09:08am  Friday, 03 Apr 2020 || 
   
শিরোনাম
 »  করোনার বিস্তাররোধে পুলিশের কর্মকাণ্ডে আমি অত্যন্ত গর্বিত ও সম্মানিত বোধ করছি     »  করোনা মোকাবেলা সরকারকে সত্যটা বলতে হবে, নতুবা আসবে ১৯১৮'র মহামারি     »  ত্রাণ নিতে গিয়ে হিজড়া সম্প্রদায় দিয়ে দেখিয়ে দিল শৃঙ্খলা কাকে বলে      »  বাংলাদেশের ইশরাত করিম ও রাবা খান ফোর্বসের তালিকায়      »  ৩ এপ্রিল চ্যানেল আইতে যা দেখবেন      »  কর্মহীন মানুষদের খাদ্যসামগ্রী দিচ্ছে গাইবান্ধার এসএসসি ০২ ব্যাচ      »  বিরামপুরে জ্বর-শ্বাসকষ্টে মারা যাওয়া ফরহাদ হোসেন করোনা আক্রান্ত ছিলেন না      »  ভোলাহাটে ইউএনও সেনাবাহিনী পুলিশের ব্যাপক টহল     »  শিবগঞ্জে দু:স্ত অসহায়দের পাশে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “এসো মানুষের পাশে”     »  শিবগঞ্জে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে গণজমায়েত এড়াতে প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর অভিযান    



দিনাজপুরে শীতের পিঠা’র জমজমাট ব্যবসা
২৪ ডিসেম্বর ২০১৯, ০৯ পৌষ ১৪২৬, ২৬ রবিউস সানি ১৪৪১



বিশেষ প্রতিবেদক,দিনাজপুর থেকেঃ শীতের আমেজে দিনাজপুরে পঠাপুলি তৈরী’র ধুম পড়েছে।সর্বত্রই চলছে,নতুন ধানের পিঠাপুলির উৎসব।। চারদিক পিঠার ঘ্রাণে মৌ মৌ করছে। বারো মাসে তেরো পার্বণ বাঙালির মানসপটে জায়গা করে নিয়েছে। এখন শীতকাল। একেক পার্বণকে ঘিরে যেমন নানান আয়োজন করা হয়, তেমনি বাঙালির ঘরে ঘরে এ শীতের কুয়াশা ভেজা সকাল ও সন্ধ্যায় পিঠা আর পুলির আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যগতভাবেই। শীতের এই পিঠে উৎসবকে ঘিরে শহরের চিত্রটাও  ভিন্ন।শীত মানেই তো পিঠাপুলির দিন। শীতের আমেজে এখন পিঠা বিক্রির ধুম পড়েছে। হাড় কাঁপানো শীতে জমে উঠেছে রাস্তার পাশে পিঠা বেচাকেনার দোকানগুলো।জেলার বিভিন্ন স্থানে ও রাস্তার ধারে ছোট ছোট পিঠার দোকান সাজিয়ে বসছে বিক্রেতারা। অনেকে আবার পেশা পরিবর্তন করেও বসছেন পিঠা বিক্রির দোকান নিয়ে।  বেচাকেনাও হচ্ছে বেশ ভালোই।


এই শীতে ঘন কুয়াশার মাঝে সৌখিন ও স্বল্প আয়ের মানুষ চুলার আশপাশে ঘিরে বসে মনের আনন্দে আগুন পোহানোর পাশাপাশি পিঠার স্বাদও গ্রহণ করছেন। চলতি পথে থেমে কেউ বা আড্ডায় বসেই সকাল-সন্ধ্যার নাস্তটা সেরে নিচ্ছেন গরম গরম ভাঁপা পিঠা কিংবা চিতই পিঠা দিয়ে। পৌষের তীব্র শীতে জেলার বিভিন্ন ফুটপাথ, অলিগলিতে জমে উঠেছে ভাপা-চিতাই পিঠা বিক্রি। শীতের সকাল কিংবা সন্ধ্যার পর পরেই ভাঁপা পিঠা বিক্রির দোকানগুলোতে পিঠার স্বাদ নিতে ভিড় করেন বিভিন্ন বয়সের নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। মালদহপট্রি এলাকার শীতের পিঠা বিক্রেতা আমজাদ হোসেনের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, বিক্রি বেশ ভালোই। তাই তো অনেকেই এ শীত মৌসুমে পিঠা বিক্রিকে পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

সরজমিন দেখা যায়,দিনাজপুর শহরের মালদহপট্রি,গণেশতলা,মডার্ণ মোড়,জেলরোড,হাসপাতাল মোড়,ষষ্টিতলা,চাউলিয়াপট্রি মোড়,বালুয়াডাঙ্গা মোড়.পুলহাট মোড়সহ বিভিন্ন রাস্তা ও অলি-গলিতে,ফুটপাতে ও মোড়ে মোড়ে বসেছে ভাঁপা ও চিতই পিঠার পিঠার দোকান।


