11:03pm  Monday, 03 Aug 2020 || 
   
শিরোনাম
 »  বাংলাদেশে ধর্ম যার যার উৎসব কিন্তু সবার: তথ্যমন্ত্রী     »  সেনা কর্মকর্তার অকাল মৃত্যুতে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল      »  পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় মেজর (অব.) সিনহা বনানী চিরনিদ্রায় শায়িত      »  করোনার বিস্তার রোধে চলাচলে নিয়ন্ত্রণ ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বাড়ল     »  বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস ভুল, করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে      »  বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস ভুল, করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে      »  দিনাজপুরে করোনায় আরও একজনের মৃত্যুঃ নতুন আক্রান্ত ৪২ জন      »  নিজের নামে নয়, অন্যের নামে ৫০ সিমকার্ড ব্যবহার করেছেন সুশান্ত      »  ইতিহাসে একক মাসে এর আগে কখনো এতো পরিমাণ রেমিট্যান্স আসেনি     »  আর কত মানুষ মরলে ট্রাম্পের শিক্ষা হবে?   



যুবলীগের অতীত সুনাম কিছুটা হলেও ফিরিযে দিতে চাই
২১ জুলাই ২০২০, মঙ্গলবার, ০৬ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৯ জিলকদ ১৪৪১



বিশেষ প্রতিবেদক; অরাজগতা সৃস্টির মাধ্যমে বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ সফলতাকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্ব দরবারে পরিচিত করতে টাকার বিনিময়ে যুবলীগ, আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস অজানা আন্ডার মেট্রিক বিএনপি, শিবির আর ফ্রিডম পার্টির ১৯ জন ক্যাডারকে ভাইস প্রেসিডেন্ট বানানো হয়েছিল বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর দক্ষিন যুবলীগের সহ-সম্পাদক শেখ রাসেল রাজু। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুদ্ধি অভিযানে ক্যাসিনোসহ বিভিন্ন ক্যালেংকারীর সাথে দলের কিছু নেতার জড়িত থাকার বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর যখন আওয়ামীলীগের সভাপতি ২৩ নভেম্বর ২০১৯ যুবলীগের কাউন্সিলের নির্দেশ দেন এমন সময় নতুন কমিটিতে শেখ রাসেল রাজু কেমন পদ আশা করেন জানতে চাইলে বাংলাদেশ প্রতিদিনের এর সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ রাসেল রাজু তার রাজনৈতিক জীবনের বিশাল বর্ননা তুলে ধরেন বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদকের সামনে। তিনি বলেন, আমার পুরো পরিবার আওয়ামীলীগ পরিবার, আমি মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সন্তান, আমার ফুফা ক্যাপ্টেন তাইজুল ইসলাম আগরতলা ষরযন্ত্র মামলার আসামী ছিলেন, তিনি ৯নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার এবং মেজর জলিলের টোআইছি ছিলেন, আমার বাবা মুক্তিযোদ্ধা শেখ লতিফুজ্জামান মুক্তিযুদ্ধকালীন কমান্ডার এবং আমার আরেক দাদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হন। আমারা পরিবারে আমার বাবাসহ তিনজন ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। আমার বাবা এখনো বাগেরহাট জেলার কচুয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সিনিযর ভাইস প্রেসিডেন্ট। আমি ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতা ছিলাম, পরে শেখ হাসিনার প্রতিষ্ঠিত ‘মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম কমান্ডে’র সাধারন সম্পাদক এবং বর্তমানে ঢকা মহানগর দক্ষিন যুবলীগের সহ-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছি। তাছাড়াও আমি ২০০৩ সালে ছাত্রলীগের কাউন্সিলে গুলি খেয়ে পঙ্গু হয়েছি । সেই হিসেবে আমার বাবা মুজিব সৈনিক, আমি শেখ হাসিনার সেনিক, আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায়, সবকিছু বিবেচনা করে দেশের উন্নযনের উপর আস্থা রেখে শেখ হাসিনার কর্মসুচি বাস্তবাযনে কাজ করে যাচ্ছি। আমি খালেদা জিয়ার আমলে ১৩ বার জেল খেটেছি, ৬টা গুলি খেয়েছি, ২১ আগস্টেও গ্রেনেড হামলায় আমি আহত হয়েছি, দুঃখের বিষয় হলো তালিকায় আমার নামটা আসেনি। আমার এক মাত্র ছোট ভাই শেখ মোঃ তরিকুল ইসলাম (শেখ আরজু) সহ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদ।

