01:19am  Wednesday, 01 Apr 2020 || 
   
শিরোনাম
 »  ১ এপ্রিল; বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ৮,২৪,২৫৫, মৃত্যু ৪০০৫৯ জন     »  কাল থেকে করোনা টেস্ট শুরু করবে বিএসএমএমইউতে      »  গয়েশ্বর চন্দ্র'র পক্ষে সাড়ে ৮'শ পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী দিলেন বিএনপি নেত্রী নিপুণ     »  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে অসুস্থ না হলে মাস্ক পরার প্রয়োজন নেই      »  করোনা আতঙ্কের মধ্যেই শেষ করল পদ্মা সেতুর সব পিলারের কাজ      »  মেয়র সাহেব-কালকে দেখলাম মশারা সংগীতচর্চা করছে     »  সুন্দরবনে র‍্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’বাহিনী প্রধান নিহত; আহত ২ র‍্যাব সদস্য     »  ১ এপ্রিল চ্যানেল আইতে যা দেখবেন      »  গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার উদ্যোগে খাদ্য সামগ্রী, মাস্ক ও লিফলেট বিতরণ     »  বিরামপুরে বন্দুকযুদ্ধে এক মাদক চোরাকারবারি একজন নিহত; আহত ৩ পুলিশ   



পক্ষাঘাতগ্রস্ত মুক্তিযোদ্ধার ব্যতিক্রমী লড়াই
২৯ জানুয়ারি ২০২০, ১৫ মাঘ ১৪২৬, ০৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১



প্রায় চার দশক ধরে ব্যতিক্রমী এক লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন পক্ষাঘাতগ্রস্ত মুক্তিযোদ্ধা মুন্সী মহিউদ্দীন আহমেদ। ছাত্রাবস্থায় পরীক্ষায় একটি বিষয়ে এক নম্বরের জন্য তিনি অকৃতকার্য হন। এরপর মহিউদ্দীন খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করেছিলেন। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে খাতা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ত্রুটিও পান। এতে দুই শিক্ষককে দীর্ঘ দিন ধরে খাতা মূল্যায়ন থেকে বিরত রাখা হয়।

পরে আদালতের হস্তক্ষেপে ২০০১ সালে ওই মুক্তিযোদ্ধার সংশোধিত ফল ঘোষণা করা হয়। এতে এক নম্বর দিয়ে তাকে উত্তীর্ণ করা হয়। তবে যতদিনে তিনি 'উত্তীর্ণ' হয়েছেন ততদিনে জীবনের অনেক সোনালি সময় তার চলে গেছে। তাই এ ঘটনার ক্ষতিপূরণ চেয়ে এখনও আইনি লড়াই চালাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দীন।

মহিউদ্দীনের ছেলে আসিফ শাহরিয়ার আহমেদ সৌম্য জানান, তার বাবা ১৯৮৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত যশোরের শহীদ মশিউর রহমান কলেজ থেকে এলএলবি ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮৮ সালের ৬ এপ্রিল পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। এতে এক বিষয়ে এক নম্বরের জন্য তাকে অকৃতকার্য দেখানো হয়। এরপর ওই ফল চ্যালেঞ্জ করে খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন করেন তিনি। তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাতে কর্ণপাত করেনি। ওই বছর এর প্রতিকার চেয়ে আদালতে মামলা করেন মুক্তিযোদ্ধা। ১৯৯০ সালে পুনঃনিরীক্ষার ফল প্রকাশের নির্দেশনা দিয়ে রায় দেন আদালত। তবে সেই রায়ের ব্যাপারে ১৯৯১ সালে যশোরের জেলা জজ আদালতে আপিল করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ১৯৯৩ সালে সেই আপিল খারিজ করে দেন আদালত।

পরে হাইকোর্টে যায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ১৯৯৯ সালে হাইকোর্টও আপিল খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে পুনঃনিরীক্ষার আবেদনের ফল প্রকাশ করার নির্দেশনার পাশাপাশি আবেদনকারী মামলার খরচ প্রাপ্তির অধিকারী বলেও ঘোষণা দেন আদালত। ২০০১ সালের ২৯ মার্চ পুনঃনিরীক্ষার ফল প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয়। তাতে মুন্সী মহিউদ্দীন আহমেদ তৃতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হন।

সৌম্য আরও জানান, ওই সময় ক্ষতিপূরণ বাবদ ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। এখন সেই ক্ষতিপূরণের অঙ্ক আরও বড় হবে। বারবার আদালতের নির্দেশনার বিষয় জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হলেও তারা নির্বিকার। তাদের আইনি নোটিশও পাঠানো হয়। সর্বশেষ গত বছরের ৫ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ে মঞ্জুরী কমিশনের কাছে প্রতিকার চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্বিকার আচরণ সম্পর্কে তাদের অবহিত করা হয়।

ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার মঞ্জুরী কমিশন থেকে মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দীনকে চিঠি দেওয়া হয়। এ ব্যাপারে উচ্চ আদালতের রায়ের কপি কমিশনের কাছে দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। মঞ্জুরী কমিশনের চিঠি পেয়ে তারা আশার আলো দেখছেন।

সৌম্য জানান, তার বাবা এখন যশোরে গ্রামের বাড়িতে রয়েছেন। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পাওয়া সম্মানী ও বাসা ভাড়ার আয় থেকে তার সংসার চলে। যৌথ পরিবারের বসবাস করা এই মুক্তিযোদ্ধার তিন ভাই অন্ধ। মহিউদ্দীনের এক সন্তান 'বিশেষ শিশু'। তিনি দীর্ঘ দিন মামলায় লড়তে গিয়ে জীবনে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি। তবে ক্ষতিপূরণ আদায় করার বিষয়টি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন। শারীরিকভাবে অসুস্থ হওয়ায় বাবার পাশে থেকেই এই লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন ছেলে সৌম্য।


এই নিউজ মোট   1372    বার পড়া হয়েছে


মুক্তিযুদ্ধ



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.