07:22pm  Saturday, 06 Jun 2020 || 
   
শিরোনাম
 »  মসজিদের ইমামকে জুতার মালা পড়িয়ে ঘোরালেন ইউপি চেয়ারম্যান     »  করোনা রোগী না হলেও লাশ আঞ্জুমান মফিদুলে হস্তান্তর করবে মুগদা জেনারেল হাসপাতাল      »  খুব দ্রুত নিয়োগ হবে ৩ হাজার মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট      »  ‘করোনা ট্রেসার বিডি’ অ্যাপ চালু করল বাংলাদেশ     »  উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান সেরাদের মধ্যে ৫-এ মুশফিক     »  শিবগঞ্জে বজ্রপাতে নারীর মৃত্যু     »  শিবগঞ্জে ৮১ হাজার অসহায় ও দু:স্থ পরিবার পেল করোনা ভাইরাস উপলক্ষে সহায়তা     »  সোনামসজিদ বন্দরে আমদানি-রপ্তানি শুরু     »  সমালোচনার মধ্যেও এলাকায় নিবেদিত সেরা ১০ জনপ্রতিনিধি     »  পুলিশি নিপীড়নে মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভে সমর্থন দিল ট্রাম্প কন্যা   



করোনাভাইরাসের ঝুকির পরিস্থিতিতে দিনাজপুরে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর বেহাল দশা
০৬ এপ্রিল ২০২০, সোমবার, ২২ চৈত্র ১৪২৬, ১০ শাবান ১৪৪১



বিশেষ প্রতিবেদক, দিনাজপুর থেকেঃ করোনাভাইরাসের ঝুকি এবং এ জটির পরিস্থিতিতে দিনাজপুরে সাধারণ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন মানুষ।সরজমিনে দেখা গেছে,গ্রামের মানুষের চিকিৎসা সেবার প্রাথমিক ভরসা ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলো প্রয়োজনীয় সেবা দিতে পাচ্ছেনা। করোনা পরিস্থিতির কারণে দুপুর ১২টার পরই উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে। করোনা হোক বা না হোক, গ্রামের আতংকিত সহজ-সরল মানুষেরা সর্দি, কাশি কিংবা জ্বর নিয়ে চিকিৎসা সেবা নিতে গেলে চিকিৎসা না দিয়েই রোগীকে ফিরিয়ে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। আবার কোন কোন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র খোলাই হচ্ছেনা। জনবল সংকট ও সুষ্ঠু তদারকির অভাবে দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে অবস্থিত অধিকাংশ উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের এখন এই বেহাল দশ।

দিনাজপুর জেলা সিভিল সার্জেন ডা. মো.আব্দুল কুদ্দুসের সাথে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি জানিয়েছেন,জেলার এক’শ দুইটি ইউনিয়ের মধ্যে ৩১টি ইউনিয়নে উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র রয়েছে। প্রতিটি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন এমবিবিএস মেডিকেল অফিসার,একজন উপ-সহকারি মেডিকেল অফিসার,একজন ফার্মাসিস্ট,একজন অফিস সহায়ক,একজন আয়াসহ ৫টি পদ রয়েছে। কিন্তু,কর্মকর্তা-কর্মচারীর বদলী এবং অনুপস্থিতির কারণে এখন নিঝুম পুরীতে পরিনত হয়েছে এসব অধিকাংশ উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্র। কোন কোনটি আবার পরিনত হয়েছে,আবাসস্থলে। বাস্তবতায় জোড়াতালি দিয়ে কোনমতো চলছে, এসব উপ স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম। এতে গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা’সহ গ্রামীণ শিশু,নারী-পুরুষ করোনাভাইরাসের এ জটির পরিস্থিতিতে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

করোনাভাইরাসের বৈশি^ক ঝুকি মোকাবেলায়  সর্বত্র যখন উদ্বেগ-উৎকন্ঠা আতংক বিরাজ করছে,তখন আতংকিত গ্রামের সহজ-সরল এসব মানুষ জ্বর,সর্দি,কাশির চিকিৎসা সেবা নিতে এসে চিকিৎসা সেবা না পেয়ে বিমূখ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন।

সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বিরল উপজেলার ২ নং ফরক্কাবাদ ইউনিয়নের এই উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রেটি ভেঙ্গে নতুন করে ভবন নির্মাণ কাজ প্রায় আড়াই মাস আগে শুরু হয়েছে। কিন্তু, এখন পর্যন্ত এক শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়নি নতুন ভবনের। নতুন ভবন তৈরীর ওই জায়গাটি নিয়ে বির্তক রয়েছে বলে জানালেন,এলাকার কয়েকজন।ব্যক্তি মালিকাধীন ওই জমিতে ইউপি চেয়ারম্যান এবং কয়েকজন মিলে জোরপূর্বক ইউনিয়নের এই উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।

তাই, ফরক্কাবাদ সমাজ উন্নয়ন পরিষদ ও পাঠাগার নামে স্থানীয় ক্লাবের একটি কক্ষ ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নেয়া হয়েছে। কিন্তু, তা খোলা হয়না সপ্তাহে একদিনেও। সরজমিনে গিয়ে ওই উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি তালা বন্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।তারপরও বাইরে অপেক্ষা করছেন ৩/৪ জন রোগী। এর মধ্যে নতুনপাড়া থেকে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা আলেয়া বেগম জানান, তার কোমর ব্যথা আর জ¦র। তাই ঔষুধ নিতে এসেছেন। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করবে,যদি খুলে এই প্রত্যাশায়।

স্থানীয় ফরক্কাবাদ সমাজ উন্নয়ন পরিষদ ও পাঠাগার ক্লাবে রয়েছে সেই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি এবং স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মমিনুর রশীদ জানান, মাঝে মাঝে পিয়ন (অফিস সহায়ক) এসে এক দু’ঘন্টা অবস্থান করলেও মেডিকেল অফিসর আর ফার্মাসিস্টকে খুঁজে পাওয়া যায়না। অফিস সহায়ক যখন আসেন,তখন তিনি নিজেই চিকিৎসক সেজে বিভিন্নজনকে চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র লিখে দেন।

রয়োজনে দু’একজনকে ওষুধও প্রদান করেন তিনি। এলাকার পরামর্শ আর ওষুধ প্রদানের কাজ অফিস সহায়কেই চালিয়ে যাচ্ছেন।

সাংবাদিক এসেছে, জানতে পেয়ে পাশ^বর্তী বাড়ি থেকে আনজুমান আরা বেগম নামে এক মহিলা এসে নিজেকে ফরক্কাবাদ ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আয়া পরিচয় দিয়ে জানান,“এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কোন ডাক্তার নেই। রোগি আসলে পিয়ন শাহাদাত হোনের (অফিস সহায়ক)মাঝে মাঝে ঔষধ লিখে দেন। দাম্ভিকতার সাথে জানান,তার অভিজ্ঞতা আছে। শহরে তার নিজস্ব ঔষুধের ফার্মাসী আছে বলেই তার এই অভিজ্ঞতা। তিনি যেসব ঔষুধ লিখে দিবে,তা ডাক্তারেও লিখে দিতে পারবেনা।”

সরজমিনে ঘুরে যা পরিলক্ষিত হয়েছে,তাতে শুধু জনবল সংকট নয়,নিয়মিত তদারকির অভাবে  উপ-স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রগুলোর এই বেহাল দশা।

শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর থেকে।

দিনাজপুর শহর কী লকডাউন !


এই নিউজ মোট   114    বার পড়া হয়েছে


স্বাস্থ্য কথা



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.