11:34pm  Sunday, 19 Jan 2020 || 
   
শিরোনাম
 »  আইসিসির পক্ষ থেকে পাকিস্তান সফরে চাপ ছিল     »  সাঈদ খোকনকে নির্বাচনে সহযোগিতা করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর     »  শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা হরিজন শিশুকে স্কুলে যেতে বাধ দিলেন     »  শিক্ষার্থীদের সামাজিক উন্নতিতে মনোনিবেশ করতে হবে      »  প্রধানমন্ত্রীর ই-পাসপোর্টের জন্য ফটো নেওয়া হয়েছে     »  এন্ড্রু কিশোরের চিকিৎসায় পূর্ণ সহায়তা দেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর     »  জাতির সমৃদ্ধির জন্য শিক্ষিত জনগণ সবচেয়ে বেশি কার্যকর     »  বিএনপি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে     »  জোড়া মাথার শিশু রাবেয়া-রোকেয়া ভাল আছে     »  আতিকের আচরণ বিধি লংঘনের অভিযোগ, ইসির ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ    



সোনামসজিদ বন্দরে বকশিসের নামে চাঁদাবাজির অভিযোগ



শিবগঞ্জ সংবাদদাতা: দেশের বৃহত্তম দ্বিতীয় স্থলবন্দর চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজি বন্দরে পানামা ইয়ার্ডের ভেতর ট্রাক প্রতি ভারতী হয়। আমদানিকারক প্রতিনিধি ও সিএন্ডএফ প্রতিনিধিকে ৭৫০ টাকা করে দিতে হয়। গত বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর ভারতের মহদিপুর সীমান্ত ট্রাক অর্নারস ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সনজিৎ ঘোষ স্বাক্ষরিত এক অভিযোগে জানা যায়- মহদিপুর স্থলবন্দর থেকে পণ্যভর্তি ট্রাক সোনামসজিদ বন্দরের ১ নম্বর গেটে কাছে পৌঁছা মাত্র কয়েকজন লোক সিরিয়াল দেয়ার নামে প্রথমেই ভারতীয় ১০-১২ টাকা নিয়ে থাকে। পানামা ১ নম্বর গেটে প্রবেশের পর দ্বিতীয় দফায় গোল ঘরে ৩৮০ টাকা নিয়ে থাকে। এর পর পানামা প্রবেশ ফ্রি ১৩০ টাকা। পানামার ভেতরে পণ্য আনলোডের জন্য শ্রমিকদের ১৩০ টাকা বকশিসসহ মোট ৫৫০ টাকা দিে এই টাকা না দিলে তারা পণ্যের গুণগত মান খারাপ, ওজনে কম লিখে দেয় চালকদের। এই ভাবে ভারতীয় একজন ট্রাক চালককে বকশিসের নামে দফায় দফায় দিতে হয় ভারতীয় প্রায় ২ হাজার টাকা।

এছাড়াও পানামা ও বাহিরের ব্যক্তিগত ইয়ার্ডে পণ্য খালাসের পর ভারতীয় খালি ট্রাক থেকে বিভিন্ন গেটে বকশিসের নামে চাঁদা দিতে হয়। একই অভিযোগ চলতি বছরের ৮ জানুয়ারী মহদিপুর এক্সপোর্টার এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক প্রসেজিৎ ঘোষ স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ পত্র সোনামসজিদ আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বরাবর দিয়েছেন। অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে- বকশিসের নামে চাঁদাবাজির বিষয়ে জরুরী ভিত্তিতে একটি আলোচনায় বসে বাণিজ্যিক গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষে সুষ্ঠ সমাধান করা জরুরী প্রয়োজন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে সোনামসজিদ স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুর রহমান বাবু ও সোনামসজিদ সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা উভয় মহদিপুর সীমান্ত ট্রাক অর্নারস ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের অভিযোগ সত্যতা কিছুটা স্বীকার করে জানান, এ সমস্ত বকশিসের নামে চাঁদাবাজি পানামা ইয়ার্ডের ভেতরে হয়ে থাকে।

এ বিষয়ে পানামা কর্তৃপক্ষকে বকশিসের নামে বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজি বন্ধের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। অন্যদিকে ভারতীয় অভিযোগ ও সোনামসজিদ আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুর রহমান বাবু ও সোনামসজিদ সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদের বকশিসের নামে চাঁদাবাজির বিষয়ে পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার বেলাল হোসেন ও ডেপুটি ম্যানেজার মাইনুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, পানামার ভেতরে বকশিসের নামে কিছু কিছু চাঁদাবাজি হয়। কিন্তু পানামার কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত নয়। পানামা শুধুমাত্র বাংলা ও ভারতীয় ট্রাক প্রবেশের পথে ১৩০ টাকা প্রবেশ ফ্রি নেয়া হয়।

বকশিসের নামে চাঁদাবাজির বিষয়ে জানতে চাইলে তারা জানায়, আমদানিকারকদের প্রতিনিধিরা ট্রাক থেকে পণ্য খালাসের পর রিসিভ দেয়ার সময় ভারতীয় ট্রাক চালকদের কাছ থেকে ভারতীয় ৫শ’ টাকা দিতে হয়। অপরদিকে সিএন্ডএফ এজেন্ট প্রতিনিধিরাও পণ্য খালাসের পর ৭৫০ টাকা নিয়ে থাকে। এছাড়াও ৫নং গেট, ৩নং নম্বর ও ১নং গেটেও বকশিস দিতে হয়। এই বক্তব্য শুধু পানামার নয়, ভারতীয় একাধিক ট্রাক চালকের। গত বৃহস্পতিবার অভিযোগের বিষয়ে সুনীল ঘোষ, সন্তোষ কুমার, জামিরুলসহ একাধিক ট্রাক চালকদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে অবিলম্বে বকশিসের নামে চাঁদবাজির থেকে রেহাই পেতে চায়।

এ ব্যাপারে পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংক লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার বেলাল হোসেন ও সোনামসজিদ আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুর রহমান বাবু, সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ এ প্রতিবেদককে জানান, ২০১৪-১৫ সালে উভয় বন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক এসোসিয়েশন, সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশন ও ট্রাক চালক সমিতির মধ্যে এক আলোচনায় ভারতীয় পণ্যভর্তি ট্রাক থেকে পণ্য খালাসের পর কোন পণ্যে কোন টাকা বকশিস দেয়া-নেয়া হবে তা লিখিতভাবে সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়।

কিন্তু সোনামসজিদ বন্দরের বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট চারটি সংগঠনের দপ্তরে বহু চেষ্টা করেও ওই সিদ্ধান্তের লিখিত কপি পাওয়া যায়নি। শুধু তাই নয়, ভারতীয় স্থলবন্দরের সংগঠনগুলোও ওই সিদ্ধান্তের কপি দিতে পারেননি। তবে উভয় বন্দরের সংগঠনগুলোর জরুরী ভিত্তিতে আলোচনার মাধ্যমে বকশিসসহ অন্যান্য সমস্যাগুলো সমাধান করা উচিত বলে ব্যবসায়ীরা দাবি জানিয়েছেন।


মোহা: সফিকুল  ইসলাম
শিবগঞ্জ,

এই নিউজ মোট   25    বার পড়া হয়েছে


অনুসন্ধানী



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.