আপনার এবং আপনার পারিবারি অতিত যা জানলাম তাতে করে আপনি কি মহানগর দক্ষিন যুবলীগের সহ সম্পাদক কেন এবং নতুন কমিটিতে কোন পদ আশা করেন জানতে চাইলে শেখ রাসেল রাজু বলেন, আপনার প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে বলব মহানগর যুবলীগ দক্ষিনে সহ-সভাপতি থেকে সাংগঠনিক পদ পর্যন্ত জামাত বিএনপি এবং ফ্রিডম পার্টির লোকদের পদায়ন করার জন্য অতিরিক্ত পদ সৃস্টি করা হয়েছিল। 

তবে এই কমিটিতে যারা বর্তমানে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে রয়েছে কমিটিতে ছিল তাদের মধ্যে মাইনদ্দিন রানা, রেজাউল করিম রেজাসহ দু’একজন যুবলীগ করত, বাকিরা কেউ কোনদিনই আওয়ামীলগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলনা, এরা সবাই এন্টি আওয়ামীলীগ ইভেন্ট সাংগঠনিক সম্পাদক পর্যন্ত। তারা আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস জানেনা। এই সরকারের এত বড় উন্নয়ন এবং শেখ হাসিনাকে ধ্বংশ করার জন্য তাদেরকে বসানো হয়েছে। শেখ হাসিনার জন্য যারা আমার মতো পঙ্গু হয়েছে, যারা স্প্রিন্টার খেয়েছে তাদেরকেসহ মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে দুরে রাখার জন্য এই যুবলীগের কমিটি হয়েছে। শেখ হাসিনার কোন সমস্যা হলে যেন তার কাছে কেউ থাকতে না পারে তার জন্য এই কমিটি করা হয়েছে। আর তারাতো টাকা পয়সা দিয়ে বিএনপির এ্যজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য এই কমিটিতে ঢুকেছে, তাই এ্র্রজেন্ডা বাস্তবাযন হযেছে। আজ যদি আমি সভাপতি থাকতাম তাহলে আমিতো এমন কলংকিত কাজ করতামনা, কারন আমি জানি বিএনপি-জামাতের দ্বারা কতটা নির্যাতনের স্বীকার হয়েছিলাম।

যুবলীগের এই কলংকের কালিমা থেকে মুক্ত করতে হলে দলীয় প্রধানের কি করা উচিৎ জানতে চাইলে রাজু বলেন, শেখ হাসিনা দুরদর্শি যে পদক্ষেপ নিয়েছে এইটাকে একের পর এক বাস্তবাযন করতে হবে এবং নতুন কমিটিতে বেছে বেছে পারিবারিক এবং প্রার্থির নিজের ইতিহাস জেনে পদ-পদবি দিতে হবে।

আপনি কি তাহলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের নতুন কমিটিতে সভাপতি হতে চান কিনা জানতে চাইলে রাজু বলেন, সমস্ত কিছু বিবেচনা করে আওয়ামীলীগের সভানেত্রী, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, রাস্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা যদি আমাকে যুগ্য মনে করেন তাহলে আমি দায়িত্ব নিতে রাজি আছি, যাতে করে অন্তত যুবলীগের অতীত সুনাম কিছুটা হলেও শেখ হাসিনাকে ফিরিযে দিতে পারি। এছাড়াও আমি চাইব কমিটিতে যেন প্রতিটা নেতা হয বঙ্গবন্ধু, আওযামীলীগ, যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনি, মুক্তিযোদ্ধা তথা জননেত্রী শেখ হাসিনার আদর্শের সেনিক।

সমসাময়িক বিষয় নিয়ে জানতে চাওয়া হলে রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ সম্পর্কে বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধিকে শেখ রাসেল রাজু বলেন, এখন তাদেরকে দরেতো লাভ নেই, আগে দরতে হবে তাদের যারা সুযোগ করে দিয়েছে তাদেরকে। তাদের বিচার করার পর যদি সাহেদদের মতো ক্রিমিনাল দের বিচার করা হয় তাহলেই মাত্র দেশের অন্যায় কমতে পারে, তা না হলে আমার দেশের অনেক নেতা আর মন্ত্রী আমলারা আবারো নতুন নতুন সাহেদ তৈরী করে ফেলবে। আর জেকেজি সম্পর্কে রাজু বলেন কিছুদিন আগেও এই জেকেজির কোন অস্তিত্ব ছিলনা, এখন তারা প্রচন্ড বড় মাপের আওয়ামী লীগার হয়ে বড় বড় ব্যবসা বাগিয়ে নিয়ে সরকার আর দলের বদমান করল।তারা কি কোন দিন রাজপথে ছিল? ছিলনা। তারা কি অতিতে দেশ বা দলের জন্য কিছু করেছে? করেনাই! অথচ আওয়ামীলীগের ১২ বছরে একটি ঘটনারও প্রমান নেই যে অঅওয়ামীলিগের একজন ত্যাগী কর্মি কোন কলংকের সাথে জড়িত ছিল। স্বাস্থ্যখাতের বিষয়ে জানতে চাইলে রাজু বলেন, এই স্বাস্থ্যখাতের মিঠুদের যারা দুর্নীতি করার সুযোগ করে দিয়েছেন যে সকল আমলা মন্ত্রীরা, সেই সকল আমলা মন্ত্রীদের বিচার আগে হওয়া দরকার।

