12:35pm  Sunday, 17 Jan 2021 || 
   
শিরোনাম



অস্তিত্বহীন মানচিত্র তৈরিতে 'ভূতুড়ে' ঘটনা?
১২ জানুয়ারি ২০২১, মঙ্গলবার, ২৮ পৌষ ১৪২৭, ২৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪২



পুরো উনবিংশ শতাব্দী জুড়ে পশ্চিম আফ্রিকার প্রায় প্রতিটি মানচিত্রে কং পর্বতমালা দেখানো হয়েছে।
কং পর্বতমালার বিবরণে বলা আছে এই পর্বতমালার শৃঙ্গ আকাশছোঁয়া, কেউ কেউ বলেছেন এই পাহাড়ের চূড়া বছরের বেশিরভাগ সময় বরফে ঢাকা থাকে।
এই সুবিশাল পর্বতমালাকে উনবিংশ শতাব্দীতে পশ্চিম আফ্রিকার প্রায় সব মানচিত্রে বেশ স্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছে।
অথচ এই পর্বতমালা যুগ যুগ ধরে ইউরোপীয় পর্যটকদের জন্য শুধুই কল্পনার খোরাক জুগিয়েছে, এর আদতে কোন অস্তিত্বই কখনও ছিল না। তাহলে মানচিত্র যা একটা বৈজ্ঞানিক দলিল, তাতে এই পর্বতমালা স্থান পেল কীভাবে?
মানচিত্র তৈরিতে 'ভূতুড়ে' ঘটনা?
মানচিত্র তৈরির ইতিহাসে এই পর্বতমালা একটা ''ভূতুড়ে'' ঘটনার কিংবদন্তি হয়ে আছে, বলছেন সাংবাদিক এবং অন দ্য ম্যাপ বইয়ের লেখক সাইমন গারফিন্ড। মানুষ কীভাবে বিশ্বকে দেখে এবং মানচিত্র কীভাবে পৃথিবীকে দেখায় তার মধ্যেকার সম্পর্ক নিয়ে তিনি এই বই লিখেছেন।
স্কটল্যান্ডের একজন অভিযাত্রী মাঙ্গো পার্ক পশ্চিমের মানুষের কাছে প্রথম কং পর্বতমালার বর্ণনা দেন। তিনি আফ্রিকায় গিয়েছিলেন নিজার নদীর উৎস সন্ধানে এবং ১৭৯৫ থেকে ১৭৯৭ পর্যন্ত তার ওই অভিযানে তিনি আজকের সেনেগাল আর মালিতে গিয়ে পৌঁছেছিলেন।
আঠারোশ শতাব্দীর শেষ দিকে স্কটল্যান্ডের একজন অভিযাত্রী মাঙ্গো পার্ক পশ্চিমের মানুষের কাছে প্রথম কং পর্বতমালার বর্ণনা দিয়েছিলেন।
তার ভ্রমণ কাহিনি লন্ডনে প্রকাশিত হয় ১৭৯৯ সালে। ওই বইয়ের সাথে ছিল একটি মানচিত্র যেটি এঁকেছিলেন ইংরেজ মানচিত্র বিশারদ (কার্টোগ্রাফার) জেমস রেনেল।
ওই মানচিত্রে তিনি দেখান বিষুব রেখার দশ ডিগ্রি উত্তরে পশ্চিম আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অংশ বরাবর ছড়িয়ে আছে কং পর্বতমালা। কিন্তু কীভাবে যে তৈরি হয়েছিল সেই মানচিত্র তা একটা ভৌতিক রহস্য।
এই পর্বতমালার নাম দেয়া হয়েছিল কং শহরের নামে। কং রাজত্বের রাজধানী ছিল ওই কং শহর। তাদের রাজত্বের প্রাণকেন্দ্র ছিল বর্তমানের আইভরি কোস্ট এবং তার চারপাশ ঘিরে বার্কিনা ফাসোর বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে।
মরীচিকা নাকি আবিস্কার?
এটা প্রমাণ করা খুবই কঠিন যে, মি. পার্ক কি ওই পর্বতমালা আদৌ নিজের চোখে দেখেছিলেন, নাকি এই পর্বতমালার অস্তিত্ব তিনি আবিস্কার করেছিলেন?
"হয়ত তিনি পাহাড়ের মরীচিকা দেখেছিলেন, অথবা একগুচ্ছ মেঘ দেখে তার দৃষ্টিভ্রম হয়েছিল যেটাকে তিনি পর্বতমালা বলে মনে করেছিলেন,'' বলছেন ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরেটাস অধ্যাপক এবং পশ্চিম আফ্রিকার ভৌগলিক বিষয়ে বিশেষজ্ঞ টমাস ব্যাসেট।
"এরপর তিনি হয়ত অন্য পর্যটক ও বণিকদের জিজ্ঞেস করেছিলেন ওই জায়গায় কোন পর্বতমালা আছে কিনা এবং তারা হয়ত উত্তরে বলেছিলেন হ্যাঁ।"
তবে অধ্যাপক ব্যাসেট বিবিসিকে বলেছেন রহস্যের ইতি এখানেই নয়।
নিজার নদীর ওপরের সেতুর একটি খোদাই চিত্র
নিজার নদীর উৎপত্তি নিয়ে যে বিতর্ক রয়েছে তার মূলে রয়েছে কং পর্বতমালার 'আবিস্কার'
পশ্চিম আফ্রিকার সেই সময়কার ভৌগলিক মানচিত্র নিয়ে অন্যতম সবচেয়ে বড় এই রহস্য বুঝতে হলে "নিজার নদীর গতিপথ নিয়ে যে তত্ত্বগত বিতর্ক রয়েছে, এই কং পর্বতমালার অস্তিত্বকে সেই বিতর্কর পটভূমিতে বিচার করতে হবে।"
এই মানচিত্র বিশেষজ্ঞ মি. ব্যাসেট বলছেন, "কং পর্বতমালা যে আছে, সেটার মূল কারণ জেমস রেনেলের তৈরি মানচিত্র। এই পাহাড় নিয়ে পরস্পরবিরোধী অনেক তত্ত্ব রয়েছে। কিন্তু মি. রেনেল কং পর্বতমালাকে মানচিত্রে তুলে ধরেছেন তার নিজস্ব ব্যাখ্যার নিরিখে।"
'পশ্চিম আফ্রিকায় স্বর্ণ ভাণ্ডার'
সেসময়কার অন্যতম সবচেয়ে আস্থাভাজন ও সুপরিচিত ভূগোল বিশারদ মি. রেনেল যুক্তি দিয়েছিলেন যে, নিজার নদী আতলান্তিক মহাসাগর থেকে পূব মুখ দিয়ে আফ্রিকা মহাদেশে প্রবাহিত হয়েছে, এরপর ওই নদী স্থলভাগের কোন বদ্বীপের ভেতর হারিয়ে গেছে।
এখন কং পর্বতমালার অস্তিত্ব যদি সত্য হয়, তাহলে তার তত্ত্বও সত্যি বলে প্রমাণ করা সহজ হবে: অর্থাৎ বলা যাবে, এই বিশালায়াতন পাহাড়ে বাধা পাবার কারণেই নদীটি দক্ষিণ মুখে প্রবাহিত হয়ে বেনিন উপসাগরে পড়তে পারবে না।

কিন্ত বাস্তব সত্য হল নিজার নদী গাল্ফ অফ বেনিন উপসাগরে গিয়ে আসলেই পড়েছে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

শীতে ত্বক, চুল এবং ঠোঁটের যত্ন


এই নিউজ মোট   39    বার পড়া হয়েছে


ভিন্ন খবর



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.