02:47am  Wednesday, 21 Aug 2019 || 
   
শিরোনাম
 »  ২০ আগষ্ট; আজকের দিনে জন্ম-মৃত্যুসহ যত ঘটনা      »  শিবগঞ্জে আইন-শৃংখলা কমিটির মাসিক সভা     »  কাশ্মীরি জনগনের প্রতি সংহতি জানিয়ে গাইবান্ধায় সমাবেশ     »  গোবিন্দগঞ্জে শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা     »  দু’টি কাপ জিতে নিলেন জরমনদী স্কুল বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট      »  গাইবান্ধার পান, সুপারী, ঝিনুকের চুন উৎপাদনকারি পরিবারগুলো এখন বিপাকে     »  গাইবান্ধা জেলা আইন শৃংখলা কমিটি সভা অনুষ্ঠিত     »  গোবিন্দগঞ্জে দুটি মাদরাসা ও একটি বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন     »  ঝালকাঠি জেলা পুলিশ কর্মকর্তার "কমিউনিটি পুলিশিং ও স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং অফিসার নির্বাচন" শ্রেষ্ঠ পুরস্কার অর্জন     »  ফাহমিদা মায়ের জন্য গান গাইলেন   



ভালো থাকুক ''পাগলি আর পাগল", আর টিকে থাকুক তাদের ভালোবাসা।
১৭ এপ্রিল ২০১৯, ৪ বৈশাখ ১৪২৬, ১০ শাবান ১৪৪০



