07:04pm  Monday, 18 Jan 2021 || 
   
শিরোনাম



২৫ মার্চ গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি স্বীকৃতি পাওয়া উচিত
১৪ ডিসেম্বর ২০২০, সোমবার, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ২৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২



বিশেষ প্রতিবেদক: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের উদ্যোগে আয়োজিত একটি আন্তর্জাতিক ভার্চ্যুয়াল সম্মেলনে বক্তারা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে পাকিস্তানি সেনাদের দ্বারা গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি করেছেন। তাঁরা বলেন, ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সেনারা যে হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়েছে, তা আন্তর্জাতিক সংজ্ঞা অনুসারে নিঃসন্দেহে গণহত্যা। এর স্বীকৃতি পাওয়া উচিত।

‘একবিংশ শতাব্দীতে গণহত্যা ও গণসহিংসতা বিষয়ে চতুর্থ আন্তর্জাতিক সম্মেলন: ইতিহাস থেকে শিক্ষা’ শিরোনামের তিন দিনের ভার্চ্যুয়াল সম্মেলনটির প্রথম দিন ছিল রোববার। জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে সন্ধ্যা ছয়টা থেকে প্রায় চার ঘণ্টা ধরে দুটি অধিবেশনে বক্তারা কথা বলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ড. কামাল হোসেন।

সভাপতির বক্তব্যে ড. কামাল হোসেন বলেন, একাত্তরে গণহত্যায় পাকিস্তানি সেনাদের সঙ্গে এ দেশের কিছু মানুষও ভূমিকা রেখেছিল। একাত্তরের ঘটনাগুলো বিস্তারিতভাবে বই আকারে উঠে আসা দরকার। তরুণ প্রজন্মের এ ইতিহাস জানা দরকার। কারণ, স্বাধীনতাবিরোধীরা ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টায় রয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রশ্নোত্তরপর্বে এক প্রশ্নের জবাবে কামাল হোসেন বলেন, ধর্মের দোহাই দিয়ে গণহত্যা হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা রাখা হয়।

পাকিস্তানিরা জানতে চাইত, বাঙালি নাকি মুসলমান। জয় বাংলা বললে হত্যা করা হতো।

ভাস্কর্য ভাঙা নিয়ে আরেক প্রশ্নের জবাবে কামাল হোসেন বলেন, এর বিরুদ্ধে দলমত–নির্বিশেষে অবস্থান নেওয়া উচিত। স্বাধীনতার ৪৯ বছর পরও বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।

সম্মেলনে সাংবাদিক ও গবেষক অজয় দাশগুপ্ত বলেন, ২৫ মার্চ গণহত্যার কেন্দ্র ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তবে এর আগে ১ মার্চ থেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দেশজুড়ে পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ করেছিলেন। তিনি বলেন, জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থা গণহত্যার যে সংজ্ঞা দিয়েছে, সে অনুসারে ২৫ মার্চ পাকিস্তানি সেনারা যে হত্যাযজ্ঞ চালায়, তা ছিল গণহত্যা।

সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের পরিচালক অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এ দেশের ইতিহাসের, গর্বের সাক্ষী। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে গণহত্যার ঘটনা ঘটেছে, এখনো ঘটছে। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের গণহত্যার ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, ‘গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি কেন বাংলাদেশ পাচ্ছে না, সেটি একটি প্রশ্ন। আমরা স্বীকৃতি চাই।’

আরেক বক্তা সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজের গবেষণা সহযোগী জি এম আরিফুজ্জামান বিভিন্ন গবেষণা থেকে যুদ্ধের ৯ মাসে নারী ধর্ষণ ও নির্যাতনের তথ্য তুলে ধরে বলেন, নারী ধর্ষণের মাধ্যমে একটি জাতিকে কলুষিত করার মনোভাব থেকে পাকিস্তানিরা নির্যাতন চালায়। দুই লাখ নারী ধর্ষণের কথা বলা হলেও একটি গবেষণায় চার লাখ নারী ধর্ষণের তথ্য রয়েছে বলে তিনি জানান।

আরিফুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যা যেন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি না পায় এবং নারী ধর্ষণ–নির্যাতনের ঘটনাগুলোও যেন প্রচার না পায়, সে ব্যাপারে আর্ন্তজাতিক পর্যায়ে সক্রিয় রয়েছে কেউ কেউ।

কানাডাপ্রবাসী পারভেজ ইলাহী চৌধুরী একাত্তরে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, তাঁর পুলিশ কর্মকর্তা বাবা পাকিস্তানি আনুগত্য ত্যাগ করে যুদ্ধ করে শহীদ হন। এরপর তিনিসহ তাঁর ভাইদের বন্দী করে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়।

অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদের পরিচালনায় প্রথম অধিবেশনে আরও বক্তব্য দেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাহিদ আফরোজ কবির এবং ভারতের কলকাতার সুরেন্দ্রনাথ কলেজ ফর উইমেনের সহযোগী অধ্যাপক ব্রততী হোরে।

দ্বিতীয় অধিবেশনটি পরিচালনা করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানিত ফেলো অধ্যাপক রওনক জাহান। এ অধিবেশনে বক্তব্য দেন ভারতের নয়াদিল্লির জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফল হিস্টোরিক্যাল স্টাডিজের রিসার্চ স্কলার চেঙ্গিস খান ও গবেষক অর্পিতা মিত্র এবং ঢাকার সুইজার‍ল্যান্ড দূতাবাসের হেড অব হিউম্যানিটারিয়ান এইড কাটরি হোচ।

মণিপুর রাজ্য থেকে যোগ দেওয়া চেঙ্গিস খান সেখানে জাতিগত সহিংসতার কথা তুলে ধরেন। অর্পিতা মিত্র বসনিয়া যুদ্ধে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় সার্ব বাহিনীর নৃশংসতা, সেখানে জন্ম নেওয়া যুদ্ধশিশু এবং সেই শিশুদের ব্যবহার্য জিনিসপত্র নিয়ে একটি জাদুঘর গড়ে ওঠার কথা তুলে ধরেন।

ঢাকায় সুইজার‍ল্যান্ড দূতাবাসের হেড অব হিউম্যানিটারিয়ান এইড কাটরি হোচ কথা বলেন ডি ফ্যাক্টো দেশগুলোতে (বিভিন্ন রাজনৈতিক বা মতাদর্শের দলগুলোর নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ড, যাদের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নেই) ঘটতে থাকা মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা এবং সেসব এলাকায় জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভূমিকা নিয়ে।

আজ ১৪ ডিসেম্বর; আজকের দিনে জন্ম-মৃত্যুসহ যত ঘটনা


এই নিউজ মোট   2525    বার পড়া হয়েছে


মুক্তিযুদ্ধ



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.