03:25pm  Monday, 18 Nov 2019 || 
   
শিরোনাম
 »  ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মওলানা ভাসানীর ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত     »  দৃষ্টি কাড়তে আমির-কন্যার ফটোশুট     »  প্রথম পুরস্কার দুই কেজি দেশি, দ্বিতীয় দুই কেজি ভারতীয়, তৃতীয় দুই কেজি পাকিস্তানি পিয়াজ!     »  দিনাজপুরে বাজারে নতুন পাতা পিয়াজ     »  ধেয়ে আসছে বুলবুলের চেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় নাকরি     »  আমাকে নির্যাতন করা হয়েছে খেতেও দেওয়া হত না     »  অফিসে বসে বাবা দেখছিলেন- অমানবিক? লোমহর্ষক? বীভৎস নির্যাতন?     »  সাবিলা নূর মধুচন্দ্রিমায় সময় কাটাচ্ছেন!     »  ১০ বছর বয়সী খেলার সঙ্গী পাঁচ বছরের শিশুকে গলা কেটে হত্যা     »  নতুন পরিবহন আইনের উদ্দেশ্য সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, জরিমানা নয়!   



নতুন পরিবহন আইনের উদ্দেশ্য সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, জরিমানা নয়!



নতুন সড়ক পরিবহন আইনে রাস্তায় নিয়ম ভঙে জরিমানা বেড়েছে ১০ থেকে হাজার গুণ। বেড়েছে কারাদণ্ড। পরিবহন মালিক-চালকদের শুধু জেল জরিমানা করা নয়, আইনের উদ্দেশ্য সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা। 

সরকারের মন্ত্রী, নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ সংস্থা এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এ কথা বলেছে। অবশ্য পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের দাবি, শাস্তি দিয়ে সড়কে স্বস্তি আসবে না। নতুন আইন অনেক কঠোর, আবার ত্রুটিও রয়েছে।

রোববার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এমন পাল্টাপাল্টি বক্তব্য এসেছে। এসিআই মোটরস এর সহযোগিতায় নিরাপদ সড়ক চাই'র (নিসচা) আয়োজনে এ গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফির সঞ্চলনায় গোলটেবিল আলোচনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম, নিসচা চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন, হাইওয়ে পুলিশের প্রধান ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান, সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ড. কামরুল আহসান, সাবেক চেয়ারম্যান আইয়ুবুর রহমান, ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক খন্দকার রাকিবুর রহমান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) মফিজ উদ্দীন আহম্মেদ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, ঢাকা মহানগর পুলিশের উত্তর ট্রাফিকের উপ-কমিশনার প্রবীর কুমার রায়, ট্রাক কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি তোফাজ্জল হোসেন মজুমদার, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রয়াত সাংবাদিক মিশুক মুনীরের স্ত্রী মঞ্জুলী কাজী, এসিআই মোটরস এর বিজনেস ম্যানেজার রবিউল হক। ধন্যবাদ বক্তব্য দেন নিসচা'র মহাসচিব সৈয়দ এহসানুল হক কামাল।

মুস্তাফিজ শফি বলেন, সমকাল শুধু সংবাদ প্রকাশে সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। সমাজ সচেতনতায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে। সড়কে মৃত্যু বন্ধে, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় সমকাল সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে। তারই অংশ হিসেবে গোলটেবিল আলোচনায় অংশীজন হয়েছে।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আড়াই দশক আন্দোলনের স্বীকৃতি হিসেবে একুশে পদকপ্রাপ্ত ইলিয়াস কাঞ্চন প্রারম্ভিক বক্তব্যে বলেন, সড়ক পরিবহন আইন কার্যকরের পরও ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে গাড়ির কাগজপত্র হালনাগাদে। বারবার ছাড় দেওয়া হলে মানুষের মধ্যে আইন মানার মানসিকতা থাকে না। 

ইলিয়াস কাঞ্চন আরও বলেন, নতুন আইন খুবই ভাল হয়েছে। একটি বাস রাস্তায় চললে দিনে ১০ হাজার টাকা আয় হয়। ৫০০ টাকা জরিমানা দিয়ে তাই ফিটনেসবিহীন গাড়ি সড়কে চলত। নতুন আইনে কর্মকর্তাদের দুর্নীতি, অবহেলা দুর্ঘটনা ঘটলে তাদেরও বিচারের আওতায় আনা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন আইনকে মালিকবান্ধব বলে আখ্যা দেন মঞ্জুলী কাজী। তিনি বলেছেন, আইনের ১০৫ ধারায় বলা হয়েছে দণ্ডবিধির ৩০৪(খ) ধারায় বিচার হবে। এ ধারায় সর্বোচ্চ সাজা বলা হয়েছে ৫ বছর জেল। প্রাণহানির ক্ষেত্রে জরিমানার যে অর্থ নির্ধারণ করা হয়েছে তা নগণ্য। উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মারা গেলে, তার পরিবারের যে দুরাবস্থা হয়, তা এই সামান্য ক্ষতিপূরণে পূরণ হবার নয়। যাত্রীর জন্য বিমা সুবিধা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

