07:51am  Friday, 18 Oct 2019 || 
   
শিরোনাম



১০৩ টাকায় কনস্টেবলের চাকরির পেলেন ইভারা
০৮ জুলাই ২০১৯, ২৪ আষাঢ় ১৪২৬, ০৪ জিলকদ ১৪৪০



রাজশাহী নগরীর রাজপাড়া থানার চন্ডীপুর এলাকার ইভা খাতুন। একাদশ শ্রেণিতে পড়ছেন রাজশাহীর সরকারি সিটি কলেজে।  কারো বাবা নেই, কারো মা নেই। কারো বাবা দিন মজুর- কারো ভ্যান চালক, আবার কারো মা অন্যর বাড়িতে কাজ করে সন্তানের পড়া-লেখার খরচ জুগিয়েছেন। এমন হতদরিদ্র পরিবারসহ বিভিন্ন পরিবার থেকে রাজশাহীতে ৮৮ তরুণ-তরুণী মাত্র ১০৩ টাকা খরচ করে নিজের মেধা আর যোগ্যতাতেই পেয়েছেন পুলিশ কনস্টেবলের চাকরি।

বিনা ঘুষে চাকরি পেয়ে কর্মজীবনে তারাও ঘুষ-দুর্নীতি মুক্ত থেকে মানুষের সেবা দিতে চান। পুলিশ বাহিনীর হারানো সুনাম ফিরিয়ে আনতে চান এই তরুণ-তরুণীরা।

জানতে চাইলে কান্না জড়িত কন্ঠে ইভা বলেন, তিনি যখন দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়েন, তখনই তার বাবা তার মাকে ছেড়ে চলে যান। অন্যত্র বিয়ে করেন। এরপর তার মা মানুষের বাড়িতে কাজ করে তাকে ও তার ভাইকে বড় করেন। ইভার ভাই একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করেন।

ইভা জানান, এলাকার এক আপুর কাছে জেনে মায়ের কাছ থেকে ১০০ টাকা নিয়ে তিনি ব্যাংক ড্রাফট করেন। এরপর ৩ টাকায় ফরম কেনেন। চাকরির বেতন পাবার পর ইভা প্রথমেই তার মাকে মানুষের বাড়িতে কাজ করা বন্ধ করাবেন বলে জানান।

ইভা বলেন, ‘আমার চাকরি পেতে কোন টাকা লাগেনি। তাই আমি নিজেও কারো কাছ থেকে চাকরি জীবনে অবৈধ টাকা নেবো না। যতটুকু পারি মানুষের সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দেবো।’

মতিহার থানার কাপাসিয়া এলাকার বেদেনা খাতুনের বাবা ভ্যান চালক। অভাব-অনটনে বড় হয়েছেন। তিনিও ১০৩ টাকায় চাকরি পেয়েছেন। তিনি বলেন, চাকরি পাবো তা কল্পনাও করিনি। আগে শুনতাম চাকরি পেতে অনেক টাকা লাগে। তার চাকরি পেতে কোন টাকা লাগেনি।

তানোরের কৃষ্ণপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের মা মারা গেছেন ৫ বছর বয়সে। বাবা দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে আলাদা থাকেন। বড় হয়েছেন চাচা ও রাজমিস্ত্রি ভাইয়ের কাছে।

তিনি বলেন, আমি যেভাবে চাকরি পেয়েছি সেভাবেই চাকরি করবো। ঘুষ খাওয়ার প্রয়োজন হবে না। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া যে ১০৩ টাকায় সরকারি চাকরি পেয়েছি। ১০৩ টাকায় চাকরি পাওয়া বাগমারার হাবিবুর রহমান সৎভাবে দায়িত্ব পালন করে পুলিশ সম্পর্কে মানুষের যে খারাপ ধারণা তা দূর করতে চান।

চারঘাট থানার কুলি শ্রমিকের মেয়ে সুমনা খাতুন। তিনি জানান, চাকরির পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেখে তিনি ১০০ টাকার ব্যাংক ড্রাফট করে চাকরি পেয়েছেন। তিনিও চাকরি জীবনে ঘুষ-দুর্নীতি মুক্ত থাকবেন।

রাজশাহীতে পুলিশ কনস্টেবল পদে গত ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে রোববার  রাতে। রাত সাড়ে আটটার দিকে পুলিশ লাইনে ঘোষণা করা হয় ফলাফল।

এর আগে রাজশাহী জেলার ৫ হাজার ১৪১ জন প্রার্থী কনস্টেবল পদে আবেদন করেন। এদের মধ্যে শারীরিক পরীক্ষা শেষে লিখিত পরীক্ষার জন্য উত্তীর্ণ হন ৮৭৯ জন। লিখিত পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এদের মধ্যে উত্তীর্ন হন ৪২৪ জন। পরে মৌখিক পরীক্ষা শেষে চুড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন ৮৮ জন। এদের মধ্যে ৪৪ জন নারী ও ৪৪ জন পুরুষ। পুুরুষদের মধ্যে সাধারণ কোটায় ২৮জন, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ১১জন, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি কোটায় দুইজন এবং পুলিশ পোষ্য কোটায় তিনজন নির্বাচিত হন। নারীদের মধ্যে সাধারণ কোটায় ৪২ জন, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় একজন এবং পোষ্য কোটায় একজন।

জেলা পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ বলেন, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি দিতে গিয়ে অনেক তদবির ও অনুরোধকে উপেক্ষা করতে হয়েছে। এজন্য অনেকেই ক্ষুব্ধ হয়েছেন, বিরক্ত হয়েছেন। তারপরও আমরা স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে সরে আসিনি। তিনিও আশা করছেন, ঘুষ ছাড়া চাকরি পাওয়া কনস্টেবলরা আগামীতে পুলিশের হারানো সুনাম ফিরিয়ে আনবে।


এই নিউজ মোট   3816    বার পড়া হয়েছে


সফলতার গল্প



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.