11:36pm  Sunday, 19 Jan 2020 || 
   
শিরোনাম
 »  আইসিসির পক্ষ থেকে পাকিস্তান সফরে চাপ ছিল     »  সাঈদ খোকনকে নির্বাচনে সহযোগিতা করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর     »  শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা হরিজন শিশুকে স্কুলে যেতে বাধ দিলেন     »  শিক্ষার্থীদের সামাজিক উন্নতিতে মনোনিবেশ করতে হবে      »  প্রধানমন্ত্রীর ই-পাসপোর্টের জন্য ফটো নেওয়া হয়েছে     »  এন্ড্রু কিশোরের চিকিৎসায় পূর্ণ সহায়তা দেয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর     »  জাতির সমৃদ্ধির জন্য শিক্ষিত জনগণ সবচেয়ে বেশি কার্যকর     »  বিএনপি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে     »  জোড়া মাথার শিশু রাবেয়া-রোকেয়া ভাল আছে     »  আতিকের আচরণ বিধি লংঘনের অভিযোগ, ইসির ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ    



গানের প্রসঙ্গ এলেই পালানোর চেষ্টা করতাম



'পেছনের দিনগুলো আমার কাছে স্বপ্নের মতো। লাকী চাচার [লাকী আখন্দ] কাছে কি-বোর্ড শেখা, নতুন কুঁড়ির শিরোপা জয়, স্কুলপড়ূয়া কিশোরী হয়ে সিনেমায় প্লেব্যাক, টিভি অনুষ্ঠানে গান গাওয়া- এ যেন সত্যি নয়, সবই স্বপ্ন। কেন এ কথা বলছি, তা জানতে হলে পেছনের দিনগুলোয় ফিরে যেতে হবে। বলতে হবে সেই সময়ের কথা, যখন গানের প্রসঙ্গ এলেই আমি পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করতাম। সে সময় নাটক, রেডিওতে শিশুদের অনুষ্ঠানে সংবাদ পাঠ করার অভিজ্ঞতাও হয়েছিল। কিন্তু সংগীত বলয়ে বেড়ে উঠতে থাকা এই আমি গান থেকেই পালিয়ে বেড়ানোর চেষ্টা করতাম। এমন নয় যে, গানের প্রতি আমার কোনো দুর্বলতা ছিল না। ছিল, তবে শিল্পী হওয়ার কোনো বাসনা লালন করিনি। নুমা [ফাহমিদা নবী] চমৎকার গাইত, এখনও গায়। শৈশব থেকেই আমি নুমার গায়কির ভক্ত। চাইতাম নুমা গাইবে, আমি তার সঙ্গে কি-বোর্ড বাজাব। সে ইচ্ছা থেকেই লাকী চাচার কাছে কি-বোর্ড শিখেছি। অথচ হঠাৎ করেই সবকিছু ওলটপালট হয়ে গেল। বাবার অবাধ্য এই সংগীত শিক্ষার্থীকে অংশ নিতে হলো 'নতুন কুঁড়ি' প্রতিযোগিতায়। তখন সবেমাত্র ওস্তাদ মোশাদ আলীর কাছে গানের হাতেখড়ি হয়েছে। কেমন গাইব, তা নিয়ে ভাবার অবকাশ ছিল না। অনেকটা হুজুগে পড়েই প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়েছিলাম। কিন্তু সবাইকে চমকে দিয়ে দেশাত্মবোধক গানে অর্জন করেছিলাম প্রথম স্থান। এই সাফল্যে অন্যদের মতো নিজেও বিস্মিত হয়েছি। আরও বিস্মিত হয়েছিলাম যখন আলাউদ্দিন চাচা [আলাউদ্দিন আলী] প্লেব্যাক করার কথা বলেছিলেন। স্কুলের গণ্ডি পেরুনোর আগেই প্লেব্যাক করব- এটা ছিল ভাবনার অতীত। কিন্তু আলাউদ্দিন চাচার ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দিতে হয়েছিল। ১৯৮১ সালে অষ্টম শ্রেণিপড়ূয়া এই আমি হয়ে গিয়েছিলাম প্লেব্যাক শিল্পী। সেই শুরু, এরপর আর থেমে থাকার সুযোগ হয়নি। এভাবেই গাইতে গাইতে কখন যে চার দশকের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এসেছি, বুঝতেই পারিনি।' চার দশকের পথ-পরিক্রমা নিয়ে এক নাগাড়ে এ কথাগুলো বলে গেলেন নন্দিত কণ্ঠশিল্পী সামিনা চৌধুরী।

