09:39pm  Sunday, 18 Aug 2019 || 
   
শিরোনাম



শোকাবহ আগষ্ট নিয়ে এসএসপি’র আলোচনা, দোয়া ও কর্মসূচী




নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ শনিবার সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)’র অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, তৃণমূল পর্যায়ে মাস ব্যাপী কর্মসূচী ঘোষণা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসএসপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন জুয়েলের সঞ্চালনায় কেন্দ্রীয় সভাপতি সামছুল আলম নিক্সনের সভাপতিত্বে এই দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার কাজ সম্পন্ন করার জন্য সরকারের প্রতি এসএসপির নেতৃবৃন্দ দাবী করেন। সভায় বঙ্গবন্ধুর কর্মময় জীবন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন কমিটির কার্যকরী সভাপতি কালিম এম জায়েদী। তিনি বলেন- ঘাতকদের নিকৃষ্টতম এই অধ্যায় নিয়ে আলোচনা করে শেষ করার মতো নয়।

এসএসপি কেন্দ্রীয় সভাপতি সামছুল আলম নিক্সন বলেন- আসলে বঙ্গবন্ধু কোন দল, মত, জাতি, ধর্মের নয়। তিনি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী, বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি আরো বলেন- বঙ্গবন্ধু কোন দলের নয় এই কারণেই যে, যাকে ছাড়া একটি দেশ কল্পনাও করা যেত না, আজকের ষোল কোটি মানুষ বা আঠারো কোটি মানুষ আমরা বাঙালী বলব সেই সুযোগ হয়ে উঠতো না যদি না বঙ্গবন্ধু দুনিয়াতে আসতেন। অতএব তিনি কোন দলের নয়, কোন মতের নয়, কোন ধর্মের নয়, কোন গোত্রের নয়, তিনি শেখ মুজিবুর রহমান। যিনি একটি দেশকে উপহার দিয়েছেন, তাকে সহ তার স্ব-পরিবারে ১৫ই আগষ্ট রাতে হত্যা একটি জঘন্যতম, ঘৃণ্যতম হিসেবে বাংলাদেশ যতদিন থাকবে ততদিন ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে। অতএব আমরা তার রুহের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

নিক্সন বলেন- আমার একটি ধারণা সেদিনটি ছিল আমাদের মিত্র দেশ ভারতের স্বাধীনতা দিবস। ঘাতক মোস্তাকরা ভেবেছিল সেদিন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করলে ভারত মাথা ঘামাবে না। সে প্রেক্ষিতে তারা ১৫ই আগষ্টকে বেছে নিয়েছিল। তাছাড়াও বঙ্গবন্ধু যেদিন জেল থেকে বের হয়ে বাংলাদেশের মাটিতে আসেন তখনি মোস্তাক নামের ঘাতকদের চিন্তা ছিল বঙ্গবন্ধুকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিবে। সে দিন তারা পারেনি। বাংলাদেশ সবেমাত্র স্বাধীন হয়েছে। বাংলার প্রতিটি মানুষের নজর তখন বঙ্গন্ধুর দিকে ছিল। পাশাপাশি মিত্র দেশগুলোরও নজর ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দিকে। যার প্রেক্ষিতে তারা সে দিন পারেনি। কিন্তু যখন বঙ্গবন্ধু তার মন্ত্রী পরিষদ, সরকারী কর্মকর্তা সহ সেনা বাহিনীর উপর অন্ধ বিশ্বাস স্থাপন করেছিলেন তখনই খুব ঠান্ডা মাথায় মোস্তাক নামের বেঈমানরা বঙ্গবন্ধুর স্ব পরিবারকে হত্যা করে। ভাগ্যক্রমে জার্মানিতে থাকায় বেচে যায় বঙ্গকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা।

নিক্সন তার বক্তৃতায় বলেন- মোস্তাকরা তখনও ছিল, এখনও আছে। বঙ্গবন্ধু যেমন কোন দলের ছিলনা, ঠিক তদ্রুপ কোন রাষ্ট্র প্রধানই কোন দলের নয়। উনি সেই দেশের প্রধান। যেমন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধান। আমি বলব মোস্তাকরা সব এখনও মরেনি। আওয়ামীলীগের ভিতরেই এখনও অনেক মোস্তাক হয়তো কল কাঠি নাড়ছে। দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে দেশকে বিপদের দিকে ঠেলে দিতে। তাই বর্তমান রাষ্ট্র প্রধান যেন মোস্তাকদের মত ক্রিমিনালদের খুঁজে বের করে তার ব্যবস্থা নেন, নতুবা যে কোন সময় অন্য কোন ক্ষতি সাধিত হতে পারে।

