03:28pm  Friday, 05 Jun 2020 || 
   
শিরোনাম
 »  মসজিদের ইমামকে জুতার মালা পড়িয়ে ঘোরালেন ইউপি চেয়ারম্যান     »  করোনা রোগী না হলেও লাশ আঞ্জুমান মফিদুলে হস্তান্তর করবে মুগদা জেনারেল হাসপাতাল      »  খুব দ্রুত নিয়োগ হবে ৩ হাজার মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট      »  ‘করোনা ট্রেসার বিডি’ অ্যাপ চালু করল বাংলাদেশ     »  উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান সেরাদের মধ্যে ৫-এ মুশফিক     »  শিবগঞ্জে বজ্রপাতে নারীর মৃত্যু     »  শিবগঞ্জে ৮১ হাজার অসহায় ও দু:স্থ পরিবার পেল করোনা ভাইরাস উপলক্ষে সহায়তা     »  সোনামসজিদ বন্দরে আমদানি-রপ্তানি শুরু     »  সমালোচনার মধ্যেও এলাকায় নিবেদিত সেরা ১০ জনপ্রতিনিধি     »  পুলিশি নিপীড়নে মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভে সমর্থন দিল ট্রাম্প কন্যা   



বড় দরপতনে শেয়ারবাজারে সূচক তিন বছরের সর্বনিম্ন
৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১১ রবিউস সানি ১৪৪১



গতকাল রোববার দেশের দুই শেয়ারবাজারে ৭৭ শতাংশেরও বেশি কোম্পানির শেয়ারের দর কমেছে। এ নিয়ে টানা পাঁচ দিন সূচক কমলো। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল একদিনেই ৭৫ পয়েন্ট বা ১ দশমিক ৬১ শতাংশ হারিয়ে ৪৫৯৬ পয়েন্টে নেমেছে। একদিনে সূচকের এত বড় পতন গত সাড়ে চার মাসে সর্বোচ্চ। এমন পতনে সূচকটি ফিরে গেছে ২০১৬ সালের ১ নভেম্বর বা তিন বছরের আগের অবস্থানে। গতকালের দরপতনে তালিকাভুক্ত সব শেয়ারের মূল্য কমেছে ৪ হাজার ১৪১ কোটি টাকা। আর পাঁচ দিনে কমেছে ৮ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। গতকাল বাজার মূলধন ৩ লাখ ৪৮ হাজার ২৩৪ কোটি টাকায় নেমেছে।

সংশ্নিষ্টরা জানান, অনেক দিন ধরেই শেয়ারবাজার ধুঁকে ধুঁকে চলছে। নানাবিধ কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে শেয়ার বিক্রি করছেন। এ কারণে মাঝেমধ্যেই দরপতন মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। শীর্ষ ব্রোকারেজ হাউস ও মার্চেন্ট ব্যাংকের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা এবং ব্যক্তি শ্রেণির বড় বিনিয়োগকারীর অনেকে মনে করেন, গতকালের দরপতনের ক্ষেত্রে দেশের সার্বিক অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের নিম্নমুখী ধারা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বড় প্রভাব রয়েছে। এমনকি নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির কর্মকর্তারাও এমনটি মনে করছেন। তবে এ বিষয়ে সংস্থার কেউ সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সংশ্নিষ্টরা জানান, বাংলাদেশের রপ্তানি ইতোমধ্যে কমে গেছে। অর্থনীতির বেশ কিছু সূচকে নিম্নগতি রয়েছে। আবার রাজস্ব আয় আশানুরূপ না হওয়ায় সরকার বাজেট বাস্তবায়নে  ব্যাংক থেকে অনেক বেশি ঋণ নিচ্ছে। এ কারণে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ কমার শঙ্কা আছে। এসব তথ্য শেয়ারবাজারে দরপতন বাড়িয়ে দিচ্ছে। অবশ্য কেউ কেউ মনে করেন, বছরের শেষাংশে এসে ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বীমা কোম্পানিগুলো আর্থিক সমন্বয়ের কাজে শেয়ার বিক্রি করে থাকতে পারে। যেসব শেয়ারে মুনাফা রয়েছে, তা বিক্রি করে সার্বিক মুনাফা বাড়ানোর চেষ্টা করে থাকতে পারে।

বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, অর্থনীতির কিছু সূচকে নিম্নগতি আছে। এ বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ আসছে। বিনিয়োগকারীরা এসব খবর পড়ছেন। এর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব রয়েছে। এর ওপর বড় বিনিয়োগকারীরা বাজারে সক্রিয় না থাকায় বিক্রির চাপ একটু বাড়লেই দরপতন মাত্রা ছাড়াচ্ছে। এর মধ্যে বিদেশিদের শেয়ার বিক্রিও বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আবু আহমেদ বলেন, 'শুধু বাংলাদেশের নয়, বৈশ্বিক অর্থনীতির অবস্থাও ভালো নয়। তবে এর মধ্যেও ভারত ও পাকিস্তানের শেয়ারবাজারে বিদেশিদের বিনিয়োগ বাড়ছে। কিন্তু আমাদের এখানে উল্টো। কারণ গত কয়েক বছরে আমাদের বাজারে ভালো কোনো শেয়ার আসেনি। একই শেয়ারে বিনিয়োগ করে করে বিরক্ত বিদেশিরা।'

ব্র্যাক ইপিএল স্টক ব্রোকারেজের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শরীফ এম রহমান জানান, প্রায় সব ব্যাংকেরই শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে বড় লোকসান রয়েছে। ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটের কারণে নতুন করে বিনিয়োগ করতে পারছে না। তিনি বলেন, বাজারে খারাপ খবরের ছড়াছড়ি। প্রতিটি খবরের একটি প্রভাব রয়েছে। ব্যবসা-বাণিজ্য কমার বা বিদেশিদের শেয়ার বিক্রির খবরও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে। একটু ভয় পেলেই মানুষ শেয়ার বিক্রি করে দেয়। এমন ধারা বাজারকে অস্থির করছে বলে মনে করেন তিনি।