তার শিল্পীজীবন গানের মতোই বাস্তব হয়ে ধরা দিয়েছে। যে গানে তিনি বলেছেন, 'ফুল ফোটে, ফুল ঝরে; ভালোবাসা ঝরে পড়ে না...।' সত্যি তার জীবনটা কেটে যাচ্ছে গান নামক কথা ও সুরের ফুল ফোটানের মধ্য দিয়ে। যার বিনিময়ে তিনি পেয়েছেন অগণিত শ্রোতার ভালোবাসা। যে ভালোবাসা তাকে সিক্ত করেছে চার দশক ধরে। শ্রোতার এই ভালোবাসা কখনোই ঝরে পড়েনি। বরং দিন দিন তা বেড়েই চলেছে।

মঞ্চ, রেডিও, টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, অ্যালবাম- সব মাধ্যমেই কাজ করার অভিজ্ঞতা হয়েছে সামিনা চৌধুরীর। কিন্তু প্রতিটি মাধ্যমেই তার গায়কি অন্য সবার চেয়ে আলাদা হয়ে ধরা দিয়েছে। শুধু তাই নয়, প্রতিটি কাজের বিষয়ে তার চিন্তা-ভাবনা যে অন্যদের চেয়ে আলাদা, এর বহু প্রমাণও পাওয়া গেছে। গানের মান নিয়ে তিনি কখনও বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়ার চেষ্টা করেননি। এভাবেই তিনি হয়ে উঠেছেন বরেণ্য শিল্পীদের একজন। অবাক করা বিষয় হলো চার দশকের পথ পেরিয়েও কণ্ঠের সজীবতা এখনও আগের মতোই আছে। এ কারণেই নতুন সব গানের মাধ্যমে তার অনিন্দ্য কণ্ঠস্বর শোনার জন্য শ্রোতা সবসময় ব্যাকুল থাকেন। জানতে চান তার নতুন আয়োজনের খোঁজ-খবর। তাই এ সময়ের ব্যস্ততার কথা জানতে চাইলে সামিনা চৌধুরী বলেন, "নতুন বেশ কিছু গান রেকর্ড করেছি। মিউজিক ভিডিও তৈরি হলে সেগুলো একে একে প্রকাশ পাবে। এর পাশাপাশি ফাহমিদার সঙ্গে একটি দ্বৈত অ্যালবামের জন্য নচিকেতার সুরে কয়েকটি গান রেকর্ড করেছি। এটি কবে প্রকাশ পাবে তা অ্যালবাম সমন্বয়ক ও গীতিকার জুলফিকার রাসেল ভালো বলতে পারবেন। প্রকাশনার দায়িত্ব তিনি কাঁধে তুলে নিয়েছেন। এর বাইরে ধারাবাহিকভাবে বাবার [খ্যাতিমান শিল্পী মাহমুদুন্নবী] কালজয়ী গানগুলো নতুন করে প্রকাশ করার উদ্যোগ নিয়েছি। বাবার গানের সংগ্রহ এবং নতুন করে প্রকাশনা ততদিন করে যাব, যতদিন বেঁচে আছি। বাবা বলে নয়, একজন দেশবরেণ্য শিল্পীর সৃষ্টিকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতেই এ চেষ্টা। যে জন্য ধারাবাহিকভাবে তার কালজয়ী গান নিয়ে অ্যালবাম করছি। এরই মধ্যে 'আমার গানের প্রান্তে' নামের এই অ্যালবামের প্রথম খণ্ড প্রকাশ পেয়েছে। গানগুলোয় কণ্ঠ দিয়েছি আমি আর ফাহমিদা নবী। এখন চলছে পরের খণ্ডগুলোর প্রস্তুতি।"

