01:26pm  Saturday, 21 Sep 2019 || 
   
শিরোনাম



কুষ্টিয়ায় প্রতিদিনই ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে
১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ২৬ ভাদ্র ১৪২৬, ১০ মহররম ১৪৪১



কুষ্টিয়ায় বেড়েই চলেছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করার পরও এডিস মশার বিস্তার রোধ করা যাচ্ছে না। প্রতিদিনই এলাকায় নতুন ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে।

শুধুমাত্র উপজেলার আড়িয়া ও খলিষাকুন্ডি এই দুই ইউনিয়নেই বর্তমানে শতাধিক মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। রেহাই পাচ্ছেন না স্বাস্থ্য সেবার কাজে নিয়োজিত ব্যাক্তিরাও।

স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী ও এলাকাবাসীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এ উপজেলার সর্ব প্রথম আড়িয়া ইউনিয়নে ছাতারপাড়া গ্রামের ডেঙ্গু রোগী সনাক্ত হয়। বর্তমানে এ গ্রামেও আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে ৬২ জনে দাঁড়িয়েছে। রোগের কারণ অনুসন্ধান ও তথ্য সংগ্রহে সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনষ্টিটিউট (আইইডিসিআর) এর ৪ সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল ছাতারপাড়া গ্রামে কাজ করে গেছেন। সব মিলিয়ে আড়িয়া ইউনিয়নেই ৮০ জন ডেঙ্গু রোগিকে শনাক্ত করা হয়েছে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী খলিষাকুন্ডি ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামে সনাক্ত করা হয়েছে আরও প্রায় ২৫ জনকে। এছাড়াও উপজেলার রিফায়েতপুর, শিতলাইপাড়া, মহিষকুন্ডি গ্রামে প্রায় ১০ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে দৌলতপুর উপজেলার ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে গত রোববার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জেলা প্রশাসক মো. আসলাম হোসেন। তিনি সিভিল সার্জনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তার অসহযোগিতা ও কাজে নিস্কৃয়তা ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের আরো বেশি অসুস্থ্য করে তুলছে।

স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, প্রতিদিনই বাড়ছে ডেঙ্গু রোগে আক্রান্তের সংখ্যা। ডেঙ্গু প্রতিরোধে যারা কাজ করছেন তারাও রয়েছেন শংকার মধ্যে। ডেঙ্গু রোগীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও রোগী সনাক্তকরণের কাজ করার কাজে নিয়োজিত ছিলেন ছাতারপাড়া কমিউিনিটি ক্লিনিকে কর্মরত সিএইসিপি ওয়ালিউর রহমান। তিনিও গত বুধবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এছাড়া এডিস মশা নিধন ও আক্রান্তদের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার কাজ করার সময় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন আড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাঈদ আনছারী বিপ্লব ও স্বাস্থ্যকর্মী ওয়ালিউর রহমান। তারা বর্তমানে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান সাঈদ আনছারী বিপ্লব বলেন, তার ইউনিয়নের মানুষ সবচেয়ে এডিস মশার আক্রমনের শিকার হয়েছেন। জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশ মোতাবেক দিন রাত সেখানে কাজ করছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে কাজ করতে গিয়ে নিজেও ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়েছেন।

দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন আক্তার বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন ও মশা নিধনে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করার পরও কেন এডিস মশা ও ডেঙ্গুতে রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না সে বিষয়ে নতুন পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে গ্রামবাসীকে আরো সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে আড়িয়া ও খলিষাকুন্ডি ইউনিয়নের ডেঙ্গু আক্রান্ত গ্রামগুলোতে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি 'স্বপ্নছায়া' নামে স্থানীয় একটি সংগঠন। তাশফিন আব্দুল্লাহের নেতৃত্বে সংগঠনের প্রায় ৩০ জন সদস্য গত ৩ সপ্তাহ ধরে ডেঙ্গু আক্রান্ত গ্রামগুলোর পাড়ায় পাড়ায় মশক নিধন, লার্ভা ধ্বংশ করতে বিষ স্প্রে ছিটানো, পরিস্কার পরিচ্ছনতা কার্যক্রম ও ডেঙ্গু রোগিদের চিকিৎসার সহায়তা প্রদান করে আসছে।

উল্লেখ্য, সোমবার কুষ্টিয়ার বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২০ জন। চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৬৮ জন। আর কুষ্টিয়ায় এ পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে ৮০৫ জন।

মেয়র আতিকুল উন্নয়নের ভোগান্তি মেনে নেওয়ার অনুরোধ জানান


এই নিউজ মোট   10884    বার পড়া হয়েছে


জনদূর্ভোগ



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.