11:13pm  Saturday, 19 Oct 2019 || 
   
শিরোনাম



পদ্মার ভাঙনে হুমকির মুখে দৌলতদিয়া ঘাট
১ অক্টোবর ২০১৯, মঙ্গলবার। ১৭ আশ্বিন, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ। ১ সফর ১৪৪১



রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ভয়াবহ নদীভাঙন চলছে। ভাঙনের কবলে পড়ে পদ্মার গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে উপজেলার চারটি গ্রাম। ঢল্লাপাড়া, নহারী মন্ডলপাড়া, ইসাইল শিবরামপুর এবং আফসার শেখেরপাড়ার আর কোনো চিহ্ন নেই। অপর চারটি গ্রাম লালু মন্ডলপাড়া, নতুনপাড়া, বেপারীপাড়া ও হাতেম মন্ডলপাড়া এলাকায় পদ্মার ভাঙন তাণ্ডব চলছে। পানির প্রবল স্রোতে ও ঘূর্ণিপাকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের এক নম্বর লঞ্চঘাটের পন্টুন সংযোগ সড়ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। নৌ দুর্ঘটনা এড়াতে আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্য়ন্ত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে সকল লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বিআইডাব্লিউটিএ।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের লালু মন্ডলপাড়া, নতুনপাড়া, বেপারীপাড়া ও হাতেম মন্ডলপাড়া গ্রাম এলাকায় ব্যাপক নদীভাঙন চলছে। মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে পদ্মা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে বসতভিটা, ঘরবাড়ি ও কবরস্থানসহ অসংখ্য গাছপালা। পদ্মার এমন ভাঙন কাণ্ড দেখে ওই সব গ্রামের শত শত পরিবার ঘর-বাড়ি ভেঙে পূর্বপুরুষের ভিটে-মাটি ছেড়ে ট্রলারে করে চলে যাচ্ছেন নিরাপদ আশ্রয়ে।

হাতেম মন্ডলপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা জানান, গত তিন দিনে নদী ভাঙনের কবলে পড়ে সর্বস্ব হারিয়েছেন ওই গ্রামের প্রায় ৫০টি পরিবার। প্রথম ও দ্বিতীয় দফা ভাঙনের পর পাশের ইসাইল শিবরামপুর গ্রামে পাঁচ থেকে ছয়টি পরিবারের ঘর-বাড়ি বাকি ছিলো। গত রবিরার সকালে ভাঙনের কবলে পড়ে গোটা ওই গ্রামটি পদ্মাগর্ভে হারিয়ে গেছে।

এদিকে বেপারীপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা জানান, এবারের বর্ষা মৌসুমে বেপারীপাড়া গ্রাম এলাকা ভাঙন মুক্ত ছিলো। কিন্তু গত শনিবার থেকে সেখানে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে সেখানে ৩০টি পরিবার নদীভাঙনের শিকার হয়েছে। পাশাপাশি ভাঙন হুমকির মুখে যদু মাতবরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কমিউনিটি ক্লিনিক। ভাঙন অব্যাহত থাকলে যে কোনো সময় তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এদিকে নতুনপাড়া গ্রামের বাসিন্দারা জানান, নতুন করে ভাঙন শুরু হওয়ায় গত চার দিনে ওই গ্রামের ৪০টি পরিবারের বসতভিটা পদ্মায় বিলীন হয়ে গেছে।

দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এবারের বর্ষা মৌসুমের প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় ভাঙনের কবলে পড়ে দৌলতদিয়ার ঢল্লাপাড়া, নহারী মন্ডলপাড়া, ইসাইল শিবরামপুর ও আফসার শেখেরপাড়া নামের চারটি গ্রাম পদ্মা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখন তৃতীয় দফায় ব্যাপক হারে ভাঙন চলছে। এদিকে এলাকাবাসীর অভিযোগ, নদীভাঙনের কারণে বহু পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়ছে। অথচ ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

বিআইডাব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক মো. আবু আব্দুল্লাহ জানান, দৌলতদিয়া ১ নম্বর ফেরিঘাটের পাঁচশ মিটার পশ্চিমে অবস্থিত নতুনপাড়া গ্রাম। ভাঙনের হাত থেকে গুরুত্বপূর্ণ ১ নম্বর ফেরি ঘাটটি আগলে রেখেছিলো ওই নতুনপাড়া গ্রাম। কিন্তু গতকাল সোমবার রাতে নদীভাঙনের কবলে পড়ে নতুনপাড়া গ্রামের একশ মিটার অংশ ভেঙে যায়। এতে প্রবল স্রোতে ঘূর্ণিপাকে পড়ে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ১ নম্বর ঘাট পন্টুনটি সংযোগ সড়ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে সেখানে লাল পতাকা উড়িয়ে ওই ঘাটটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। অন্যদিকে প্রবল স্রোতের কারণে পাশের ২ নম্বর ঘাট পন্টুনে কোনো ফেরি ভিড়তে পারছে না। তাই ২ নন্বর ঘাটটি এখন পরিত্যাক্ত অবস্থায় রয়েছে।

বিআইডাব্লিউটিএ’র আরিচা অঞ্চলের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) মো. ফরিদুল ইসলাম জানান, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথের দৌলতদিয়া প্রান্তে পদ্মা নদীতে প্রবল স্রোত ও ঘূর্ণিপাক সৃষ্টি হয়েছে। এতে লঞ্চ চলাচল অনেটা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই নৌ দুর্ঘটনা এড়াতে আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টা থেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে সকল লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সেখানে লঞ্চ সার্ভিস বন্ধ থাকবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রাজবাড়ীর উপ-সহকারি প্রকৌশলী মো. আরিফ সরকার বলেন, ‘পদ্মার প্রচণ্ড স্রোত ও ঘূর্ণিপাকের কারণে গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ১ নম্বর ঘাটটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ওই ঘাটটি রক্ষায় আজ দুপুর থেকে সেখানে দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে।


এই নিউজ মোট   1800    বার পড়া হয়েছে


জনদূর্ভোগ



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.