12:53am  Wednesday, 03 Jun 2020 || 
   
শিরোনাম
 »  ফুটবলের পর জুলাই মাসে মাঠে ফিরছে ক্রিকেট      »  এবারের হজ নির্ভর করছে সৌদি আরবের সিদ্ধান্ত ও করোনাভাইরাস পরিস্থিতির ওপর      »  আরও ১২৫৬ জন পেল মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি      »  মার্কিন রাজনীতিবিদদের নিজের চরকায় তেল দিয়ে মানবাধিকার সুরক্ষা দেয়া উচিত     »  ঐতিহাসিক কানসাটে আম ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্বোধন     »  কানসাট নিউজ এর ৭ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন      »  শিবগঞ্জে করোনা রোগীকে খাদ্য সামগ্রী দিলেন এসো মানুষের পাশে     »  ভার্চুয়াল আদালতের পরিবর্তে নিয়মিত আদালতের পক্ষে আন্দোলন।     »  দিনাজপুর পৌরসভার মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন      »  দিনাজপুরে এক মৃত নারীসহ নতুন করে করোনায় ২৪জন আক্রান্ত   



মলম পার্টি, পকেটমার, পাতি নেতা, উপনেতাদের নিয়ে কাজ করতে হয়
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০, রোববার, ৩ফাল্গুন ১৪২৬, ২১ জমাদিউস সানি ১৪৪১



রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাদের যোগদান উপলক্ষে কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের জনপ্রতিনিধিদের ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। তিনি বলেছেন, গুলিস্থান ও মহল্লায় হকারদের থেকে টাকা দেয়া ব্যক্তিরাও কিছুদিন পর পাতি নেতা, উপনেতা, নেতা ও কমিশনার হয়ে যায়। বৈশ্বিক চিন্তা করলেও আমাদের কাজ করতে হয় স্থানীয়ভাবে। কেননা, আমাদের দেশে নির্বাচন কমিশনকে মলম পার্টি, পকেটমার, পাতি নেতা, ব্যাগ টানা পার্টি ও ক্যাসিনো মেম্বার নিয়ে কাজ করতে হয়।’

নতুন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে কমিশনের কার্যক্রম নিয়ে বক্তব্যে সিইসি বলেন, গুলিস্তানে বা মহল্লায় যারা হকারদের কাছ থেকে টাকা নেয়, কিছুদিন পর হয়তো তারাই নেতা, পাতি নেতা, উপ-নেতা তারপর পূর্ণ নেতা হতে দেখা গেলো। তারপর কমিশনারও। এগুলোওতো আমাদের দেখতে হয়। হু নোজ (কে জানে) যে একদিন এমপি হবেন না। সুতরাং সেই ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে আমাদের কাজ করতে হয়। তিনি বলেন, আমাদের দেশে তো মলম পার্টি নিয়ে কাজ করতে হয়। ব্যাগ টানা পার্টি নিয়ে কাজ করতে হয়। আমাদের দেশে ক্যাসিনো মেম্বার নিয়ে কাজ করতে হয়। আমাদের পকেটমার নিয়ে কাজ করতে হয়। দশটা হুন্ডা, বিশটা গুন্ডার যুগ নেই : সিইসি তার বক্তব্যে নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) ব্যবহারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়াদের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ইভিএম এখন টক অব দি কান্ট্রি। এটা নিয়ে অনেক কথা বলা হয়। বলা হয়- সুইজারল্যান্ডে তো পেপার ভোট হয়। কিন্তু সেখানে যুদ্ধের মতো (আমাদের দেশের মতো) বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করতে হয় না। পুলিশ, আর্মি সকলকে নামাতে হয় না। পোস্টারে আকাশ দেখা যায় না, বাতাস আসে না। সেই দেশে তো এমন হয় না। তাই বলে কী আমাদের এখানে নির্বাচন করতে হবে না। সেভাবেই নির্বাচন করতে হবে। তিনি বলেন, কেন ইভএম? ইভিএমের ফলেই এখন আর সেই দশটা হুন্ডা, বিশটা হুন্ডার যুগ নেই। এদের ভাড়া করতে প্রার্থীদের যেতে হবে না। যারা ভোট ছিনতাই করবে, এদের কাছে যেতে হবে না। আর নির্বাচনে যারা দায়িত্বে থাকে তাদের পেছনে যারা টাকা দিয়ে, তাদের কাছেও যেতে হবে না। একমাত্র ইভিএমই পারে, ভোটারদের কাছে প্রার্থীদের নিয়ে যেতে।