প্রবাস প্রতিবেদক: ছেলেটাকে খুব ভাল লাগে আহনির। আর ছেলেটাও কেমন অদ্ভুত। রোজ বিকেলে ছাদে উঠে।আমাদের সবার কাছে এই ছেলেটা অদ্ভুত। কেননা ছেলে মানুষ আবার বিকেলবেলা মেয়ে মানুষের মত ছাদে বা ঘরে থাকবে কেন? সে বের হবে। বন্ধুদের সাথে খেলবে। তা না। ছাদে উঠে উদাস মনে আকাশ দ্যাখে! মনে হয় সে এক দার্শনিক।কিন্তু আহনির খুব ভাল লাগে এই ব্যাপারটাই যে ছেলেটা বিকেল বেলাও বের হয় না বাইরে। তাইতো ছেলেটা যখন ছাদে উঠে হাঁটা হাঁটি করে তখন আহনি চুপি চুপি বারান্দায় বসে ছেলেটার দিকে তাকিয়ে থাকে। আর ছেলেটাকে নিয়ে কত কি ভাবে! এই যেমন আচ্ছা ছেলেটা কি তাকে দেখতে পাচ্ছে? কিংবা ছেলেটাও কি তার মত আহনিকে নিয়ে ভাবে। আহনির জন্যই হয়ত রোজ ছাদে উঠে। কিন্তু আহনি শুধু ভেবেই চলে। তার ভাবনার প্রতিফলন সে দেখতেই পায় না। ধীরে ধীরে তার ভাবনাতে কত প্রশ্নের আবির্ভাব ঘটে কিন্তু উত্তর যেন কেউ দেয় না। আহনি প্রতিদিনের মত আজকেও তাকিয়ে আছে ওই ছাদটার দিকে আর ছেলেটাও আনমনে হাঁটা-হাঁটি করছে। আহনির খুব ইচ্ছে হল আজকে ছাদে যাওয়ার।আহনি ছাদে যায় না খুব একটা। এর কারণ অবশ্য ওই ছেলেটাই। কেননা ছাদে উঠলেই সরাসরি দেখা যায় সবকিছু। আহনি কেন জানি তাই ছাদে উঠে না। কিন্তু আজ তার কেন জানি ছাদে যেতে ইচ্ছা করছে। ছেলেটার সামনে যেতে কেন জানি ইচ্ছে করছে। সে ছেলেটাকে মনে হয় ভালোবেসে ফেলেছে।না হয় কেউ কি কাউকে নিয়ে এত ভাবে কিংবা রোজ বিকেলে বারান্দায় বসে থাকে তাকে দেখার প্রতীক্ষায়? ভালোবাসলেই শুধু এমনটা করা যায়।ছেলেটাকে দেখা দেওয়ার জন্য আহনি আজ ছাদে গেল। কিন্তু ছাদে গিয়ে তার কেন জানি লজ্জা লাগছে। সে মাথা তুলে ওই ছাদ বা ছেলেটার দিকে তাকাতে পারছে না। কিছুক্ষণ পর সে একটু একটু করে তার দৃষ্টি ছাদের মেঝে থেকে তুলে ওই ছাদটার দিকে তাকালো। কিন্তু একি? ছেলেটা যে ছাদে নেই। আহনির কেমন জানি কষ্ট লাগল। সে তার ভালোবাসার মানুষটাকে দেখবে বলে ছাদে এলো আর সে মানুষটা তার ভালোবাসা না বুঝেই চলে গেল? কেন জানি কান্না পেয়ে গেল তার। সে দৌড়ে নিচে নেমে এলো। বারান্দায় আবার গিয়ে বসল। ও মা, বারান্দায় গিয়ে আহনি দ্যাখে ছেলেটা আবার ছাদে ঘুরছে। আহনি ভেবে পেল না ছেলেটা কেন চলে গেল? আহনিকে দেখেই না অন্য কারণে। তার আবার ছাদে যাইতে ইচ্ছা হল। কিন্তু আর গেল না এই ভেবে যে যদি আবার চলে যায়! এভাবেই আহনির দিন কাটত। সে তার ভালোবাসার কথা কাউকে বা ছেলেটাকে বলতে পারে না। শুধু নিরবেই রোজ বিকেলে সে তার ভালোবাসার মানুষটার দিকে তাকিয়ে থাকে। আর ভাবে ছেলেটার ভাবনাতেও কি সে আছে? নাকি বারান্দাটা ওদের ছাদ থেকে দেখাই যায় না! প্রতিটা বিকালের মত আজও আহনি তাকাই আছে ছাদটার দিকে। কিন্তু ছেলেটা আজ আর কেন জানি আসছে না। আহনির মনটা কেন জানি ছটফট করছে। ভালোবাসার মানুষটাকে হারিয়ে ফেলার ভয় করছে। তার খুব ছুটে যেতে ইচ্ছে হল ওই বাড়িটায় যে বাড়িটার ছাদে ছেলেটা রোজ উঠে। কিন্তু সে গেল না। চুপচাপ বসে থেকেই ছেলেটার জন্য অপেক্ষা করতে লাগল আর ভাবতে থাকল এই বুঝি ছেলেটা ছাদে আসছে! কিন্তু বেশ ক'দিন হল ছেলেটা আর আসে না। আহনির তাই অনেক মন খারাপ। সে মন খারাপ করে বসে আছে। তার আজ খুব নদীর পাড়ে যেতে ইচ্ছে করছে।মনে হচ্ছে নদীর ঢেউ গুলা বুঝি তার এক নিমিষেই মনটা ভাল করে দিবে! সে নদীর পাড়ে ছুটে গেল। তীরে একা একা বসে আনমনে নদীর ঢেউ-খেলানো পানির দিকে তাকিয়ে আছে। খুব কান্না পাচ্ছে তার। ছেলেটা কি সত্যিই হারিয়ে গেল। সে আর কি তার দেখা পাবে না! হঠাত মনে হল আহনির পিছনে কেউ একজন দাঁড়িয়ে আছে। আহনি একটু ভয় পেয়ে দাঁড়িয়ে গেল। কিন্তু একি! এ তো সেই ছেলেটা তার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।