়ে স্ববিস্তারে জানিয়ে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এটা আমার জানা ছিল না। এ বিষয়টি আমাকে অবহিত করা মাত্রই আমি খোঁজ-খবর নিয়েছি। এলাকাটি সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকা। মাটির নিচে পাথর থাকায় এখানে অগভীর নলকূপ বসানো যায় না এমনকি গভীর নলকূপ বসানোও খুব কষ্টসাধ্য ব্যাপার। ওই এলাকার জন্য কেবলমাত্র জনস্বাস্থ্য প্রকেৌশল অধিদপ্তর থেকে যে রিংওয়েল বরাদ্দ দেওয়া হয় তা প্রযোজ্য হবে। আমরা অতিদ্রুত সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

শিবগঞ্জে রাস্তার বেহাল দশা, প্রতিকার চেয়ে এমপির নিকট আবেদন


এই নিউজ মোট   5292    বার পড়া হয়েছে


জনদূর্ভোগ



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.