10:39pm  Thursday, 02 Jul 2020 || 
   
শিরোনাম
 »  দিনাজপুরে করোনায় দু'জনের মৃত্যু, নতুন করে ৩৬ জন আক্রান্ত     »  নারী ইউপি সদস্য বিউটি ষড়যন্ত্র থেকে বাঁচতে প্রশাসনের সাহায্য চান     »  ছাত্রীদের মাঝে কিশোর বান্ধব টয়লেট সামগ্রী বিতরণ     »  নারী ইউপি সদস্যের মায়ের নামে ১৭ বছর ডাবল ভাতা ইস্যুকারায় বহিষ্কারের সুপারিশ     »  স্বামী ছাড়াই কন্যা সন্তানের জন্ম; কিশোরী পাচ্ছেনা স্বামী পরিচয়, সন্তান পাচ্ছেনা পিতৃ পরিচয়     »  ৩ জুলাই ২০২০- শুক্রবার চ্যানেল আইতে দেখতে পাবেন     »  ভোলাহাটে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত খামারীদের ঔষধ ও প্রাণীস্বাস্থ্য কার্ড বিতরণ     »  শিবগঞ্জ অস্ত্রসহ র‌্যাবের হাতে যুবক আটক      »  শিবগঞ্জে মৎস্য অফিসের উদ্যোগে মাছের উৎপাদন দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে     »  গাইবান্ধায় ১৭৪ বস্তা ত্রানের চাল উদ্ধার ॥ আটক ২   



ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আদিকথা
১১ জানুয়ারি ২০২০, ২৭ পৌষ ১৪২৬, ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১



প্রায় সাতশত বছরের প্রাচিন ও ঐতিহ্যবাহী বন্দর নগরী ঢাকা। ১৬০৮ সালে মোগল সম্রাট জাহাঙ্গিরের আমলে ঢাকায় রাজধানি স্থাপিত হলে বিশ্বব্যাপি এর মর্যাদা ও গুরুত্ব বৃদ্ধি পায়। তখন বাংলার সুবেদার ইসলাম খাঁ ঢাকার উন্নয়নে মনোনিবেশের মাধ্যমে কিছু গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা ও চকবাজার থেকে সুত্রাপুরের লোহার পুল পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার ইটের রাস্তা নির্মাণ করায় সৌন্দর্যের দিক থেকে তখন পৃথিবির ১২তম নগরীর স্থান দখল করে ঢাকা।

কিন্তু ১৭৫৭ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার শাসনভার গ্রহণ করার পর প্রায় ১৫ বছর ঢাকার উন্নয়ন ব্যহত করে লুন্ঠনে ব্যাস্ত থাকে। পরবর্তিতে ১৭৭২ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পুর্নিবন্যাসের মাধ্যমে একজন ইউরুপিয় ম্যাজিস্ট্রেটকে শহরের প্রশাসনিক দায়িত্ব দেয়া হয়। ১৮১৩ সালে ম্যাজিস্ট্রেট জেমস ওল্ডহ্যামের অনুরোধের প্রেক্ষিতে নগর উন্নয়নের জন্য ১৮২৩ সালে গঠন করা হয় “কমিটি অব ইমপ্রুভমেন্ট”। তখন উল্লেখ্যযোগ্য উন্নয়ন হলেও এই কমিটি বিলুপ্ত করা হয় ১৮২৯ সালে।

পরবর্তিতে ১৮৪০ সালে “ঢাকা কমিটি” নামে নতুন কমিটি হলেও ৭টি ওয়ার্ডে পরিচালিত ঢাকার তেমন কোন উন্নয়ন করা সম্ভব না হওয়ায় ১৮৬৪ সালের ১আগস্ট “ঢাকা পুরসভা” স্থাপিত হয়, গঠন করা হয় ‘ঢাকা মিউনিসিপ্যাল কমিটি’। তখন থেকে পদাধিকার বলে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিউনিসিপ্যালিটির সভাপতির দায়িত্বে থেকে ১৮৮০ সাল পর্যন্ত সর্বনিন্ম ১৪ এবং সর্বোচ্চ ২৩ জন কমিশনার নিয়ে নগর উন্নয়ন পরিচালিত হয়। নবাব ও অন্যান্য ধনাঢ্য ব্যাক্তিদের সহযোগীতায় ১৯০১ সালের মধ্যে কোন এক সময়ে পরিশ্রুত পানি ও বৈদুতিক আলো পায় ঢাকা নগরি। তখন পুরসভার পাশাপাশি মহল্লার নবাবদের পঞ্চায়েতের মাধ্যমে সামাজিক শৃংখলা রক্ষা করা হতো। তবে পুরসভার অ্যাক্ট প্রবর্তিত হয় ১৯৩২ সালে। রুপান্তরিত হয় পুরসভা থেকে পৌরসভা। যাহা চালু থাকে দেশ বিভাগের আগ পর্যন্ত।

