03:30pm  Friday, 03 Jul 2020 || 
   
শিরোনাম
 »  স্বাধীনতা দিবস ১৫ আগস্টই ভারত বাজারে আসছে করোনার ভ্যাকসিন!     »  দেশে ৪২জনসহ করোনায় মৃত্যু ১,৯৬৮ জন, শনাক্ত ৩,১১৪ জনসহ আক্রান্ত ১,৫৬,৩৯১জন     »  দিনাজপুরে করোনায় দু'জনের মৃত্যু, নতুন করে ৩৬ জন আক্রান্ত     »  নারী ইউপি সদস্য বিউটি ষড়যন্ত্র থেকে বাঁচতে প্রশাসনের সাহায্য চান     »  ছাত্রীদের মাঝে কিশোর বান্ধব টয়লেট সামগ্রী বিতরণ     »  নারী ইউপি সদস্যের মায়ের নামে ১৭ বছর ডাবল ভাতা ইস্যুকারায় বহিষ্কারের সুপারিশ     »  স্বামী ছাড়াই কন্যা সন্তানের জন্ম; কিশোরী পাচ্ছেনা স্বামী পরিচয়, সন্তান পাচ্ছেনা পিতৃ পরিচয়     »  ৩ জুলাই ২০২০- শুক্রবার চ্যানেল আইতে দেখতে পাবেন     »  ভোলাহাটে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত খামারীদের ঔষধ ও প্রাণীস্বাস্থ্য কার্ড বিতরণ     »  শিবগঞ্জ অস্ত্রসহ র‌্যাবের হাতে যুবক আটক    



শিবগঞ্জে ভাল নেই বেদে সম্প্রদায়, করুন তাদের জীবনকাহিনী
২৯ জুন ২০২০, সোমবার, ১৫ আষাঢ় ১৪২৭, ৭ জিলকদ ১৪৪১



