02:42am  Wednesday, 21 Aug 2019 || 
   
শিরোনাম
 »  ২০ আগষ্ট; আজকের দিনে জন্ম-মৃত্যুসহ যত ঘটনা      »  শিবগঞ্জে আইন-শৃংখলা কমিটির মাসিক সভা     »  কাশ্মীরি জনগনের প্রতি সংহতি জানিয়ে গাইবান্ধায় সমাবেশ     »  গোবিন্দগঞ্জে শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা     »  দু’টি কাপ জিতে নিলেন জরমনদী স্কুল বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট      »  গাইবান্ধার পান, সুপারী, ঝিনুকের চুন উৎপাদনকারি পরিবারগুলো এখন বিপাকে     »  গাইবান্ধা জেলা আইন শৃংখলা কমিটি সভা অনুষ্ঠিত     »  গোবিন্দগঞ্জে দুটি মাদরাসা ও একটি বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন     »  ঝালকাঠি জেলা পুলিশ কর্মকর্তার "কমিউনিটি পুলিশিং ও স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং অফিসার নির্বাচন" শ্রেষ্ঠ পুরস্কার অর্জন     »  ফাহমিদা মায়ের জন্য গান গাইলেন   



আজ নিশির স্বপ্ন পূরনের দিন: মোস্তফা মঈনউদ্দিন
১৯ এপ্রিল ২০১৯, ৬ বৈশাখ ১৪২৬, ১২ শাবান ১৪৪০



প্রবাস প্রতিবেদক: হসপিটাল থেকে ফিরে ঘরের তালা খুলে বাসায় ঢুকল আশিক। নিজের ঘরে ঢুকেই টেবিলে একটা চিরকুট দেখতে পায়, সে চিরকুট-টা পেয়ে অবাক হয় নি, চিরকুটে লিখা ছিল ''নিশি রান্না করে রেখে গেছে'', তাই খেয়ে নিজের কাজ শুরু করল আশিক।

হঠাত্ কলমের কালি শেষ হয়ে গেছে। অনেক খুঁজেও কলম না পেয়ে আজ প্রথম নিশির ঘরে ঢুকেছে সে। তাদের বিয়ে হয়েছে এক বছর হল। কিন্তু আশিক এই মেয়েটাকে নিজের ঘরে থাকতে দেয় নি। নিশির টেবিলে কিছু বই ও দুটি ডাইরি দেখতে পেল। খুব ইচ্ছে করছে পড়তে। একটা ডাইরি নিয়ে সে নিজের ঘরে চলে গেল। কোন পৃষ্ঠা পড়বে বুঝতে পারছে না আশিক। তার পরও কোন এক পাতা থেকে শুরু করল আশিক, ও খানে লিখা ছিল, ''আজ ভীষণ ঝড় হচ্ছে......., আকাশে বিজলী চমকাচ্ছে......., আমার ভীষণ ভয় করছে.......। আগে ভয় লাগলে মায়ের কাছে চলে যেতাম। আর এখন ভয় লাগলে চুপ করে বসে থাকতে হয়। বিয়ের আগে ভাবতাম ভয় পেলে আমার বরের বুকে লুকিয়ে থাকবো। আমি এতোই অভাগী যে তার ঘরে ঢুকতেও অনুমতি লাগে।

পরের পাতা উল্টাতেই অবাক হল আশিক। একটা ছবি , তার সাথে নিশির বিয়ের রেজিস্ট্রেশন এর সেই ছবিটা। ছবিটা সরিয়ে আশিক পড়তে শুরু করল। আজ আমাদের বিয়ের এক বছর হল। ঠিক এক বছর আগে বাবা মা তোমার হাতে আমাকে তুলে দিয়েছিল। আর তোমার মায়ের সাজানো এই ঘরে তুমি আমাকে নিয়ে এলে তোমার মায়ের ইচ্ছায়। বাসর নিয়ে কত স্বপ্ন থাকে সবার মনে। আমি বলতে পারবোনা আমাদের বাসর ঘরটা কীভাবে সাজানো হয়েছিল। তুমি আমাকে অনুমতি দাও নি ঢোকার। সেইদিন থেকেই তোমার পাশের ঘরেই আমি আছি। খুব রাগ হচ্ছে আজ তোমার প্রেমিকার উপর। সে তোমাকে ছেড়ে অন্য একজনকে বিয়ে করেছে। আর তুমি আমাকে সহ্য করতে পারছো না। কি অদ্ভুত ব্যাপার। ওই মেয়েটার জন্য তুমি আমাকে শাস্তি দিচ্ছ! আমার স্বপ্নগুলোকে তুমি নষ্ট করে দিলে ''.............!

