02:41pm  Monday, 22 Apr 2019 || 
   
শিরোনাম



চামড়া ও পাটের রপ্তানি ক্রমাগত কমছে
৮ এপ্রিল ২০১৯, ২৫ চৈত্র ১৪২৫, ১ শাবান ১৪৪০



চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাস শেষে পণ্য রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি কমে ১২ দশমিক ৫৭ শতাংশে নেমেছে। অথচ ৬ মাস শেষে প্রবৃদ্ধি ছিল ১৫ দশমিক ৬৫ শতাংশ। তৈরি পোশাক ও কৃষিজাত পণ্য রপ্তানিতে ভালো প্রবৃদ্ধি থাকলেও চামড়া, পাট ও হোম টেক্সটাইল খাত ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না। এ তিন বড় খাতের রপ্তানি ধারাবাহিকভাবে কমছে।

সব মিলিয়ে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসে ৩ হাজার ৯০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। গত অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে রপ্তানি হয়েছিল ২ হাজার ৭৪৫ কোটি ডলারের পণ্য।

চলতি অর্থবছর ৩ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি আয়ের লক্ষ্য ঠিক করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। সে লক্ষ্য অর্জনে শেষ ৩ মাসে ৮১০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করতে হবে। গত ৯ মাসের ধারা বজায় থাকলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পণ্য রপ্তানি হবে। এখন পর্যন্ত প্রতি মাসে গড়ে ৩০০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। গত মাস, অর্থাৎ মার্চে ৩৩৪ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা গত বছরের মার্চের চেয়ে ৯ দশমিক ৩৫ শতাংশ বেশি।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) গতকাল রোববার পণ্য রপ্তানি আয়ের হালনাগাদ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যায়, শীর্ষ সাত পণ্যের মধ্যে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য এবং হোম টেক্সটাইল রপ্তানি কমে গেছে। বিপরীতে কৃষিজাত পণ্যে সর্বোচ্চ ৫৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। শীর্ষ রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকের রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ।

ইপিবির তথ্যানুযায়ী চলতি অর্থবছর ৩ হাজার ২৬৮ কোটি ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ৯ মাসে ২ হাজার ৫৯৫ কোটি ডলারের পোশাক রপ্তানি হয়েছে। তার মধ্যে নিট পোশাক রপ্তানিতে ১ হাজার ২৮০ এবং ওভেন পোশাক রপ্তানিতে ১ হাজার ৩১৫ কোটি ডলার আয় হয়েছে। নিট পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৩ দশমিক ০৭ এবং ওভেন পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১৪ দশমিক ২২ শতাংশ।

পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহসভাপতি মোহাম্মদ নাছির বলেন, পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি যা হচ্ছে, সেটি সন্তোষজনক। তবে প্রতিনিয়ত পোশাকের দাম কমছে। নতুন মজুরিকাঠামো বাস্তবায়নের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। গত সপ্তাহেও চারটি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য তিনটি কাজ করতে হবে। এক. উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে। দুই. পোশাকের দাম বাড়াতে ক্রেতাদের উদ্যোগী হতে হবে। তিন. সরকারকে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিতে হবে।

এদিকে চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে ৭৭ কোটি ডলারের চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৯ শতাংশ কম। বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএলএলএফইএ) চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, চামড়ার আন্তর্জাতিক বাজারে এখন মন্দাভাব চলছে। মানুষ ব্যয় কমাতে চামড়ার বিকল্প পণ্যের দিকে ঝুঁকছে। এ ছাড়া চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্যযুদ্ধের কারণেও ক্রয়াদেশ কমে গেছে। বাংলাদেশ থেকে কোরিয়ায় বিপুল পরিমাণ চামড়া রপ্তানি হলেও সেটি বর্তমানে বন্ধ। তিনি বলেন, ‘সাভারের চামড়াশিল্প নগরীর কর্মপরিবেশ সন্তোষজনক না হওয়ায় আমরা ইউরোপভিত্তিক জোট লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সদস্য হতে পারছি না। এ জন্য রপ্তানিকারকেরা চামড়ার বাড়তি মূল্যও পাচ্ছে না। সব মিলিয়ে রপ্তানি কমছে।’

এদিকে চলতি অর্থবছরে প্রথম ৯ মাসে ৬২ কোটি ডলারের পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এই আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ২৩ দশমিক ২৩ শতাংশ কম। এ ছাড়া ৬৪ কোটি ডলারের হোম টেক্সটাইল রপ্তানি হয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ কম। অন্যদিকে ৭২ কোটি ডলারের কৃষিজাত পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫৩ শতাংশ।


এই নিউজ মোট   624    বার পড়া হয়েছে


অর্থনিতী



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.