08:45pm  Saturday, 04 Apr 2020 || 
   
শিরোনাম
 »  সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষে ত্রাণ বিতরণ করলেন আসাদুজ্জামান নূর     »  ৫ এপ্রিল চ্যানেল আইতে যা দেখবেন      »  কালীগঞ্জে ২শত পরিবারকে খাদ্রসামগ্রী দিরেন ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান      »  মেহের আফরোজ চুমকি’র মাধ্যমে ১ হাজার পরিবারে খাদ্যসামগ্রী বিতরন      »  পরিসংখ্যান বলে করোনায় মৃত্যুহারে ইতালির পরেই বাংলাদেশ!     »  করোনার সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশকে ১০০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দিচ্ছে বিশ্ব ব্যাংক     »  করোনাভাইরাস’র স্থায়ী প্রতিরোধে ওষুধ ও টিকার অপেক্ষায় মানুষ     »  অ্যান্টি-প্যারসিটিক বা পরজীবীনাশক ওষুধে মরবে করোনা     »  আট প্রজাতির করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বজুড়ে      »  দেশে ২ জনসহ করোনায় মারা গেলেন ৮জন, রোগী শনাক্ত ৯; মোট আক্রান্ত ৭০, সুস্থ ৩০ জন    



করোনাভাইরাস’র স্থায়ী প্রতিরোধে ওষুধ ও টিকার অপেক্ষায় মানুষ



নতুন করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার আগেই মানুষ এর নিয়ন্ত্রণ ও নিরাময়ের পথ খুঁজতে শুরু করে। এ পর্যন্ত টিকা ও ওষুধের ওপর শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই ৩৩৩টি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের নিবন্ধনের খবর পাওয়া গেছে। ইউরোপ ও এশিয়াতেও অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে। মানুষ তাকিয়ে আছে নতুন কোনো ওষুধ বা টিকার দিকে।

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া সংক্রমণ ঘটাচ্ছে একটি নতুন ভাইরাস। আগে ব্যবহৃত কোনো টিকা ব্যবহার করে নতুন ভাইরাস প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। আগে আবিষ্কৃত হওয়া কোনো ওষুধেও নতুন রোগ পুরোপুরি নিরাময় সম্ভব নয়। তাই সম্পূর্ণ নতুন টিকা আবিষ্কারের পথে নেমেছেন বিজ্ঞানীরা। অনেকে দেখছেন, আগে ব্যবহৃত কোনো ওষুধ নতুনভাবে ব্যবহার করা যায় কি না।

সামাজিক দূরত্ব, আইসোলেশন (বিচ্ছিন্নকরণ), কোয়ারেন্টিন (সঙ্গনিরোধ), লকডাউন (অবরুদ্ধ করা), হাত ধোয়া-এসব উপায় অবলম্বন করে ভাইরাস থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করছে বিশ্ববাসী। কিন্তু এর কোনোটি স্থায়ী সমাধান নয়। ব্যক্তিকে এই ভাইরাস থেকে রক্ষা করতে হলে ব্যক্তির শরীরেই প্রতিরোধের ব্যবস্থা গড়তে লাগবে টিকা। আর মানুষ আক্রান্ত হলে দরকার সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা, তার জন্য দরকার সুনির্দিষ্ট ওষুধ।

জানা গেছে, একাধিক ধাপ পেরিয়ে মানুষের ওপর তিনটি টিকার পরীক্ষামূলক প্রয়োগ শুরু হয়েছে। এই পরীক্ষা চলছে যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে, যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডে এবং চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে। এসব ট্রায়ালের সঙ্গে ৬৫০ জন মানুষ যুক্ত হয়েছেন। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ৪টি ওষুধ ও কয়েকটি ওষুধের সমন্বিত প্রয়োগ নিয়ে কাজ চলছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার টিকাবিষয়ক স্ট্র্যাটেজিক অ্যাডভাইজরি গ্রুব অব এক্সপার্টের সদস্য অধ্যাপক ফেরদৌসী কাদরী বলেন, ৩টি টিকা ১২ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে মানুষের ব্যবহারের উপযোগী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক টিকা অনুমোদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে অধ্যাপক কাদরী জড়িত আছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসি বিভাগের অধ্যাপক সিতেশ চন্দ্র বাছার বলেন, নতুন টিকা বা ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে বৈশ্বিকভাবে নিবন্ধনের প্রয়োজন হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে নিবন্ধন করলে বিশ্বব্যাপী তার গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। ইউরোপেরও নিবন্ধনের ব্যবস্থা আছে।