এদিকে ব্যাংকের মালিকানাধীন কয়েকটি ব্রোকারেজ হাউসের প্রধান নির্বাহীরা শেয়ারবাজারের নাজুক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের কাছ থেকে ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণ সহায়তার তহবিল পেতে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম খায়রুল হোসেনের সহায়তা চেয়েছেন। শেয়ারবাজারের বর্তমান তারল্য কাটাতে এ ঋণ সহায়তা জরুরি বলে তারা চেয়ারম্যানকে অবহিত করেন।

প্রধান নির্বাহীদের একটি প্রতিনিধি দল গতকাল রোববার আগারগাঁওয়ে সংস্থার কার্যালয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করেন। তখন চেয়ারম্যান এ তহবিল পেতে সরকারের নীতিনির্ধারক পর্যায়ে সুপারিশ করবেন বলে প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সামর্থ্য অনুযায়ী বাজারে বিনিয়োগ করতে আহ্বান জানান। তিনি অন্যান্য বিনিয়োগকারীকেও ধৈর্য ধরতে অনুরোধ করেন।

জানতে চাইলে ঢাকা ব্যাংকের মালিকানাধীন ঢাকা ব্যাংক ব্রোকারেজ হাউসের প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আলী প্রতিবেদককে বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার চেয়ারম্যান ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ঋণ সহায়তার তহবিলের পাশপাশি ব্রোকারেজ হাউসগুলোর পক্ষ থেকে গত দু'বছরের মতো প্রভিশনিংয়ের শর্ত আগামী পাঁচ বছর শিথিল রাখার দাবি জানানো হয়েছে। চেয়ারম্যান এ বিষয়ে লিখিত প্রস্তাব চেয়েছেন।

বাজার পরিস্থিতি :বাজার পর্যবেক্ষণ করেন এমন এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, গতকাল সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রি ছিল সবচেয়ে বেশি। বাজারে প্রভাব রাখে এমন কোনো বড় ব্যক্তি বা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীর দিক থেকে বড় বিক্রির চাপ ছিল না। এমনকি বিদেশিদের শেয়ার বিক্রির চাপ অন্যান্য দিনের মতোই ছিল।

গতকাল প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেন হয়েছে ৩৫৩ কোম্পানির শেয়ার ও মিউচুয়াল ফান্ড। এর মধ্যে মাত্র ৫৩টির দর বেড়েছে; কমেছে ২৭৩টির এবং অপরিবর্তিত ছিল ২৭টির দর। অন্যদিকে চট্টগ্রামকেন্দ্রিক দ্বিতীয় শেয়ারবাজার সিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৩৯ শেয়ার ও ফান্ডের মধ্যে ২৮৬টির দর কমেছে, বেড়েছে মাত্র ৩৭টির।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, গতকালের দরপতন থেকে কোনো খাত রক্ষা পায়নি। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় মূলধনী খাত ব্যাংকের ৩০ কোম্পানির সব শেয়ারের দরপতন হয়েছে। এটাই সূচকের বড় পতনের কারণ। একক কোম্পানি হিসেবে ব্র্যাক ব্যাংক, অলিম্পিক ইন্ডাস্ট্রিজ, স্কয়ার ফার্মা, লাফার্জ-হোলসিম সিমেন্ট, গ্রামীণফোন, ইসলামী ব্যাংকসহ পুরো ব্যাংক খাতের শেয়ারের দরপতন সূচকে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এছাড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের ১৯ কোম্পানির মধ্যে একটি বাদে বাকিগুলোর দরপতনও সূচকে বড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

ডিএসইর খাতওয়ারি লেনদেন পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ব্যাংক খাতে দরপতন হয়েছে সোয়া ১ শতাংশ। ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের ২২ কোম্পানির মধ্যে ২১টির দর কমায় এ খাতে দরপতন হয়েছে পৌনে ৩ শতাংশ। বীমা খাতের ৪৭ কোম্পানির মধ্যে ৪৩টির দর কমায় এ খাতে সার্বিক দরপতন হয়েছে প্রায় দেড় শতাংশ। এ ছাড়া বস্ত্র খাতের ৫৫ কোম্পানির মধ্যে ৪৩টির দর কমায় সোয়া ২ শতাংশ এবং সেবা ও নির্মাণ খাতের চার কোম্পানির সবটির দর কমায় এ খাতে দরপতন হয়েছে সোয়া ২ শতাংশ।

একক কোম্পানি হিসেবে গতকাল সর্বাধিক পৌনে ১৪ শতাংশ দর হারিয়েছে রিজেন্ট টেক্সটাইল। ৫ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা-সংক্রান্ত রেকর্ড ডেটের শেষে এর দর সংশোধন হয়েছে। সর্বশেষ কেনাবেচা হয়েছে ১০ টাকা ১০ পয়সায়। দরপতনে এর পরের অবস্থানে থাকা মোজাফফর হোসেন স্পিনিং মিলস, এস্‌ক্যোয়ার নিট, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স, শ্যামপুর সুগার মিলস, এনভয় টেক্সটাইল, ফ্যামিলিটেক্স ও তুং-হাই নিটিংয়ের ৮ থেকে সোয়া ৯ শতাংশ পর্যন্ত দরপতন হয়েছে। ৫ শতাংশের ওপর দর হারিয়েছে ৪০ কোম্পানির শেয়ার।
এই নিউজ মোট   389    বার পড়া হয়েছে


শেয়ার বাজার



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.