আহনি তার ছলছল চোখে তাকিয়ে আছে ছেলেটার দিকে। আর ছেলেটা কি যেন বলেই চলেছে।আহনি দেখতে পাচ্ছে ছেলেটার ওষ্ঠদ্বয় নড়েই চলেছে। আচ্ছা কি বলছে ছেলেটা? ছেলেটা কি তাকে বকা দিচ্ছে না ভালোবাসার কথা বলছে? আহনি কিছুই বুঝতে পারছে না কিন্তু কি সুন্দর ছেলেটা দেখতে! কি সুন্দর করে তার ঠোট নাড়াচ্ছে! নিশ্চয় খুব সুন্দর করেই কথা বলছে হয়ত ছেলেটা....... আহনি ভাবতে থাকে। ছেলেটা একনাগাড়ে অনেক কথা বলে থেমে গেল কিন্তু আহনি চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছে কথা না বলে এটা দেখে ছেলেটা কেন জানি রেগে গেল। আহনি বুঝতে পারল ব্যাপারটা। সে ততক্ষণাৎ তার হাত পা নাড়িয়ে বুজাতে চাইল সে কথা বলতে পারে না। কিন্তু ছেলেটা কি বুঝল না! হঠাত উল্টো মুখে ঘুরে হনহন করে হাঁটা দিল। আহনির খুব কষ্ট হল ছেলেটার চলে যাওয়া দেখে। তাই সে মুখটা আবার নদীর দিকে ঘুরিয়ে নিল।সে মনকে বুঝাতে চাইল সে বোবা। চাইলেই সে সবকিছু করতে পারে না। কাউকে ভালোবাসার অধিকার তার নেই।সে নিজেকেই নিজের বোবা মুখে বুঝাতে চেষ্টা করতে থাকে কিন্তু কিছুতেই সে যেন বুঝাতে পারছে না। অবিরল ধারায় তার চোখ থেকে যেন জল গড়িয়ে পড়ছে।আকাশটা লালচে হয়ে গেছে। সূর্যিটা অনেক আগেই বিদায় নিয়েছে আজ। একটুপর এ শহরটা অন্ধকারে ডুব দিবে। তাই সে বাড়ির দিকে হাঁটা শুরু করে।কিন্তু সে যেন সামনে এগুতে পারছে না। মনে হল তার হাতটা কেউ ধরে রেখেছে, পিছন তাকিয়ে দ্যাখে সেই ছেলেটা তার হাতদুটা ছেলেটার দুহাত দিয়ে ধরে রেখেছে। আহনিকে ছেলেটা তার কাছে টেনে নিল। আহনি বুঝল ছেলেটাও তাকে খুব ভালোবাসে। আর এই লালচে গোধূলির আকাশটা তার সাক্ষী।ছেলেটা একটা কাগজ তার দিকে এগিয়ে দিল। আহনি সেটা হাত বাড়িয়ে নিয়ে যেই পড়তে যাবে ছেলেটা ইশারাই মানা করে দিল আর বুঝিয়ে দিল সে যেন বাড়ি গিয়ে কাগজটা পড়ে। আর এখন তারা দাঁড়িয়ে শান্ত নদীটার জল দেখবে। আহনি ঘরে ফিরে এলো। তার যেন আজ আনন্দের কোনও শেষ নেই। আজই যেন তার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ দিন। সে আনন্দঘন মুহুর্তে কাগজটার ভাজ খুলে পড়তে থাকে...........
"আমার প্রিয় পাগলি,
জানি তুই খুব ভালো, আর খুব বেশি ভালোবাসিস আমাকে। তোর ভালোবাসাটা আমার জন্য অনেক। আমিও তোকে খুব ভালোবাসি, হয়ত তোর মত এতো বেশি নাও হতে পারে কিন্তু দেখিস তোকে কখনো কষ্ট দিব না । তোকে খুব ভালোবাসব আর খুব ভালো রাখব। তুই যে আমার এক মাত্র পাগলি। আমি কিন্তু তোকে অনেক আগে থেকেই ভালোবাসি ঠিক তুই যেমন বাসিস। তুই চুপি চুপি আমায় বারান্দা থেকে দেখতি আর আমি ছাদ থেকে তোকে দেখতাম।তুই কি ভাবিস,খালি তুই একাই ভালোবাসতে পারিস? হুহ, আমিও তোকে খুব ভালোবাসি। আমি তোর জন্যেই রোজ ছাদে উঠি।শোন আমি এই কয়দিন আর ছাদে উঠতে পারব না। কারণ আমার সেমিস্টার এক্সাম চলছে বুঝলি পাগলি। কোনও টেনশন করবি না।এক্সাম শেষ হলেই আবার আমরা চুপি চুপি আমাদের দেখা শুরু করব।তুই বারান্দা থেকে আমায় দেখবি আর আমি ছাদ থেকে তোকে দেখব! হি, হি, হি ,হি!
ইতি

''পাগলির পাগল।"

চিঠিটা পড়ে খুব হাসি পায় আহনির ।আহনি ভাবতেও পারে নি কেউ তাকে এত সত্যিই পাগলের মত ভালোবাসবে।আহনির ও সে রাতে তার পাগলটার জন্য চিঠি লিখতে শুরু করে। হয়ত তার মনের খেয়ালে থাকা ভালোবাসার মিষ্টি কথাগুলা কাগজে কালো কালিতে ফুটিয়ে তুলবে। আর এভাবেই হয়ত কাগজ কলমের অবদানে তাদের মধুর ভালোবাসাটা অনেক দূর এগিয়ে যাবে।

ভালো থাকুক তারা ..............। আর টিকে থাকুক তাদের ভালোবাসা।

মোস্তফা মঈনউদ্দিন, দাম্মাম, সৌদি আরব


এই নিউজ মোট   1068    বার পড়া হয়েছে


মনোকথা



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.