এর জবাবে খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, মালিক শ্রমিকরাই নতুন আইন প্রণয়নের দাবি তুলেছিলেন। কিন্তু যে আইন পাস হয়েছে, তাতে তাদের দাবি টেকেনি। এই আইন মালিকদের আইন না। মালিক শ্রমিকরা এদেশেরই মানুষ। ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, আইনে ট্রাস্ট গঠনের কথা বলা হয়েছে। গাড়ির বিমার টাক ট্রাস্টের তহবিলে জমা দিলে হাজার কোটি টাকা হবে। তা দিয়ে ক্ষতিপূরণ দেওয়া যাবে। সড়কে মৃত্যুতে ৫ বছর সাজা কম- এ বক্তব্যের জবাবে খন্দকার এনায়েত বলেন, এ বিষয়ে ভুল বার্তা যাচ্ছে। যদি প্রমাণ হয় চালক ইচ্ছা করে কাউকে মেরেছেন, তাহলে ৩০২ ধারাতেই মামলা হবে। এ ধারায় সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড।

আইনের তিনটি ধারা জামিন অযোগ্য করা হয়েছে। এর সংশোধন চেয়ে খন্দকার এনায়েত বলেন, এমনিতেই চালক সঙ্কট। চালকদের যদি ধরে জেলে রাখা হয়, তবে গাড়ি চালাবে কে?

যত্রতত্র সড়ক পারাপার ও ফুটপাথ ব্যবহার না করলে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকার জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এরও সংশোধন দাবি করে এনায়েত উল্যাহ বলেন, সড়কে হাঁটে গরিব মানুষ, শ্রমিকরা, বড়লোক গাড়িতে চড়ে। যদি গরিব শ্রমজীবী মানুষদের এত বড় অঙ্কের জরিমানা করা হয়, তবে তাদের মাসের পুরো আয় চলে যাবে জরিমানা পরিশোধে।

এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জরিমানা আদায় করা মুখ্য উদ্দেশ্য নয়, সরকার চায় সবাই আইন মেনে চলুক। নতুন সড়ক পরিবহন আইনের মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা প্রধান উদ্দেশ্য। আইনের উদ্দেশ্য সড়কে যেনো ফিটনেসবিহীন গাড়ি, লাইসেন্সবিহীন চালক না থাকে।

>পরিবহন খাত সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে সমালোচনা আসলেও সকলের মধ্যেই আইন মানার উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে বলে মনে করেন আসাদুজ্জামান খান। তিনি বলেন, গাড়ির ফিটনেস পরীক্ষায় কিংবা ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য বিআরটিএতে এখন প্রচণ্ড ভিড়। আইন মানার মানসিকতা আছে বলেই, এ ভিড়। আজকে যারা নানান কথা বলছেন, কাল তারাই মেনে চলবেন।

মন্ত্রী বলেন, নতুন সড়ক পরিবহন আইন সংসদে পাস হয়ে গেছে, এ নিয়ে এখন কিছুই করার নেই। কিছু করতে হলে আবার সংসদে যেতে হবে। পরিবহন মালিক শ্রমিকরা আইন সংশোধনের যে দাবি জানাচ্ছেন, তা সরকার যদি যৌক্তিক মনে করে তাহলে বিবেচনা করবে। মালিক শ্রমিকরা আইন মেনে অতীতে সরকারকে সহযোগিতা করেছে, ভবিষ্যতেও করবে।

চালক ইচ্ছা করে দুর্ঘটনা ঘটালে তাহলে ৩০২ ধারায় মামলা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সড়ক পরিবহন আইন জামিনযোগ্য করার দাবির জবাবে তিনি বলেছেন, জামিনের এখতিয়ার আদালতের। চালকের ভূমিকা পর্যালোচনা করে বিচারক জামিন দিতে চাইলে দেবেন।