নিজেকে ভীষণ অপরাধী মনে হচ্ছে আশিকের। একটু ভেবেই আবার পড়তে শুরু করল সে। ও খানে লিখা ছিল, '' রাত ১২ টা বাজে.......। আজ আমার জন্মদিন.......। বরের পাশে আছি ভেবে এখনো কেউ কল করে নি.......। কাল ক্যাম্পাসে গেলেই সবাই খাওয়াতে বলবে.......। কিন্তু আমি তো আশিকের কাছে টাকা চাইতে পারব না.......। যাক-সমস্যা নাই, বাবার কাছে চাইবো। সকালে পায়েস রাঁধবো আশিকের জন্য.......। তুমি আমাকে ভালবাসো না, কিন্তু আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি ''.......! ডাইরি পড়তে পড়তে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে নিজেই জানে না আশিক।

সকাল হয়েছে, অনেকক্ষন ধরে কলিংবেল টিপছে নিশি। আশিকের ঘুম ভাংলো। সে দরজা খুলে দিল। শুভ সকাল বলল নিশি। ঘুম ঘুম গলায় শুভ সকাল বলে আশিক। এই প্রথম আশিকের ঘুম ঘুম গলা শুনল নিশি। হোচট খেয়ে প্রায় পড়েই যাচ্ছিল নিশি, আশিক তাকে ধরে ফেলল। এই প্রথম নিশির চোখে চোখ রাখল আশিক। “মেয়ে তোমার চোখে এত মায়া কেন?”, আমি যে নিজেকে হারিয়ে ফেলছি.......। নিজের অজান্তেই কথাগুলো বলে ফেলে আশিক। নিশি লজ্জায় লাল হয়ে গেছে। হঠাৎ আশিক তার পায়ে কোনো তরলের অস্তিত্ব অনুভব করে। নিজের নয় নিশির পায়ের দিকে তাকাল আশিক, বলল- একি! তোমার পা কেটে গেছে?। নিশি কে কোলে তুলে নেয় আশিক। তাকে নিজের ঘরে নিয়ে গিয়ে বিছানায় শুইয়ে দেয়। পায়ে ব্যান্ডেজ করে দেয়। নিশি প্রচন্ড অবাক হয়ে মনে মনে বলে, কী হচ্ছে এসব, তবে মন্দ নয়।

সারারাত জেগে নিশির পাশে ডিউটি করার পর সে ভীষণ ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল। আশিক ফ্রেশ হয়ে এসে দেখে নিশি ঘুমিয়ে পড়েছে। এখন তাকে দেখতে আরও মায়াবী লাগছে। আশিক অপলকে তাকিয়েই আছে। মনে মনে বলে, এই মেয়েটাকে আমি আর কষ্ট দেব না। আজ থেকে ও এই ঘরে আমার পাশেই থাকবে। আশিক হোটেল থেকে খাবার আনিয়েছে। খাবার খেয়ে নিশির পাশে এসে বসলেই চোখ মেলে তাকায় নিশি। আশিক জানতে চায় “কেমন আছো এখন”? নিশি জানায় ''আলহামদুলিল্লাহ'' তোমাকে অনেক ধন্যবাদ। আশিক জানায় ‘এটা তো আমার দায়িত্ব ছিল’। আজ থেকে তুমি আমার ঘরেই থাকবে। কথাগুলো বলেই ঘর থেকে বেরিয়ে যায় আশিক..........। আশিক ঘরে ফিরে আসার সময় অনেক গুলো ফুল নিয়ে এসেছে নিজ হাতে বাসর ঘরটা খুব সুন্দর করে সাজিয়েছে, নিশির স্বপ্ন আজ পুরন হবে, নিশির চোখে আনন্দ অশ্রু...........!!!!!!!! “আজ নিশির স্বপ্ন পূরনের দিন”

মোস্তফা মঈনউদ্দিন, দাম্মাম, সৌদি আরব

ভালো থাকুক ''পাগলি আর পাগল", আর টিকে থাকুক তাদের ভালোবাসা।


এই নিউজ মোট   1188    বার পড়া হয়েছে


মনোকথা



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.