01:22pm  Saturday, 21 Sep 2019 || 
   
শিরোনাম



শাহিদার লাশের মূল্য ৪০ হাজার টাকা? আত্নহত্যা ? নাকি পরিকল্পিত হত্যা?
০৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২২ ভাদ্র ১৪২৬, ০৬ মহররম ১৪৪১



৪ অক্টোবর দক্ষিন বনশ্রীর এ ব্লকের ১নং রোডের ৬ নং বাড়ির ৭ম তলায় শাহিদা নামের ২০ (আনুমানিক) বছরের এক কাজের মেয়ে আন্তহত্যা করেছে বলে জানা গেছে। কেন আত্নহত্যা করবে এমন বিষয় নিয়ে এলাকার সাধারন মানুষের মধ্যে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সেই প্রতিক্রিয়ায় শাহিদাকে মেরে লাশ ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে বলে কয়েকশ মানুষ জড়িতে হয়েছিল ৬নং বাড়ির সামনে। জনগণের প্রতিক্রিয়ার সুত্রে ৫ অক্টোবর অনুসন্ধানে যায় কয়েকজন সাংবাদিক।

অনুসন্ধানে গিয়ে প্রথমেই কথা হয় বাড়ির মালিক আব্দুল শুকুর সাহেবের সাথে। তিনি জানান, কিছুক্ষন আগে মাত্র গোয়েন্দা পুলিশ এসে তাকে অহেতুক ফাসানোর চেস্টা চালিয়ে গেছে। তবে বিষয়টি শাহিদার আন্তহত্যা নয়। এই বিষয়টি-ই সাংবাদিকদের নজর কাড়ে।

শাহিদা যে বাসায় আন্তহত্যা করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে সেই বাসার মালিকের (ভাড়াটিয়া)  নাম তানবীর খন্দকার ওরফে ইকবাল। নন্দিপাড়া বাজারে তার কসমেটিক্স এর দোকান রয়েছে। ইকবালের বাসার কাজের মেয়ে শাহিদা আন্তহত্যার আগের দিন গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ইয়াবা সেবন এবং বিক্রির দায়ে তানভীর খন্দকার ইকবালকে জেল হাজতে পাঠায়। প্রশ্ন হল ইকবাল মাদক ব্যবসায়ি হিসেবে এ্যরেষ্ট হবার পরের দিনই কেন কাজের মেয়ে শাহিদার আন্তহত্যা?

শুকুর সাংবাদিকদের জানান, গোয়েন্দা পুলিশ নাকি বলে আকরাম শুকুরের বন্ধু, তাকে ধরিয়ে দেয়ারা জন্য শুকুরকে প্রেসার দেয়া হয়। আক্রাম কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আকরামেরও নন্দীপাড়ায় ইকবালের দোকানের পাশে দোকান রয়েছে। তিনি প্রায়-প্রায়-ই ইকবালের বাসায় আসত। ইকবালের এ্যরেস্ট হওয়া এবং শাহিদার আন্তহত্যার আগে কোন একদিন আক্রামের কাছে জানতে চেয়েছিল আমার ভাড়াটিয়া ইকবালের বাসায় আপনি কেন আসেন! তদুত্তেরে আক্রাম নাকি জানিয়েছিল ইকবালের নিকট সে টাকা পায় যার জন্য তার আসা। প্রশ্ন থেকে যায় পাশাপাশি দোকান থাকতে টাকার জন্য কেন বাসায় আসবে।এতে করে শুকুর জানান, মনে হয় মাদক ব্যাবসার জন্যই মূলত ইকবালের বাসায় আক্রামের যাওয়া আসা ছিল। সাংবাদিকরা জানতে চায় ইকবালের বাসায় আরো অন্য কোন মানুষ আসা যাওয়া করত কিনা? শুকুর জানান, ইকবালের বাসায় প্রায় প্রায়ই মানুষ আসত, আজ মামাত ভাই, কাল ফুফাত ভাই, পরশু চাচাত ভাই, তারপর স্ত্রীর আন্তীয়, তবে সবাই মনে হয় অপরিচিত, কেউ তাদের নিকটাত্বিয় নয় বলে ধারনা হয়।

সাংবাদিকদের উপস্থিতিতেই ২জন পুরুষ সহ সিএনজিতে এসে উপস্থিত হন ইকবালের স্ত্রী। তাকে ৪ তারিখেই শাহিদার লাশের সাথে খিলগাঁও থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ইকবালেল স্ত্রীর কাছ থেকে জানা যায়, গ্রামের বাড়ি থেকে শাহিদার স্বজনরা আসার পর থানায় বসে মাত্র ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে শাহিদার চাচা এবং ইকবালেল স্ত্রীর মধ্যে সমযোতা হয়, তাও আবার টাকা পরে দেয়া হবে।

পরক্ষনেই থানায় গিয়ে সাংবাদিকরা জানতে পারে শাহিদার লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে  পাঠানো হয়েছে পোস্ট মর্টেমের জন্য।
মামলার ব্যাপারে জানতে চাইলে জানানো হয় এখনো কোন মামলা হয় নাই, তবে আপাতত একটি অপমৃত্যু মামলা হবে।

ফোনে কথা হয় তদন্ত কর্মকর্তা সাব ইন্সপেক্টর নেসার উদ্দিনের সাথে। তার কাছে জানতে চাওয়া হয় হত্যা বা আন্তহত্যার কোন নমুনা পাওয়া গেছে কিনা। তিনি বলেন কিছু পাওয়া গেছে, তবে পোস্ট মর্টেম রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত কোন কিছু বলা যাবেনা।

শাহিদার লাশের মূল্য ৪০ হাজার টাকায় সমযোতাকারী এবং আন্তহত্যা মামলা করার অবেদনকারী শাহিদার চাচা আব্দুল কুদ্দুসের সাথে ফোন মারফত যোগাযোগ করতে চাইলে বার-বারই অন্য একজন ফোন রিসিভ করে। প্রথমে জানান, তিনি হাসপাতালে আছেন। কুদ্দুসের সাথে কথা বলার প্রয়োজন জানালে তিনি বলেন ব্যাবস্থা করছি। কিন্তু তারপর বারবার ফোন দিলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

এই নিউজ মোট   936    বার পড়া হয়েছে


নারী



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.