অবশেষে শেখ রাসেল রাজু বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার যারা ত্যাগী কর্মি, যারা এখনো অক্সিজেন নিয়ে বেঁচে আছেন তাদেরকে সরকার এবং দলের গুরুত্বপূর্ন জায়গায় যদি স্থান না দেন তাহলে আপনার অর্জন গুটি কয়েক আমলা মন্ত্রীরা শেষ করে দিবে, আর ত্যাগী কর্মিরা আস্তে-আস্তে এমনিই শেষ হয়ে যাবে।   

আসলে মাঠের খবর বলতে গেলে বলতে হয়, সম্রাট কেন্দ্রীক ঢাকার যুবলীগ রাজনীতি তছনছ হবার পর-পরই করোনায় দেশকে আরো অনেকটা অচল করে দিয়েছে। যার কারণে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণের যুবলীগ খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে ভারপ্রাপ্তদের দায়িত্বে। আসলে এখন শুধু চলছে করোনা মহামারিতে জনগণকে সরকারের দেয়া সহযোগীতার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক কেন্দ্রীক রাজনীতি। তবে দরকার ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণে সম্রাট কেন্দ্রীক কেসিনো কলংকের ছাপ পরেনি, যারা তৃনমূল থেকে গড়ে উঠা নেতা, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি এবং শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে বিশ্বাষী এমন কিছু নেতাদের সম্বয়ে একটি কমিটি।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদক ঢাকা মহানগর দক্ষিণের তৃনমূল নেতাদের কাছে জানতে চাইলে কেউ কেউ বলেন, মহানগরে দরকার ত্যাগী, সৎ আদর্শের অধিকারী, সু-শিক্ষায় শিক্ষিত এবং যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে তৃনমূল থেকে রাজনীতি করে আসছেন তাদেরকে থাকতে হবে শীর্ষ পদে।

বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিবেদক রাজধানির কাকরাইল মোড়ে অনেকের সাথে আড্ডার স্থলে জানতে চায় ঢাকা মহানগর দক্ষিনের পরবর্তি সন্মেলনে কেমন নেতা দরকার? এমন  জহিরুর রব বাবু বলেন, অনেক যুব নেতা দেখেছি, কিন্তু শেখ রাসেল রাজু ভাইয়ের মতো নেতা আমি কম দেখেছি। এইটা কেমন জানতে চাইলে রব বাবু বলেন, আমার মতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি একমাত্র শেখ রাসেল রাজুই প্রাপ্য। কেন জানতে চাইলে বাবু বলেন, আমরা যতটুকু জানি শেখ রাসেল রাজু একজন মুক্তিযোদ্ধা ও শহিদ পরিবারের সন্তান, তার জীবনে ছাত্র রাজনীতির বর্নাঢ্য ক্যারিয়ার রয়েছে, আমাদের জানামতে শেখ রাছেল রাজু অনেকভাবেই নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন, বহুবার কারাবরন করেছেন, ২০০২ সালে একটি জেলা ছাত্রলীগের সন্মেলন থেকে ফেরার পথে ছাত্রদল এবং ছাত্র শিবির তাকে মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে গুলি করে, এতে করে তার একটি হাত প্রায় অকেজু অবস্থায় রয়েছে। আরেক সাংস্কৃকি কর্মী আব্দুল মালেক সাগর বলেন, ঢাকা মহানগর উত্তর দক্ষিণে অবশ্যই সুশিক্ষায় শিক্ষিত, পরিশ্রমি, ত্যাগী এবং তৃনমূল থেকে রাজনীতি করে আসছেন এমনদেরকে দিয়েই যুবলীগের কমিটি গঠন করতে হবে, কারণ ঢাকাকে দেখেই পুরো দেশের যুবলীগ পরিচালিত হয়। আর শেখ হাসিনার ডিজিটাল সোনার বাংলা গড়তে শেখ রাসেল রাজুদের মতো নেতৃত্বের প্রয়োজন। সেই হিসেবে শেখ রাসেল রাজু ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি হবার যোগ্যতা রাখে বলে মনে করি।

বিতর্কের মুখে স্বাস্থ্যের ডিজি আবুল কালাম আজাদের পদত্যাগ


এই নিউজ মোট   979    বার পড়া হয়েছে


রাজনীতি



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.