শিবগঞ্জ(চাঁপাইনবাবগঞ্জ)সংবাদদাতা:আমরা বেদে/সাপুড়িয়া সম্প্রদায় ভাল নেই। নানা সমস্যায় জর্জরিত। আগে সাপ খেলা দেখিয়ে ওতাবিজ বিক্রী করে ভাল আয় করতে পারতাম।ঝোপ জঙ্গল বেশী ছিল।সাপও প্রচার পেতাম।মানুষও আগ্রহ সহকারে সাপ খেলা দেখতো ও তাবিজ কিনতো। ভালই থাকতাম।পরিবার নিয়ে সংসার জীবনে সুখ ও শান্তিতেই ছিলাম। আমরা।বিভিন্ন হাটবাজারে ও গ্রামে গ্রামে ঘুরে সাপ খেলা দেখিয়ে যে আয় হয়, তা দিয়েই সংসার চলতো আমাদের সেদিন ফুরিযে গেছে।এখন আমাদের বড়ই দূর্দিন চলছে।অন্য কোন কাজ করতে পারি না।কেউ আমাদের ডাকেও না। তারপর আবার কাটা ঘায়ে নুনের ছিটানীর মত  গত মার্চ মাস থেকে করোনা ভাইরাসের কারনে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জনসমাবেশ নিষিদ্ধ হওয়ায় এখন আর সাপ খেলাওদেখাতে পারি না।কোন আয়ও হয়না। দীর্ঘ প্রায় ৪ মাস যাবত অনাহারে-অর্ধাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছি।একদিকে নিজের খাবার যোগাড় করতে পারি না। অন্যদিকে সাপের খাবার সংগ্রহও করতে হয়।ফলে আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। একখন অমরা নিরুপায়। কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বললেন শিবগঞ্জ উপজেলার দাইপুখুরিয়া ইউনিয়নের চাকলা বেদে পাড়া গ্রামের  মৃত জোহর উদ্দিনের ছেলে সেরাজুল ইসলাম (৬৫)।শুধূ সেরাজুল ইসলামই নয়,এ পাড়ার বেদে/সাপুড়িয়া সম্প্রদাযের প্রায় ৭/৮পরিবারের ৫০জন সদস্যের বসবাস।তারা সবাই সেরাজুল ইসলামের ভাই, সন্তান ও আত্মীয়স্বজন।তারা সবাই একই ভাবে সাপের খেলা দেখিয়েই সংসার চালালেও একই কারনে তারা বর্তমানে সকলেই বেকার হয়ে পড়েছে। সহযোগিতা পাওয়া বলতে সমাাজ সেবা অফিস থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় ৪ জনের সুবিধাভোগীর কার্ড আছে এবং করোনা উপলক্ষে তিনটি পরিবার মাত্র একবার ১০ কেজি চাল পেয়েছে।এনজিও থেকে নেয়া লোনের কিস্তি দিতে না পারায় এনজিও কর্মকর্তা- কর্মচারীদের বিভিন্ন ধরনের হুমকী-ধুমকীর মধ্যে থাকতে হচ্ছে।সেরাজুল ইসলাম আরো জানান,আমাদের পূর্ব পুরুষেরা বেদে বা সাপুড়িয়া ছিল না।আমি সর্বপ্রথম বেদে বা সাপুড়িয়া হয়োিছ। তিনি জানান ছোট বেলা থেকেই সাপ খেলা দেখতে খুব ভালবাসতাম।এলাকায় বেদে বা সাপুড়িয়া আসলেই ছুটে যেতাম। সারাদিন খেলা দেখতাম।এ সূত্র ধরেই নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার সাপুড়িয়া জব্বারের সাথে পরিচয় হয়।প্রায় ৪৫বছর আগে ২০বছর বয়সে বাবার সাথে মনোমালিন্য হওয়ায় রাগ করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাই। প্রথমে আমরা পূর্ব হতে পরিচিত জব্বারের বাড়িতে গিয়ে উঠি। তার নিকট হতে ঠিকানা নিয়ে ঢাকা সাভারের সাপুড়িয়া/ বেদে হামজার বাড়িতে উঠি। সেখানে গিয়ে আমি সাপুড়িয়া হওয়ার কথা ব্যক্ত করি।তখন থেকেই  ঢাক বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও থানায় হামজার সাথে থেকে সাপ খেলা দেখা,সাপ ধরা ও সাপকে নিয়ন্ত্রন করার  প্রশিক্ষন নেই। প্রায় দুই বছর পরে বাড়ি ফিরে এসে বনেজঙ্গলেঘুরে ঘুরে দোশলা,গহমা, পক্ষীরাজ,ড্যারোল, ভীমরাজ,গোখরা, বিষঝুড়ী, ধোধল, সুন্দরী, ম্যাইছা,বাতাচিতিসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাপ ধরে প্রথমে বিষদাঁত ভেঙ্গে দিয়ে বাক্সে রাখতাম।তিনি  আরো জানান,সাপ ধরতে কোন মন্ত্র লাগেনা। হাতের কৌশল ও  মনের সাহসই যথেষ্ট। তাছাড়া সাপের তাবিজ থাকলে সাপে  কামড়াবে না বলে প্রচলিত থাকলে তা সম্পূর্ন মিথ্যা।তবে কিছু গাছ আছে যা থেকে প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ঔষধ আকারে খাওয়ালে বিষ নষ্ট হ্েরয় যয়। সাপকে বশ করার জন্য শুধু  কৌশল অবলম্বন করতে হয়। ভাল ভাল খাবার দিতে হয়। সাপের প্রধান খাবার হলো ডিম, কলা,দুধ,মাংস, মাছ ও সোনা ব্যাংঙ।প্রথমে আমি এ পেশায় জড়িয়ে পড়রেও পরে আমি আমার, স্ত্রী, ছেলে সহ অন্যান্য আত্মীয়স্বজনকে প্রশিক্ষন দিই। ঐ সময় সাপের খেলা দেখিয়ে ও সাপ ধরে বিক্রী করে ভাল আয় হতো। সবমিলিয়ে আমরা  ৭/৮টি পরিবার এ পেশায় নিয়োজিত আছি। সাপড়িয়া/বেদে  আকতার হোসেন জানান,চরম কষ্টে আছি। একেতো আগের মত সাপের খেলা দেখার আগ্রহ মানুষের নেই।আগে অনেক সম্ভ্রান্ত পরিবার সাপ খেলা দেখতে ও নিজ বাড়ির আশেপাশে সাপ ধরতে ডাকতো । ভাল বকশিস পেতাম। সব বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে হার্টের রোগী হয়ে সংসারে যা কিছু ছিল তার বিক্রী করে চিকিৎসা করাইয়েছি। এখন নি:স্ব।সাপুড়িয়া হেলাল উদ্দিন বলেন সাপুড়িয়া হিসাবে সুন্দর বন সহ দেশের প্রত্যেক এলাকায় ঘুরেছি। সাপ ধরেছ্ িখেলা দেখাইয়েছি।প্রচুর আয় করেছি। বর্তমানে নি:স্ব অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছি।আয় না থাকায় নিজের স্ত্রীকেও  ছেলে মেয়ে নিয়ে শুশুর বাড়ি পাঠিয়েছি। শুধূ এ তিনজনই নয়। মাহিদুর,রুহুল আমিন ও সাকিবুল হক সবারই একই অবস্থা।  নাজমা বেগম,আইরিন বেগাম,সাজেদা বেগম, রিপা বেগম সহ আরো কয়েকজন সাপুড়িয়াদের   গৃহিনী বলেন আমাদের মত আর কেউ এক কষ্টে আছে কি না আমাদের জানা নেই।মাদ্রাসার ৭ম শ্রেণীতে পড়ুয়া মোসা:খাদিজা খাতুন জানান অভাবের তাড়তায় বাবা মা লেখাপড়ার খরচ দিতে না পারায় লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবার উপক্রম হয়েছে। আমি লেখাপড়া শিখে মানুষ হতে যাই। আমি সরকারের সাহায্য কামনা করছি।এব্যাপারে শিবগঞ্জ  উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা কা ন কুমার দাস বলেন বেদে/সাপুড়িয়া  সম্প্রদায়ের সংবাদ পেয়ে প্রতিটা পরিবারের প্রধানদের ্একটি করে সুবিধাভোগীর কার্ডের ব্যবস্থা করে দিয়েছি।আগামীতে এদেরকে স্বাবলম্বী করার জন্য আমাদের সংশ্লিষ্ট উর্দ্ধতন কর্ত পক্ষের নিকট আবেদন করবো।  উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাকিব আল রাব্বী বলেন,এটি আমার জানা ছিল না। জরুরী ভিত্তিতে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা  গ্রহন করবো ইনশাল্লাহ।   

মোহা: সফিকুল  ইসলাম, শিবগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

ওকে নিউজ স্পেশাল: সুুন্দরবনে মাছ ধরা বন্ধ হওয়ায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে মৎস্যজীবিদের জীবন-জীবিকা

ভোলাহাটে সন্তানের প্রাণনাশের হুমকিতে বৃদ্ধ বাবার অভিযোগ


এই নিউজ মোট   60    বার পড়া হয়েছে


ওকে নিউজ স্পেশাল



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.