07:52pm  Saturday, 21 Sep 2019 || 
   
শিরোনাম



মানসিক ভারসাম্যহীন দাদনের শুধু শেকলবন্দি জীবন



মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের জায়গির গ্রামের আব্দুল জব্বার হাওলাদারের ছেলে দাদন হাওলাদার স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়েকে হারিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছেন। এতে তার মা-বাবা তাকে এক বছরের বেশি সময় ধরে একটি ছোট ঘরে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছেন। ছোট ঘরটিতে পায়ে শিকল পরা অবস্থায় দিন কাটাতে হচ্ছে দাদন হাওলাদারের।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ছোটবেলা থেকেই দাদন একটু সহজ সরল প্রকৃতির মানুষ। অন্যের জমি বর্গা চাষ করতেন ও কখনো আবার অন্যের ক্ষেত-খামারে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। এভাবে স্ত্রী মোকসেদা বেগম, এক ছেলে  ইয়ামিন (৪) ও বড় মেয়ে জান্নাত (১২), ছোট মেয়ে মিমি (৮) কে নিয়ে কোনো রকম দিনযাপন করতেন। ছোটভাই খবির হাওলাদার দাদানের সাথে থাকতেন। তিনটা বিয়ে করার পরও তার কোনো স্ত্রী তার সাথে না থাকায় তিনি আপন বড় ভাইয়ের স্ত্রী (দাদনের স্ত্রী) ও ছেলে-মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে ঢাকা চলে যান। এতেই দাদন বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

দাদনের এ অবস্থা দেখে এলাকার লোকজন তার বাবা-মাকে বলে দাদনকে জিনে ধরেছে। এ অবস্থায় তার বাবা-মা কোনো উপায় না পেয়ে তাকে ছোট একটি ঘরের মধ্যে পায়ে লোহার শিকল দিয়ে বেঁধে রাখেন। এক বছরের বেশি সময় বাবা-মা তাকে কবিরাজি চিকিৎসা, বিভিন্ন ফকির ও হুজুর দিয়ে জিন তাড়ানোর চিকিৎসা করেছেন। কিন্তু তাতে ভারসাম্যহীন দাদনের কোনো উন্নতি হয়নি।

ভারসাম্যহীন দাদন বলেন, আমাকে ছেড়ে দেন। আমি হাটে-বাজারে যাব, ঘুরে ফিরে জীবন কাটাবো। শিকল পরা অবস্থায় আমার থাকতে ভালো লাগে না।

চাচাতো ভাইয়ে ছেলে সালাউদ্দিন বলেন, আমার চাচা দেড় থেকে দুই বছর পূর্বেও সুস্থ মানুষ ছিলেন। এখন মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েছে। তাকে ভালো ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করালে ভালো হয়ে যাবেন।

দাদনের চাচা নূর মোহাম্মদ হাওলাদার বলেন, প্রথমে আমরা শিকল দিয়ে বেঁধে রাখতাম না। তখন দেখলাম গ্রামের বিভিন্ন দিকে এলোমেলো ছুটে যেত আবার কখনো মানুষকে মারধর করতো, শরীরে পোশাক রাখতো না। পরে বাধ্য হয়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখছি।

দাদনের মা বলেন, আমরা গরিব মানুষ। নিজেরা ঠিকভাবে খেতে পারি না। টাকার অভাবে ছেলেটাকে চিকিৎসা করাতে পারি না। আমি ও আমার স্বামী আমরা দুজনেই বৃদ্ধ মানুষ কোথা নিয়ে চিকিৎসা করাব, কার কাছে নিয়ে যাব তাও জানি না। সরকার যদি আমার ছেলের চিকিৎসা করায় তা হলে আমার ছেলেটা ভালো হয়ে যাবে। আমি আপনাদের মাধ্যমে সরকারের কাছে আবেদন জানাই সরকার যেন আমার ছেলের চিকিৎসা করায়

লক্ষ্মীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী তোফাজ্জেল হোসেন (গেন্দু কাজী) বলেন, শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার বিষয়টি দুঃখজনক। যেহেতু বেশি দিন হয়নি সেক্ষেত্রে পাবনার সরকারি মানসিক হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করলে আমার মনে হয় ঐ যুবক ভালো হবে। এ ক্ষেত্রে আমার যদি কোনো সহযোগিতার প্রয়োজন হয় তা হলে আমি সেটা করব।

কালকিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আমি বিষয়টি জানতাম না। আপনাদের মাধ্যমে জানলাম। তার পরিবার যদি অর্থের অভাবে চিকিৎসা করতে না পারে সে ক্ষেত্রে আমাদের কাছে সহযোগিতা চাইলে আমরা সহযোগিতা করব। জোরপূর্বক যদি কেউ শিকল দিয়ে বেঁধে রাখে তা হলে আইনগত ব্যবস্থা নেব।


এই নিউজ মোট   660    বার পড়া হয়েছে


পুরুষ অধিকার



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.