ক্লিনিক্যালট্রায়েলডটঅর্গ ওয়েবসাইটে প্রায় সব চলমান ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের তথ্য আছে। তাতে দেখা যায়, ইতিমধ্যে ৩৩৩টি ট্রায়ালের কাজ চলছে। এসব ট্রায়াল হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, চীনসহ এশিয়ার একাধিক দেশে। এসব ট্রায়ালের মধ্যে ২০টি হচ্ছে টিকার। বাকিগুলো হচ্ছে রোগ নিরাময়ে ওষুধ তৈরি ও রোগ প্রতিরোধে অন্যান্য কার্যকর পন্থা উদ্ভাবনের জন্য।

 গত বুধবার জেনেভায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউওইচও) প্রধান তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেছেন, কোভিড-১৯-কে প্রতিরোধ করতে মোট চারটি ওষুধ ও কয়েকটি ওষুধের সমন্বিত প্রয়োগ নিয়ে কাজ চলছে। অনেক দেশ এসব ওষুধের পরীক্ষামূলক প্রয়োগে এগিয়ে এসেছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৭৪টি দেশ এই কাজে অংশ নিয়েছে বা অংশ নেওয়ার প্রক্রিয়ায় আছে। দুই শতাধিক রোগীকে বিভিন্ন গবেষণা কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। কোভিড-১৯ প্রতিরোধে কোন ওষুধ কার্যকর হবে, সেটি জানতে প্রত্যেক রোগীই সহায়তা করছেন।

সিতেশ চন্দ্র বাছার প্রথম আলোকে বলেন, ভাইরাসের জন্য আগেই আবিষ্কৃত ওষুধ নতুন করে কীভাবে ব্যবহার করা যায়, সেই গবেষণা হচ্ছে। আবার কোভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হওয়ার পর তাঁদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। সেই অ্যান্টিবডি কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেই গবেষণাও হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান জনসন অ্যান্ড জনসন (জেঅ্যান্ডজে) জানিয়েছে, আগামী সেপ্টেম্বর মাস নাগাদ মানবদেহে করোনাভাইরাসের প্রতিষেধকের পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা করছে তারা। আগামী বছরের শুরুতে এই প্রতিষেধক বাজারে ছাড়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। গত সোমবার জনসন অ্যান্ড জনসনের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা এসেছে।

জনসন অ্যান্ড জনসন বলেছে, জানুয়ারি মাস থেকেই টিকা তৈরিতে কাজ শুরু করেছে তারা। এ জন্য তারা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের বায়োমেডিকেল অ্যাডভান্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (বিএআরডিএ) সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। এ ক্ষেত্রে গবেষণা ও পরীক্ষার জন্য তহবিল জোগাতে ১০০ কোটি মার্কিন ডলার সরবরাহ করা হচ্ছে।

গত সপ্তাহে চীনের স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত রোগীদের জন্য জাপানে ব্যবহৃত একধরনের ওষুধ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চীনে কার্যকর হয়েছে। জাপানের গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান–এর প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

চীনের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেছিলেন, জাপানের ফুজি ফিল্ম কোম্পানির সহযোগী প্রতিষ্ঠান টয়ামা কেমিক্যালের তৈরি করা ওষুধটি উহান ও শেনজেন শহরে করোনায় সংক্রমিত ৩৪০ জন রোগীর ওপর প্রয়োগ করে আশাব্যঞ্জক ফল পাওয়া গেছে। শেনজেনে যেসব রোগীকে জাপানের এ ওষুধ দেওয়া হয়েছে, তাঁদের সবাই চার দিনের মধ্যেই সেরে উঠেছেন। আর যাঁদের এ ওষুধ দেওয়া হয়নি, তাঁরা সারতে ১১ দিন সময় নিয়েছেন। এর পাশাপাশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি যাঁরা এ ওষুধ পেয়েছেন, তাঁদের ফুসফুসের অবস্থাও ৯১ শতাংশ সেরে উঠেছে। আর যাঁদের এ ওষুধ দেওয়া হয়নি, তাঁদের ফুসফুসের অবস্থার ৬২ শতাংশ উন্নতি ঘটেছে।

করোনাভাইরাস মহামারি ঠেকানোর বৈশ্বিক দৌড়ে শামিল হয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির জাতীয় বিজ্ঞান সংস্থার পক্ষ থেকে গত তাহে বলা হয়েছে, তারা কোভিড-১৯-এর সম্ভাব্য প্রতিষেধক পরীক্ষার প্রথম পর্যায়ের কাজ শুরু করেছে।

আরো পড়ুন: অ্যান্টি-প্যারসিটিক বা পরজীবীনাশক ওষুধে মরবে করোনা


এই নিউজ মোট   40    বার পড়া হয়েছে


স্বাস্থ্য কথা



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.