 শীতের তীব্রতা যতই বাড়ছে, ততই এসব দোকানের বিক্রিও বাড়ছে। বিশেষ করে সকাল আর সন্ধ্যার পরেই জমে উঠে এসব পিঠা বিক্রি। বেশিরভাগ দোকানেই পিঠা বিক্রি করছেন নিম্নবিত্ত পরিবারের পুরুষরা। অবসর সময় বাড়তি আয়ের জন্য সকাল আর সন্ধ্যায় পিঠা বানানো নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তারা। নতুন চালের গুঁড়ো ও  নতুন খেজুরের গুড় দিয়ে যত্ন সহকারে তৈরি করা হয় ভাঁপা পিঠা। পিঠাকে আরো সুস্বাদু করার জন্য নারকেল ও গুড় ব্যবহার করা হয়। ভাঁপা পিঠা ছাড়াও ক্রেতাদের জন্য চিতই পিঠা তৈরি করা হয়। এসব পিঠা প্রতটি ৫ টাকা করে বিক্রি করা হয়। প্রতদিন ১০-২০ কেজি পরিমাণ চালের পিঠা বিক্রি হয়। শীতের ভাঁপা ও চিতাই পিঠার সঙ্গে বাড়তি হিসেবে মরিচ, সরিষা ও ধনেপাতার ভর্তা ফ্রি দেয়া হয়। আবার কেউ কেউ কর্মস্থল শেষ করে ফিরতি পথে পরিবারের সদস্যদের জন্যও পিঠা নিয়ে যাচ্ছেন। এর মধ্যে রয়েছে,ভাঁপা (ভাকা)পিঠা, তেলের (অন্দশা) পিঠা,নুন (নুনিয়া) পিঠা, পাটি সাপটা পিঠা, চিতই (চিতুয়া),পিঠা,পানি পিঠা সহ নানান বাহারী পিঠা উল্লেখযোগ্য।


নাগরিক ব্যস্ততা আর যান্ত্রিক সভ্যতার কারণে এখন আর যেমন বারো মাসে তেরো পার্বণ হয় না, তেমনি ইচ্ছে থাকলেও এখন আর মানুষ ঘরে বানানো পিঠা খেতে পারছে না অনেকেই। আর শহরবাসীর এই শীতকালীন রসনা বিলাসে তাই রাস্তার মোড়ে মোড়ে জমে ওঠে বাহারি পিঠার পসরা। দোকানীরা পিঠা বানয়ে স্বাদ মিটায় শহরের মানুষের।তেমনি ধানের জেলা দিনাজপুরের অলিতে গলিতে, মোড়ে মোড়ে জমে উঠেছে এসব শীতের পিঠার দোকান। অফিসগামী কিংবা বাড়ি ফেরার পথে রাস্তার দোকানের পাশে দাঁড়িয়ে তাই অনেককেই দেখা যায় পিঠা খেতে। আর শহরবাসীর রসনার তৃপ্তি মেটাতে গিয়ে এক শ্রেণির মানুষের উপার্জন হচ্ছে এখান থেকেই।যা তাদের জীবনযাপনে সাহায্য করে। শুধু যে কর্মজীবী মানুষরাই এই পিঠা খেয়ে থাকেন, তা কিন্তু নয়। সব শ্রেণি-পেশার মানুষ রাস্তার ধারের পিঠার দোকানের উপর নিভর্রশীল হয়ে উঠছে দিনকে দিন। তাইতো গাড়ি থামিয়ে রাস্তা থেকে ভাপা কিংবা চিতই পিঠা কিনতেও দেখা যায় অনেককে।


দিনাজপুর শহরের মালদহপট্রি সাধনার মোড় সংলগ্ন পিঠার দোকানে আসা পিঠা ক্রেতা মজিবর রহমান জানালেন,তার স্ত্রী শারমিন বাজারের পিঠা খেতে ভালোবাসেন। তাই তিনি ভাপা পিঠা প্রায়ই কেনেন। তাছাড়া বাড়িতে এখন পিঠা তৈরি করা সম্ভব হয় না। পথের ধারের পিঠাই ভরসা।


১৮ বছর ধরে পিঠা বিক্রি করেন বাস ষ্ট্যান্ড এলাকার মজিবর রহমান। তিনি জানান, নারিকেল কুরি ও খেজুর গুড় দিয়ে তৈরি হচ্ছে ভাপা পিঠা। দামও বেশ হাতের নাগালেই। ভাপা পিঠা ৫ টাকা করে বিক্রি করেন তিনি। প্রতিদিন ২ শতাধিক পিঠা বিক্রি হয় তাঁর। দিনে তিনি লাভ প্রায় ৩’শত টাকা। শীত মৌসুমে অনেক গরিব-অসহায় মানুষ মৌসুমী পিঠা বিক্রি করে আয় রোজগারের পথ খুঁজে পেয়েছেন।


 
শাহ্ আলম শাহী
দিনাজপুর

এই নিউজ মোট   568    বার পড়া হয়েছে


শিল্প-সহিত্য



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.