১৯৪৭ সালের ১৪ই আগস্ট পাকিস্তান অর্জনের সাথে-সাথে ঢাকা শহরকে করা হয় তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী।একই বছরের শেষের দিকে ঢাকা পৌরসভা বাতিল করে ২৫টি ইউনিয়নে তাদের মনোনিত ব্যাক্তিদের মাধ্যমে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত কোন নির্বাচন ছাড়াই পরিচালনা করে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার। জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে ভাইস চেয়ারম্যান এবং চেয়ারম্যানের স্থলে পদস্ত কর্মকর্তাকে মনোনয়নদানের বিদান রেখে ১৯৬০ সালে পাকিস্তান সরকার মিউনিসিপ্যাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অর্ডিন্যান্স জারি করে। সেই অর্ডিনেন্সে ২৫টি ইউনিয়ন ৩০টি ইউনিয়নে বিভক্ত করে ইউপি চেয়ারম্যানদেরকে ঢাকা পৌরসভার সদস্যপদ দেয়ার পাশাপাশি বেশকিছু সরকারি ও বেসরকারী ব্যাক্তিকে কমিশনার মনোনিত রেখেছিল পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকার।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর স্বাধিনতা অর্জনের সঙ্গে-সঙ্গে স্বাধীন বাংলাদেশের রাজধানি হিসেবে ঢাকা শহরের গুরুত্ব অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়। ১৯৭৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ঢাকা নগরিকে ৫০টি ওয়ার্ডে বিভক্ত করে ঢাকা পৌরসভা গঠন করা হয়। ১৯৭৮ সালে ঢাকা পৌরসভাকে ঢাকা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনে উন্নিত করায় পৌরসভার চেয়ারম্যান মেয়র নামে অভিহিত হয়, তখন ৫০ জন কমিশনারের পাশাপাশি ৫ জন মনোনিত মহিলা এবং সরকারী ও বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যাক্তিকে কমিশনার রাখার বিধান ছিল।

১৯৮২ সালে মিরপুর ও গুলশান পৌরসভা বিলুপ্ত করে ঢাকা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের সাথে একিভূত করায় ৫৬টি ওয়ার্ড নিয়ে ঢাকা নগর মহানগরীতে রুপান্তরিত হয়। পরবর্তিতে ঢাকা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের আয়তন, জনসংখ্যা ও দায়িত্ব বৃদ্ধিজনিত কারনে মহানগরকে ৭৫টি ওয়ার্ডে উন্নিত করা হয়। নগরবাসির মান, কার্যক্রম উন্নত ও গতিশীল করার লক্ষে ঢাকা মহানগরীকে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রিকরনের মাধ্যমে ১০টি আঞ্চলিক কার্যালয়ে বিভক্ত করার মধ্যদিয়ে ১৯৯০ সালে ঢাকা মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশেনের নাম পারিবর্তন করে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নাম করন করা হয়। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রথমবারের মতো সিটি মেয়র ও কমিশনার নির্বাচিত করার উদ্দেশ্যে ১৯৯৪ সালে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডকে পুনরায় ৯০টিতে উন্নিত করা হয়। যেখানে ১৮জন মনোনিত মহিলা কমিমনার রাখার বিধান ছিল।

২০০১ সালে সরকারী এক গ্যাজেটে সংরক্ষিত আসনে মহিলা কমিশনার ৩০ জনে উন্নিত করা হয়। ২০০২ সালে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে একজন মেয়র, ৯০ জন কমিশনার ও ৩০ জন সংরক্ষিত মহিলা কমিশনার সরাসরি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন।

নগরবাসীর সেবা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে ১৯১১ সালের ৩০ নভেম্বর ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে ২টি ভাগে বিভক্ত করে ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশন ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নামে দুইটি সেবা প্রতিষ্ঠান করে তখনকার সরকার। আইনি জটিলতার কারনে তখন নির্বাচন করা সম্ভব না হলেও ২০১৫ সালের ২৮ মার্চ জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে ঢাকা দক্ষিণ ও ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলর নির্বাচিত করা হয়। তখন বিভক্ত ঢাকার উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন আনিসুল হক, আর ঢাকা দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন সাঈদ খোকন। তখন আওয়ামীলিগ সরকারের সহযোগীতায় বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেলে রুপান্তরিত করার প্রত্যয়ে ঢাকাকে ঢেলে সাজিয়ে উন্নয়নের জন্য মরিয়া হয়ে উঠে দুই মেয়র। এরই মধ্যে ঢাকার ১৬টি ইউনিয়ন বিলুপ্তির মধ্যদিয়ে দুই সিটি কর্পোরেশনের সাথে ১৮টি করে ৩৬ ওয়ার্ড সংযুক্ত করা হয়। এরই মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কাজ পাগল মেয়র আনিসুল হক মৃত্যু্রন করেন ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর। অনাকাংখিত কারনে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদটি শুন্য হয়ে যায়। উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদটি পুরন করতে দুই সিটি কর্পোরেশনের সাথে সংযুক্ত ৩৬টি ওয়ার্ড নিয়ে ২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি উপ-নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন আতিকুল ইসলাম। সেই হিসেবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনে ২য় বারের মতো ২০২০ সালের ৩০ জানুয়ারি নির্বাচনের দিন নির্ধারণ করেন বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন।

সম্পাদনা- শেখ মো. ওবাইদুল কবির

১০ জানুয়ারি ; আজকের দিনে জন্ম-মৃত্যুসহ যত ঘটনা


এই নিউজ মোট   416    বার পড়া হয়েছে


ইতিহাস-ঐতিহ্য



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.