প্রার্থীরা ভোটারের কাছে না গিয়ে রাস্তায় গিয়েছে: ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে ভোট পড়ার কম হওয়ার কারণ জানিয়ে নূর“ল হুদা বলেন, ঢাকা সিটি নির্বাচনেই বিরাট বিরাট মিছিল, পোস্টারে সয়লাভ হয়ে গেছিল। আমি ভেবেছিলাম ৮০ শতাংশ ভোট হবে। কিন্তু উল্টো হলো। মনে হয়, এটা আমার ধারণা যে, প্রার্থীরা ভোটারের কাছে না গিয়ে রাস্তায় গিয়েছে। আসল যে সম্পত্তি যেখানে, ভোট দেবেন যারা, তাদের কাছে যায়নি, ভোট কম পড়ার এটা একটা কারণ।

সিইসি বলেন, আমাদের দেশে অনেক সময় বলা হয়, আমেরিকা এমন করে, সুইজারল্যান্ড, জার্মানিতে এইরকম হয়। আমাদের এখানে হয় না কেন? সেদিন একটা পলিটিক্যাল পার্টি এসছিল, আমি অত্যন্ত নিচু গলায় বললাম কানেকানে, আগে সুইজারল্যান্ড হতে হবে, তারপরে বলতে হবে। ইউ মাস্ট থিঙ্ক গ্লোবালি, বাট অ্যাক্ট লোকালি। তবে সেটি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে।’

নতুন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সেই রাজনৈতিক ব্যক্তিদের, যারা সবকিছু নিয়ে কাজ করেন, তাদের সামাল দেওয়ার দায়িত্ব আপনাদের। এই দায়িত্ব আর কারো উপর দেওয়া হয়নি। তার মানে সমাজের সর্বস্তরের সংমিশ্রণগুলো আপনারা একসঙ্গে পেয়ে যাচ্ছেন। এটা একটা বিরাট চ্যালেঞ্জের বিষয়। সেই চ্যালেঞ্জগুলোকে মোকাবেলা করার উপায় হলো-চেষ্টা, দক্ষতা ও একাগ্রতা। আর আপনাদের ব্যক্তিত্ব।

তিনি আরো বলেন, লন্ডনে যদি কেউ ছয়মাস থাকে, আর আসে নির্বাচনের আগে, তাহলে আমরা নিবন্ধন দিয়ে দেই। ভুয়া ভোটার নেই বলেই তারা ধরে নেয়। একটা দেশের অবস্থান সেখানে নিয়ে গেছে কিন্তু তারা। আমাদের দেশে এক সময় ছিল, দেড় কোটি ভোটার হয়ে গেছিল ‘জাল’। হয়েই গিয়েছিল। হাইকোর্ট যদি না আসতেন, দেড় কোটি মাত্র, দেড় কোটি ভুয়া ভোটার হয়েই গিয়েছিল। অনেক দেশে ৪০ লাখ ভোটার জাতীয় নির্বাচনে ভোট হয়। আর আমাদের ঢাকা সিটিতে ৫৪ লাখ ভোটারের ভোট হয়ে গেছে।

ইসি সচিব মো. আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আরও ছিলেন-নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম, বেগম কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শাহাদাত হোসেন চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এই নিউজ মোট   124    বার পড়া হয়েছে


মুক্তমত



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.