03:09am  Tuesday, 01 Dec 2020 || 
   
শিরোনাম
 »  শুরু হলো বিজয় ও গৌরবের মাস ডিসেম্বর     »  যুবলীগের সঙ্গে এক মিনিট লড়াই করার ক্ষমতা নেই-মামুনুলকে সাংসদ নিক্সন      »  মাকে শেষবারের মতো দেখতে ৬ ঘন্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পান ইরফান সেলিম     »  আজ ১ ডিসেম্বর; আজকের দিনে জন্ম-মৃত্যুসহ যত ঘটনা     »  মোরেলগঞ্জে ঘরের অভাবে রোদ বৃষ্টির দিনলিপি এক দিনমজুরের     »  প্রথমে প্রেম : পরে বিকাশ প্রতারকের কাছ থেকে টাকা উদ্ধার     »  ফজলুর রহমান বাবুর নতুন গান “চান্দে বসত কইরো কইণ্যা“     »  ঝালকাঠিতে খাল ভরাট করে স্থাপনা র্নিমানের অভিযোগ     »  বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ : তিন ম্যাচেই জয় পেয়েছে চট্টগ্রাম     »  মাধ্যমিকে ইসলাম শিক্ষা বাদ দেওয়ার খবর গুজব   



দেশকে আরো মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিতে কাজ করছে সরকার
২৯ অক্টোবর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ১৪ কার্তিক ১৪২৭, ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২



প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তার সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার মাধ্যমে প্রতিটি ক্ষেত্রে বিশেষ করে আর্থ-সামাজিকভাবে স্বাবলম্বী করে দেশকে বিশ্বে আরো মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নিয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা অন্যের সহায়তা না নিয়ে আর্থ-সামাজিকভাবে স্বনির্ভরতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে আরও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পালন করছি।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার সকালে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২০ প্রদান অনুষ্ঠানে দেয়া বক্তব্যে এ সব কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতার যে স্বপ্ন, যে চেতনায় আমার লাখো শহীদ বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে স্বাধীনতা এনে দিয়ে গেছেন। তাদের এবং আমার লাখো মা-বোনের সেই আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেই আমরা এই বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র মুক্ত সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।’

তিনি বলেন, ’মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি হিসেবে বাংলাদেশ সারাবিশ্বে মাথা উঁচু করে চলবে। আমরা কেন অন্যের কাছে হাত পেতে, মাথা নিচু করে চলবো। কিন্তু ’৭৫ এর পর আমরা সেই সম্ভাবনা এবং অধিকার হারিয়ে ছিলাম।’

তার সরকারের পরিচালনায় বাংলাদেশ আজ তার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করতে সমর্থ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘দেশকে দারিদ্র ও ক্ষুধা মুক্ত করে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তোলার জন্যই আমরা আমাদের সমস্ত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি এবং যথেষ্ট অর্জনও করেছি।’

আসন্ন শীতে করোনার সেকেন্ড ওয়েভ সম্পর্কে সকলকে সতর্ক করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে সরকার প্রধান বলেন, ‘করোনা ভাইরাসের আগমনে সমগ্র বিশ্বের অর্থনীতি স্থবির হয়ে পড়লেও তার সরকার এটা মোকাবেলায় প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছে, যেন, দেশের মানুষ এর থেকে সুরক্ষা পায় এবং দেশের অর্থনীতির গতিশীলতা না হারায়।’

প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি এই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। শেখ হাসিনার পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই পুরস্কার প্রদান করেন।

সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম পরিচালনা করেন এবং পুরস্কার বিজয়ীদের জীবন বৃত্তান্ত পড়ে শোনান। অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিজয়ীদের পক্ষে প্রফেসর ডা. এ কে এম এ মুকতাদির অনুভূতি ব্যক্ত করে বক্তৃতা করেন।

এ বছর সরকার দু’জন মরণোত্তরসহ ৮ ব্যক্তি ও একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ, চিকিৎসাবিদ্যা, সংস্কৃতি ও শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘স্বাধীনতা পুরস্কার-২০২০’ এ ভূষিত করে।

এ বছর স্বাধীনতা পুরস্কার বিজয়ীরা হচ্ছেন- স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের জন্য বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দাস্তগীর গাজী, বীর প্রতীক, প্রয়াত কমান্ডার (অব.) আবদুর রউফ (মরণোত্তর), প্রয়াত বুদ্ধিজীবী মুহম্মদ আনোয়ার পাশা (মরণোত্তর) ও আজিজুর রহমান। চিকিৎসাবিদ্যায় অধ্যাপক ডা. মো. উবায়দুল কবীর চৌধুরী ও অধ্যাপক ডা. এ কে এম এ মুকতাদির। সংস্কৃতিতে কালীপদ দাস ও ফেরদৌসী মজুমদার। শিক্ষায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরের ভারতেশ্বরী হোমস্। আজিজুর রহমান সম্প্রতি কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। পুরস্কার হিসেবে ১৮ ক্যারেট সোনার একটি ৫০ গ্রাম ওজনের স্বর্ণ পদক, সনদপত্র এবং ৫ লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়।