দেশে প্রতিদিন গড়ে ২০ জন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে বলে পরিসংখ্যান দিয়ে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, কিডনি, হৃদরোগে যত মানুষের মৃত্যু হয়, সড়কে তারচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়। ক্র্যাশ কর্মসূচির মাধ্যমে বিআরটিএ চালক সঙ্কট সমাধান করবে বলে আশা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

যত্রতত্র সড়ক পারাপার ঠেকাতে ঢাকায় চলন্ত সিঁড়িযুক্ত ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনার তুলে ধরেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। পথচারী, চালক, শ্রমিকদের জন্য অত্যধিক জরিমানার বিধান রয়েছে আইনে, এ সমালোচনার জবাবে মেয়র বলেন, আইন বাস্তবায়নে যা করার, করতে হবে। যখন পরিবর্তন হবে, তখন হবে। কিন্তু যতক্ষণ আইন আছে, ততক্ষণ মেনে চলতে হবে।

গণপরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. মিজানুর রহমান বলেছেন, শুরুতেই হোঁচট খেয়েছে সড়ক পরিবহন আইন। আইন কার্যকরের পর ১৪ দিন ছাড় দেওয়া ঠিক হয়নি। বরং আগে সচেনতা অভিযান চালিয়ে তারপর আইন কার্যকর করা উচিত ছিল।

অবৈধভাবে আকার প্রকৃতির পক্ষে যুক্তি দিয়ে গাড়ির ট্রাক কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি হাজী তোফাজ্জল বলেন, বিদেশে মেশিনের মাধ্যমে মালামাল তোলা হয়। বাংলাদেশ মাল লোড আনলোড করে শ্রমিকরা। এ কারণে কাভার্ড ভ্যানের দৈর্ঘ ২০ ফুট থেকে বাড়িয়ে ২২ ফুট করা হয়। এতদিন এই দৈর্ঘ্যেই ফিটনেস পেয়েছেন। এখন তারা কীভাবে এই বাড়তি অংশ কাটবেন। আকৃতি পরিবর্তনে ৩ লাখ টাকা জরিমানা ধরা হয়েছে। এত জরিমানা দিয়ে গাড়ি চালানো সম্ভব না। চালকরা সব বাড়ি চলে গেছে। কেউ গাড়ি চালাতে রাজি নয়।

আইনে অনেক ত্রুটি রয়েছে বলে অভিযোগ শ্রমিক নেতা ওসমান আলীর। তিনি বলেছেন, আইন কার্যকর হয়ে গেছে, অথচ ট্রাস্ট গঠিত হয়নি। মৃত্যুর ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, ৩০৪ (খ) ধারায় যাই থাকুক না কেনো ৫ বছর জেল হবে। প্রকৃত দুর্ঘটনাতেও কারো মৃত্যু হলে কি ৫ বছর জেল হবে! এই আইন দিয়ে শাস্তি দেওয়া যাবে, কিন্তু সড়কে স্বস্তি দেওয়া যাবে না। আইনে শ্রমিকদের সুরক্ষা নেই।

বিআরটিএ চেয়ারম্যান বলেন, আইনের সীমাবদ্ধতা না খুঁজে, কীভাবে আইন বাস্তবায়নের মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা যায়, সেই পথ খুঁজতে হবে। আইনে অনেক কিছু নেই, যা বিধিমালায় স্পষ্ট হবে। বিধিমালা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। বিআরটিএ ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইন প্রয়োগ করে। সড়ক পরিবহন আইন কার্যকর হলেও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য আইনটি তফসিলভুক্ত হয়নি। যা দুই একদিনের মধ্যেই হয়ে যাবে। এরপর বিআরটিএ কঠোরভাবে আইনের প্রয়োগে যাবে।

তিন বছর ধরে চালক প্রশিক্ষণ স্কুল পরিচালনা করছে এসিআই মোটরস। প্রতিষ্ঠানটির বিজনেস ম্যানেজার রবিউল হক এ তথ্য জানিয়ে বলেন, সড়কের নিরাপত্তায় চালকের প্রশিক্ষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এসিআই চালক সৃষ্টিতে গুরুত্ব দিচ্ছে। দক্ষ চালক থাকলে দুর্ঘটনা কমে আসবে।

গোলটেবিল আলোচনায় আরও উপস্থিত ছিলেন নিসচা'র যুগ্ম মহাসচিব সাদেক হোসেন বাবুল, লিটন এরশাদ, বেলায়াত হোসেন খান ও সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আজাদ হোসেনসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা।
এই নিউজ মোট   22    বার পড়া হয়েছে


মুক্তমত



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.