11:45am  Saturday, 06 Jun 2020 || 
   
শিরোনাম
 »  মসজিদের ইমামকে জুতার মালা পড়িয়ে ঘোরালেন ইউপি চেয়ারম্যান     »  করোনা রোগী না হলেও লাশ আঞ্জুমান মফিদুলে হস্তান্তর করবে মুগদা জেনারেল হাসপাতাল      »  খুব দ্রুত নিয়োগ হবে ৩ হাজার মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট      »  ‘করোনা ট্রেসার বিডি’ অ্যাপ চালু করল বাংলাদেশ     »  উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান সেরাদের মধ্যে ৫-এ মুশফিক     »  শিবগঞ্জে বজ্রপাতে নারীর মৃত্যু     »  শিবগঞ্জে ৮১ হাজার অসহায় ও দু:স্থ পরিবার পেল করোনা ভাইরাস উপলক্ষে সহায়তা     »  সোনামসজিদ বন্দরে আমদানি-রপ্তানি শুরু     »  সমালোচনার মধ্যেও এলাকায় নিবেদিত সেরা ১০ জনপ্রতিনিধি     »  পুলিশি নিপীড়নে মৃত্যুতে যুক্তরাষ্ট্র বিক্ষোভে সমর্থন দিল ট্রাম্প কন্যা   



দিনাজপুরে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে দুগ্ধ খামারিদের মাঝে স্বস্তি
২৩ রমজান ১৪৪১, রবিবার, ১৭ মে ২০২০, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭



বিশেষ প্রতিবেদক, দিনাজপুর থেকেঃ করোনার সংক্রম রোধে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দিনাজপুরের দুগ্ধ খামারিরা অব্যাহত লোকসানে হয়ে পড়েছিলেন দিশেহারা। অবশেষে সেনাবাহিনীর ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের  উদ্যোগে ন্যায্য মূল্যে উৎপাদিত সকল দুধ বিক্রি শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে দুগ্ধ খামারিদের মাঝে।

জেলা প্রাণি সম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়,বিরামপুর ও হাকিমপুর উপজেলায় ছোট বড় ২৯ টি দুগ্ধ খামার রয়েছে। প্রতিদিন এসব খামার থেকে  প্রায় ১ হাজার ৪’শ লিটার থেকে ১ হাজার ৫’শ লিটার দুধ উৎপাদন হয়।

খামারিরা জানান, করোনা ভাইরাস সংক্রমনের কারনে দুধের মূল ক্রেতা মিষ্টির দোকানসহ হোটেলগুলো বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দুধের দাম অর্ধেকে নেেেম এসে  বিক্রিও  প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। এতে করে খামারিদের চরম লোকসান গুনতে হয়।

বিরামপুরের সবচেয়ে বড় দুগ্ধ খামারি জোতবানী গ্রামের এমআরএফ ডেইরী ফার্মের সত্ত¡াধিকারি মো. ফারুক হোসেন জানান, তাঁর ফার্মের ৩০ টি গাভী থেকে প্রতিদিন ৪’শ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। এসব দুধের একটি বড় অংশ ব্র্যাক ক্রয় কেন্দ্রে এবং মিষ্টির দোকানে বিক্রি করতেন। কিন্তু করোনার প্রভাবে ব্র্যাক ক্রয় কেন্দ্র দুধ ক্রয় কমে দেয়। মিষ্টির দোকানসহ হোটেলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুধ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েন তিনি। গুনতে হয় চরম লোকসান।

শ্যামনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান জানান, দোকানপাট বন্ধ থাকায় দুধ বিক্রি করতে না পেরে গাভীর খাবার কমে দিতে বাধ্য হন। এতে করে দুধ উৎপাদন কমে যায়। এর প্রভাবে একটি গাভী মারা যায়, অন্য গাভীরা শারিরিক ভাবে দুধ উৎপাদনের সক্ষমতাও কমে যায়।

পার্শ্ববর্তী উপজেলার  দুগ্ধ খামারি বাবু মিয়া জানান, করোনার কারনে দুধ বিক্রি কমে গেলেও গো খাদ্যের দাম দ্বিগুন হয়ে যায়।  প্রতি বস্তা ভূষি ৮৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয়  ১৩৫০ টাকা, ফিড প্রতি বস্তা ৫৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয় ৮৫০ টাকা। এছাড়াও অন্যান্য গোখাদ্যের দামও বেড়ে যায়। এতে করে খামারিরা দিশেহারা হয়ে পড়েন।

খামারি ফারুক হোসেন, আনিসুর রহমান এবং বাবু মিয়া জানান, দুগ্ধ খামারিদের দুর্দশার কথা জেনে কিছুদিন আগে সেহাবাহিনীর একটি দল তাঁদের সাথে যোগাযোগ করে। পরে স্থানীয় মিষ্টির দোকান এবং ব্র্যাকের সাথে যোগাযোগ করে উৎপাদিত সকল দুধ ন্যায্য মূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা করেন। এতে করে দুগ্ধ খামারিদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

বিরামপুর ও হাকিমপুরের সবচেয়ে বড় মিষ্টির দোকান পদ্ম কলির সত্ত¡াধিকারি সুবল কুমার ঘোষ জানান, করোনা সংক্রমন রোধে সরকারের নির্দেশনায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে বাধ্য হন তাঁরা। এতে করে অসংখ্য কর্মচারীদের ব্যয় নিয়ে চরম ক্ষতির মুখে পড়েন তাঁরা। কিছুদিন আগে সেনাবাহিনীর একটি দল তাঁদের সাথে যোগাযোগ করে স্বাস্থ্য বিধি মেনে শুধুমাত্র পার্সেলে দুধের তৈরী মিষ্টান্ন সামগ্রী বিক্রির ব্যবস্থা করেন। এতে করে দুগ্ধ খামারিরাও যেমন তাদের কাছে দুধ বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন তেমনি তাঁর মতো অন্যান্য মিষ্টির দোকানদারও চরম লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন।

সেনাবাহিনীর ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের ক্যাপ্টেন আবু আহাদ হিমেল জানান, দুগ্ধ খামারিদের দুর্দশার কথা জানতে পেরে সেনাবাহিনী উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় সেনাবাহিনীর তত্বাবধানে উৎপাদিত সকল দুধ বিপননের ব্যবস্থা করা হয়। এতে করে দুগ্ধ খামারিরা ক্ষতি পুষিয়ে আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন।

শাহ আলম শাহী, দিনাজপুর থেকে।

ধেঁয়ে আসছে উপকূলে ঘূর্ণিঝড় ‘আম্ফান’; সিডরের চেয়েও শক্তিশালী


এই নিউজ মোট   119    বার পড়া হয়েছে


কৃষি



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.