02:30am  Wednesday, 21 Aug 2019 || 
   
শিরোনাম
 »  ২০ আগষ্ট; আজকের দিনে জন্ম-মৃত্যুসহ যত ঘটনা      »  শিবগঞ্জে আইন-শৃংখলা কমিটির মাসিক সভা     »  কাশ্মীরি জনগনের প্রতি সংহতি জানিয়ে গাইবান্ধায় সমাবেশ     »  গোবিন্দগঞ্জে শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা     »  দু’টি কাপ জিতে নিলেন জরমনদী স্কুল বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট      »  গাইবান্ধার পান, সুপারী, ঝিনুকের চুন উৎপাদনকারি পরিবারগুলো এখন বিপাকে     »  গাইবান্ধা জেলা আইন শৃংখলা কমিটি সভা অনুষ্ঠিত     »  গোবিন্দগঞ্জে দুটি মাদরাসা ও একটি বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন     »  ঝালকাঠি জেলা পুলিশ কর্মকর্তার "কমিউনিটি পুলিশিং ও স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং অফিসার নির্বাচন" শ্রেষ্ঠ পুরস্কার অর্জন     »  ফাহমিদা মায়ের জন্য গান গাইলেন   



কুরআন দিবসে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শিবিরের আলোচনা সভা ও কুরআন বিতরণ
১১ মে ২০১৯, ২৮ বৈশাখ ১৪২৬, ৫ রমজান ১৪৪০



ঐতহিাসকি কুরআন দিবস উপলক্ষ্যে ইসলামী ছাত্রশবিরি চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর ও জেলা শাখা মেধাবিদের মাঝে পবিত্র কুরআন বিতরণ ও আলোচনা সভা করেন। আজ শনিবার সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর ছাত্রশিবির সভাপতি সানিম সাজদান ও জেলা সভাপতি সুলতান মাহমুদরে সভাপতিত্বে পৃথক পৃথক স্থানে  কুরআন বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠানটি হয়। কুরআন বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় দাওয়া সম্পাদক মোঃ রাশিদুল ইসলাম। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন স্থারের নেতৃবৃন্দ।
নেতৃবৃন্দ উক্ত ঘটনার জন্য দায়ী ম্যাজিস্ট্রেট ওয়াহেদুজ্জামান মোল্লাসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানটি কুরআন বিতরণের পর কুরআন দিবসে শহীদ ভাইদের কবর জিয়ারত করেন।

উল্লেখ্য, ঐতিহাসিক কুরআন দিবস। ১৯৮৫ সালের এই দিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ঈদগাহ ময়দানে সংঘটিত হয় এক পৈশাচিক, নারকীয় হত্যাকান্ড। ১৯৮৫ সালের ১২ এপ্রিল ভারতের দুইজন উগ্র সাম্প্রদায়িকতাবাদী নাগরিক পদ্মপল চোপরা ও শীতল সিং কোরআনের সকল আরবি কপি ও অনুবাদ বাজেয়াপ্ত করার জন্য কলকাতা হাইকোর্টে একটি রীট আবেদন করে। রীটে বলা হয়, কুরআনে এমন কিছু আয়াত আছে যেখানে কাফির ও মুশরিকদের হত্যা এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রেরণা দেয়া হয়েছে, তাই এই গ্রন্থ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার জন্ম দিতে পারে। মিসেস পদ্মা খাস্তগীর এই মামলা গ্রহণ করে এ বিষয়ে ৩ সপ্তাহের মধ্যে এফিডেভিট প্রদানের জন্য রাজ্য সরকারের প্রতি নির্দেশ দেয়।

এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে সারাবিশ্বের প্রতিবাদের ঝড় উঠে। ১০ মে জুমার নামাজ শেষে বায়তুল মোকাররম মসজিদ থেকে হাজার হাজার ইসলামী ছাত্র-জনতার মিছিল ও সমাবেশে মিলিত হলে লাঠিচার্জ করে পুলিশ। পরের দিন ১১ মে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত সমাবেশে ১৪৪ ধারা জারি করে পুলিশ। ইসলামী জনতা শুধুমাত্র দোয়া করার অনুমতি চাইলে তা না দিয়ে জনতার উপর গুলী বর্ষণ করে পুলিশ। এতে স্কুল ছাত্র, কৃষক, রিক্সাওয়ালা ও রেল শ্রমিকসহ গুলিবিদ্ধ হয়ে ৮ জন শাহাদাত বরণ করেন। কুরআনকে বাজেয়াপ্ত করার মামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে কলকাতাসহ সারাবিশ্বে প্রতিবাদের ঝড় উঠে। সারাদেশের মত চাঁপাইনবাবগঞ্জ ঈদগাহ ময়দানে আয়োজন করা হয় এক প্রতিবাদ সমাবেশ।

ঘটনার দিন বেলা ১১ টার সময় সমাবেশের আহবায়ক মাওলানা হোসাইন আহমদকে এসপি অফিসে ডেকে সমাবেশ বন্ধ করার জন্য চাপ দেয়া হয়। কিন্তু ইসলামী জনতা দলে দলে আসতে থাকে ঈদগাহ ময়দানের দিকে। উপায় না দেখে ঈদগাহ ময়দানে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। শুধুমাত্র দোয়া করে জনতাকে শান্ত করে চলে যাবো নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সেই আবেদনও শুনেনি ম্যাজিষ্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামান মোল্লা। এসময় ওয়াহিদুজ্জামান মোল্লা সেই সুযোগ দেয়া হবে না বলে গালিগালাজ করতে থাকে, ব্যাটা মৌলবাদীদের দেখে নেবো বলেও প্রকাশ্য হুমকি দেয়।

এসময় ইসলামী জনতা বিক্ষোভে ফেটে পড়লে ম্যাজিষ্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামান মোল্লার নির্দেশে এলোপাতাড়ি গুলী বর্ষণ শুরু করে পুলিশ। পুলিশের গুলীতে প্রথমেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ে ১০ম শ্রেণীর ছাত্র শিবির কর্মী আব্দুল মতিন। হাসপাতালে নেয়ার পর কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। এ ঘটনায় শীষ মোহাম্মদ, রশিদুল হক, ৮ম শ্রেণীর ছাত্র সেলিম, সাহাবুদ্দীন, কৃষক আলতাফুর রহমান সবুর, রিক্সা চালক মোক্তার হোসেন ও রেল শ্রমিক নজরুল ইসলাম শহীদ হন। আহত হয় অর্ধ শতাধিক মানুষ।

কুরআনের অবমাননাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা যেখানে সকল মুসলমানের কর্তব্য সেখানে ইসলামী জনতার উপর গুলী বর্ষণ করে ইতিহাসের এক কালো অধ্যায় রচনা করেছিল বাংলাদেশের কিছু মুসলমান নামধারী পুলিশ। বর্বরোচিত হত্যাকান্ডের নিদের্শদাতা ম্যাজিষ্ট্রেট ওয়াহিদুজ্জামান মোল্লা এখন সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা। বর্বরোচিত এই হত্যাকান্ডের বিচারতো হয়ইনি, বরং উল্টো হয়রানি করা হয়েছিল মুসলিম জনতাকে। ৩৩ বছর পার হলেও আজ এ ঘটনার কোন বিচার হয়নি।

শহীদের রক্তে যারা হলি খেলে আনন্দে আত্মহারা হয়েছিল তাদের বিচার যদি এই দুনিয়ার আদালতে না হয় তদের বিচার আখেরাতের আদালতে হবে এই ভেবে নিজেদের শান্তনা খুঁজে শহীদের স্বজনেরা। এ দিনটিকে স্মরণ করতে ইসলামী ছাত্রশিবির প্রতি বছর পালন করে ‘কোরআন দিবস' হিসেবে।


প্রেস বিজ্ঞপ্তি

এই নিউজ মোট   624    বার পড়া হয়েছে


ধর্ম



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.