প্রতিবছর ২৬ মার্চ, স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে সরকার এ পুরস্কার প্রদান করে আসলেও এ বছর করোনা পরিস্থিতির কারণে যথাসময়ে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হতে পারেনি। যা আজ অনুষ্ঠিত হলো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা যখন একটি যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তুলে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে যাত্রা শুরু করলেন এবং ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রীকরণ করে গ্রাম পর্যায় পর্যন্ত সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পদক্ষেপ নিলেন ঠিক সেই মুহূর্তে ’৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। ‘এরসঙ্গে বাঙালি জাতিও তাদের সকল সম্ভাবনাকে হারিয়ে ফেলে,’ বলেন তিনি।

তিনি বলেন, এই হত্যা (জাতির পিতা) শুধু একজন রাষ্ট্রপতি হিসেবে তাকেই নয়, আমার মা’ (বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা) যিনি প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে জাতির পিতার পাশে থেকেছেন এবং এ দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবনকে উজাড় করে দিয়েছিলেন তাকে, ১০ বছর বয়সের ছোট ভাই রাসেল, ক্যাপ্টেন শেখ কামাল এবং লেফটেন্যান্ট শেখ জামালসহ তিনভাই, নব পরিণীতা দুই ভাতৃবধূ, একমাত্র চাচা শেখ আবু নাসেরসহ একই দিনে রাজধানীর তিনটি বাড়িতে আক্রমণ করে পরিবারের ১৮ জন সদস্যকে হত্যা করা হয়।

বঙ্গবন্ধু কন্যা এবং প্রধানমন্ত্রী এদিনও জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যাকারী আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচারের পথ রুদ্ধ করে তাদের পুরস্কৃত করা, যুদ্ধাপরাধীদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশ করাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুনর্বাসন এবং ইতিহাস বিকৃতি তথা বঙ্গবন্ধুর নামকে ‘বাংলাদেশ এবং স্বাধীনতার থেকে মুছে ফেলার অপচেষ্টার অভিযোগে সাবেক সেনাশাসক জিয়াউর রহমানকে অভিযুক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘সংবিধান লঙ্ঘন করে মিলিটারি ডিক্টেটর জিয়াউর রহমান অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ করে কারাগারে থাকা যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তি দেন। যদিও জাতির পিতা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে এই বিচার শুরু করেছিলেন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পাকিস্তানি পাসপোর্ট নিয়ে যারা দেশ ছেড়ে গিয়েছিল তাদের ফিরিয়ে আনেন, মন্ত্রিত্ব দেন এবং উপদেষ্টা করেন। জাতির পিতার আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেন। এরা সেই খুনি যারা গর্ব করে বলতো কে তাদের বিচার করবে।’

‘আপনারা একবার চিন্তা করে দেখেন, স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে বা বিভিন্ন দূতাবাসে কারা আছে আপনাদের প্রতিনিধি হিসেবে, যারা হলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের খুনি। তাহলে সেদেশের ভাবমূর্তি কি হতে পারে?’ যোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করে হত্যাকারীদের বিচারের পথ রুদ্ধ করে দেয়া, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নস্যাৎ করে ইতিহাস বিকৃত করা, ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ নিষিদ্ধ করা। বঙ্গবন্ধুর নামটি পর্যন্ত ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার অপচেষ্টা করা হয়।

‘আওয়ামী লীগ ’৯৬ সালে প্রথমবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই দেশের সঠিক ইতিহাস মানুষের সামনে তুলে ধরার প্রচেষ্টা গ্রহণ করে’, উল্লেখ করে সরকার প্রধান তার সরকারের সময়োচিত ও কার্যকর পদক্ষেপে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের খণ্ড চিত্র তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘মানুষের দোড়গোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া, প্রতিটি মানুষের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা করা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি করা, প্রত্যেক ঘরে আলো (বিদ্যুৎ) জ্বালানো, প্রত্যেক ভূমিহীন-গৃহহীনকে ঘর-বাড়ি তৈরি করে এবং অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভরশীল ও আত্মমর্যাদাশীল করার লক্ষ্য নিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছি।’

‘দেশের উন্নয়নে তার সরকার অনেকগুলো মেগা প্রজেক্ট বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে,’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি আমরা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এখন জনগণের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতের চেষ্টা করে যাচ্ছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকার জনগণের সংবিধান স্বীকৃত প্রত্যেকটি মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করার জন্য পরিকল্পিত পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। সাথে সাথে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং প্রযুক্তি শিক্ষার দিকেও তারা বিশেষভাবে দৃষ্টি দিয়েছেন।

অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২০ বিজয়ীদের অভিনন্দিত করেন প্রধানমন্ত্রী। বাসস

‘সরকার কাজ করছে শহর ও গ্রামের ব্যবধান কমাতে’


এই নিউজ মোট   39    বার পড়া হয়েছে


জাতীয়



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.