নতুন গানের খবর তো জানালেন; কিন্তু একটি বিষয়ে নিজে থেকে কিছু বললেন না সামিনা চৌধুরী। অবশ্য এরই মধ্যে অনেকে জেনে গেছেন গান ও অ্যালবাম প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও ইউটিউব চ্যানেল ওয়ার্ল্ড মিউজিক বাংলার দায়িত্ব হাতে তুলে নিয়েছেন তিনি। এ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'আমি কিন্তু প্রযোজকের দায়িত্ব নিইনি। বরং এর কর্ণধার [স্বামী ইজাজ খান স্বপন] গত বিয়েবার্ষিকীতে  আমাকে সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য চ্যানেলটির দায়িত্ব হাতে তুলে দিয়েছে।' তাহলে প্রযোজক হিসেবে কাজ করবেন না? এর উত্তরে সামিনা চৌধুরী বলেন, 'দায়িত্ব যখন নিয়েছি, তখন থেমে থাকার তো উপায় নেই। ক্যাসেট-সিডির যুগে ওয়ার্ল্ড মিউজিক সবসময় চেষ্টা করেছে ভালো গান ও অ্যালবাম প্রকাশের। এখন যেহেতু অ্যালবাম হয় না, তাই একক গান প্রকাশের দিকে জোর দেব আমরা। চেষ্টা থাকবে ওয়ার্ল্ড মিউজিকের মতো 'ওয়ার্ল্ড মিউজিক বাংলা' থেকেও মানসম্পন্ন কাজকে প্রাধান্য দেওয়ার। এর মধ্যে আমরা পুরোনো কিছু গান নতুন করে প্রকাশ করেছি। প্রকাশিত 'এই জাদুটা যদি সত্যি হতো', 'মনের কথা', 'ফুল ফোটে ফুল ঝরে', 'আমার বুকের মধ্যিখানে', 'একাত্তরের বীর বাহিনী', 'কাঙালিনীর বন্ধু তুমি'সহ প্রতিটি গান নিয়েই শ্রোতারা ভালো লাগার কথা জানিয়েছেন। এরপর পুরোনো জনপ্রিয় গানগুলোই শুধু নয়, মানসম্পন্ন মৌলিক কিছু গান প্রকাশের পরিকল্পনা আছে।

শিল্পী ও প্রযোজক সামিনা চৌধুরীর অনেক কথাই হলো। সবশেষে তার কাছে জানতে চাই, এই যে শিল্পীজীবনের দীর্ঘ সফর, এ কি শুধুই শ্রোতার ভালোবাসা পাওয়ার জন্য, নাকি আরও কিছু চাওয়া-পাওয়া ছিল বা আছে? এর জাবাবে তিনি বলেন, 'চার দশকের শিল্পীজীবনের প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে কখনও ভাবিনি তা নয়, ভেবেছি এবং বিস্মিত হয়েছি অগণিত মানুষ আমাকে ভালোবাসে দেখে। আমি তো বড় মাপের কোনো শিল্পী নই, তবু এত মানুষ আমাকে ও আমার গানকে ভালোবাসে! এটাই আমাকে বিস্মিত করে। কারণ আমি কখনও ক্যারিয়ারিস্ট ছিলাম না। অনেক ভালো কাজের সুযোগ হেলায় নষ্ট করেছি। কাজের জন্য নানা জায়গায় যোগাযোগ করা কিংবা ছুটে বেড়ানোর পক্ষে ছিলাম না। আমার জায়গা অন্যরা দখল করে নিচ্ছে, আমার ঘরের দরজা দিয়ে অন্যান্য শিল্পী যাওয়া-আসা করছেন- এটা দেখেও নীরব থেকেছি। এটা না করলে হয়তো আমার ৫০টির জায়গায় গানের সংখ্যা হতো ১০০টি। তা হয়নি বলে কখনও আফসোস করিনি। কণ্ঠশিল্পী হিসেবে যা কিছু করতে পেরেছি, তাতেই আমি সন্তুষ্ট। চার দশক ধরে একইভাবে গান করে যেতে পারছি- এর বেশি আর কিছু চাওয়ার নেই।'
এই নিউজ মোট   67    বার পড়া হয়েছে


সংগীত



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.