এসএসপি কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শেখ মোঃ ওবাইদুল কবির বলেন- পৃথিবীর প্রত্যেকটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সময় সূচনা হয় একজনকে দিয়েই। আমি এত জ্ঞ্যান অর্জন করিনি যে আমি একটি পতাকাকে নিয়ে বিশ্লেষণ করব, একটি মানচিত্রকে নিয়ে বিশ্লেষণ করব বা একটি ভূখন্ডকে নিয়ে বিশ্লেষণ করব। যেখানে তিনটি সম্পদের একটিরও বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা আমার নেই, সেহেতু এই তিনটি প্রতীকের প্রতিষ্ঠাতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কতটুকুই বা আমি বিশ্লেষণ করতে পারব? তবে এইটুকু বুঝি তাকে বিশ্লেষণ করে কখনো কোন ভাবেই শেষ করা যাবে না। ৭কোটিতে দেশ স্বাধীন হয়েছে। আজ ১৭ কোটি মানুষ আমরা বাঙালী। আজ বিশ্ব দরবারে আমরা গর্ব করে বলতে পারি, আমরা বাঙালী, আমাদের ভাষা বাংলা। আর তার প্রতিষ্ঠাতা শেখ মুজিব। আর এই বঙ্গবন্ধু নামের একটি রাষ্ট্রকে স্ব পরিবারে হারিয়েছি ১৯৭৫ এর ১৫ই আগষ্ট।

তিনি আরো বলেন- আমি মনে করি আসলেই আগষ্ট মাসটি বাঙালী জাতির জন্য একটি ব্ল্যাক মান্থ অথবা কাল মাস। কারণ স্বাধীনতা পরবর্তী আমাদের ইতিহাসে জঘন্য-ঘৃণ্যতম ইতিহাস সৃষ্টি হয়েছে আগষ্ট মাসেই। যেখানে বঙ্গবন্ধুর ডাকে ৭কোটি মানুষ একত্রিত হয়েছিল, দেশকে স্বাধীন করার জন্য জীবনকে বাজি রেখেছিল যেখানে ৩০ লক্ষ শহীদ আর ২ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে  আজ আমরা স্বাধীন সেই দেশে ১৫ই আগষ্ট আমরা হারিয়েছি বঙ্গবন্ধু, তার স্ব-পরিবারসহ নিকটাত্মীয় ১৬জনকে। ২১আগষ্ট আমরা হারিয়েছি সাবেক রাষ্ট্রপতি মোঃ জিল্লুর রহমানের সহধর্মিনী আওয়ামীলীগের সেই সময়ের মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা আইভি রহমানসহ ২৪ জনকে। সেদিন আহত হয়েছিল ৫ শতাধিক নেতাকর্মী। এছাড়াও ১৭আগষ্ট বাংলাদেশের ৬৪ জেলায় এক সাথে সিরিজ বোমা হামলা হয়েছিল। এছাড়াও হয়তো আরো অনেক ঘটনাই ঘটে গেছে এই আগষ্ট মাসের সূত্র ধরে। যেখানে এতগুলি ঘৃণ্য-জঘন্য ও নির্মম ঘটনা ঘটেছে এই আগষ্ট মাসে সেখানে কাল মাস না বলে আমি কোন পথ পাচ্ছি না।


ওবাইদুল কবির আরো বলেন, আমরা আজকে যারা উপস্থিত হয়েছি তারা সকলেই সাংবাদিক। কথায় আছে সাংবাদিকের কলমের কালি শহীদের রক্তের চেয়েও পবিত্র। সে প্রেক্ষিতে আমাদের মনে রাখতে হবে কি ঘটেছিল মুক্তিযুদ্ধের সময়, কি ঘটেছিল ১৫ আগষ্ট, কি ঘটেছিল ২১ আগষ্ট। সেই প্রকৃত ঘটনাগুলি আমাদের এই পবিত্র কালি দিয়ে তুলে ধরতে হবে দেশ ও জাতির সামনে। যাতে করে পরবকর্তী প্রজন্ম বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস জানে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানে এবং বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাতর ইতিহাস জানে। পাশাপাশি আমাদের করণীয় বঙ্গবন্ধু তার পরিবার সহ সকল শহীদদের প্রতি আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করা তারা যেন পরপারে ভাল থাকেন।

সংগঠনের অন্য সহ সভাপতি আনিসুর রহমান আনিস বলেন- বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে যদি আমরা এক সাথে ১৭ কোটি মানুষ ও বলি তাহলেও শেষ করার মতো নয়। কারণ তিনি একটি দেশের প্রতিষ্ঠাতা। তবে কষ্ট হয় সেই দিনগুলি ভাবতে একজন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাকারীকে কিভাবে সেই রাষ্ট্রের নাগরিকরা হত্যা করে। তাদেরকে কি বলে সম্বোধন করবো তার ভাষা আমার জানা নেই। এ ঘাতকরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছে। হত্যা করেছে বঙ্গমাতাকে। হত্যা করেছে তার ছেলেদের। হত্যা করেছে তার পুত্রবধুদের। হত্যা করেছে তার ভাই এবং নিকটাত্মীয় অনেককে। বেশী কষ্টের বিষয় হল শিশু রাসেল তো কোন অন্যায় করেনি। কিন্তু তাকেও তারা ক্ষমা করেনি। নিষ্পাপ শিশুকে পাষাণেরা নির্মমভাবে হত্যা করে সেই দিন। তিনি বলেন- সেদিন দেশের বাইরে থাকায় বেচে গিয়েছিল বঙ্গবন্ধুর ২ কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তার বাবা এবং বাংলাদেশের শ্রষ্টা জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়কে প্রাধান্য দিয়ে আজকের বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন । আজকের এই আলোচনা অনুষ্ঠানে আমি শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবার এবং দেশের জন্য যারা শহিদদের । তারা যেন পরপারে সুখে থাকেন। আর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলাকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে পারেন।

এসএসপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন জুয়েল তার বক্তৃতায় বলেন- আমার তখন জন্ম হয়নি। আমার জন্ম ১৯৭৫ সালের পরে। তবে আমি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অনেক বই পড়েছি, অনেক ইতিহাস ঘেটেছি। কিন্তু কোথায় গিয়ে শেষ হবে আমি তার কোন কুল পাচ্ছি না। যার জন্য আমরা পেয়েছি একটি দেশ, তাকে ভেবেই বা শেষ করবো কিভাবে? আমার ধারণা, যে ব্যক্তি তার একটি ডাকে ৭ কোটি মানুষকে একত্রিত করেছিল সেই ব্যক্তির ভিতরে কতটা দেশ প্রেম থাকতে পারে, কতটা মানব প্রেম থাকতে পারে তার কোন ভাষা নেই। তিনি এক এবং অদ্বিতীয়। তিনি আমাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। এই শোকাবহ মাসে আমরা একত্রিত হয়েছি তাকে নিয়ে আলোচনা করতে, তার জন্য দোয়া করতে। তিনি যেন পরপারে ভাল থাকেন। এই টুকুই বলব, এত নিকৃষ্ট জঘন্যতম ঘটনা পৃথিবীর ইতিহাসে আছে কিনা আমার জানা নেই। যে দেশটাকে শোষণ করেছে, শাসন করেছে ব্রিটিশ আর পাকিস্তানীরা সেই দেশটি বাংলাদেশ হিসেবে নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে আমাদের বাঙালী বানিয়েছেন। আজ আমরা যার জন্য বাংলা ভাষায় কথা বলি, পৃথিবীর বুকে উন্নত রাষ্ট্রের সামনে মাথা উচু করে বলতে পারি, আমরা বাঙালী, আমার ভাষা বাংলা, আমি একজন বাংলাদেশী। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সহ তার পরিবারও সকল শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে বলতে চাই যত দ্রুত পারে সরকার যেন বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে বাংলার মাটিতে তাদের বিচার করেন।

অন্যান্যের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান আলম সুমন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম সাদ্দামসহ অনেকে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- সাংবাদিক নেত্রী মমতাজ করিম, নাসিম শরীফ, আমেনা ইসলাম, আতিকুর রহমান তাজ, সোহাগী নাহার, জুয়েল রানা, রীতা আক্তার রিয়া, অর্পণা সাহা, জামাল হোসেন সহ অনেকেই।

আলোচনা শেষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন এসএসপির কেন্দ্রীয় ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা কামরুল হাসান নেছারী।


এই নিউজ মোট   12984    বার পড়া হয়েছে


ইতিহাস-ঐতিহ্য



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.