ছেড়িডা মান্নত কইর‌্যা টেহা আনল, হেই টেহাতেও ভাগ বয়ায়ছে হেডমাস্টরে

অনুসন্ধানী ওকে নিউজ স্পেশাল দুর্নীতি প্রচ্ছদ শিক্ষা শিশু অধিকার শিশু/কিশোর হ্যালোআড্ডা

‘মোবাইলে টেহা (উপবৃত্তি) আইবো, যে দিন থাইক্যা এই কথা হুনছে-হেই দিন থাইক্যা ছেড়িডা মোবাইলডা আর হাত থাইক্যা ছাড়ে না। মসজিদে মান্নত কইর‌্যা রাখছে, এই টেহা পাইলে ঈদে নতুন জামা কিনব। সত্যি যে দিন টেহা আইছে, হেই দিন আর টেহা উডানো গেছে না। কের বুলে পিনকোড লাগে।

পরে ইস্কুলে হেডমাস্টরে ডাইক্যা নেয়া দুই হাজার টেহার মধ্যে ৯০০ টেহা দেয়া কয়-বাহিডা নাহি খরচ লাগছে। অহন কইনছে, ছেড়িডা মান্নত কইর‌্যা টেহা আনল, হেই টেহাতেও ভাগ বয়ায়ছে হেডমাস্টরে। ’

চতুর্থ শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে রিয়া আক্তারের প্রাপ্য উপবৃত্তির টাকা কর্তন করে রেখে দেওয়ায় এভাবে কষ্টের কথাগুলো বললেন মা হাজেরা খাতুন। এ ধরনের অভিযোগ উঠেছে ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার পালাহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম নুরুল আলম পারভেজের বিরুদ্ধে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই বিদ্যালয়ের প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ তুলেছে। তাঁদের উপবৃত্তির টাকা আসছে মোবাইল ব্যাংকিং নগদে। গত বুধবার দুপুরে সরেজমিনে ৩০ জন শিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়ে এ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। তারা সবাই বলছে, কমপক্ষে ১০০ টাকা খরচের জন্য রাখা হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক নুরুল আলম পারভেজের বাড়ি বিদ্যালয়ের ৫০০ গজ দূরত্বের মধ্যেই। তবে তিনি বাড়িতে থাকেন না। কিশোরগঞ্জ শহরে বসবাস করেন। সেখান থেকে মাঝেমধ্যে বিদ্যালয়ে আসেন বলে পালাহার ও অরণ্যপাশা গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন। বিদ্যালয়ে এখন ঈদের ছুটি চলছে।

পালাহার গ্রামের অভিভাবক হামিদা খাতুন বলেন, তাঁর ছেলে চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। উপবৃত্তির অর্থ উত্তোলনের সময় লেনদেন খরচের কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ১৫০ টাকা কেটে রেখেছেন প্রধান শিক্ষক। মদিনা খাতুন নামের এক নারী জানান, তাঁর কাছ থেকেও খরচের কথা বলে ১০০ টাকা রাখা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের দপ্তরি আলাল উদ্দিন বলেন, যাঁরা বিদ্যালয়ে এসে উপবৃত্তির টাকা উত্তোলন করেছেন, তাঁদের কাছ থেকে ১০০ টাকা করে কেটে রাখা হয়েছে।

তবে প্রধান শিক্ষক নুরুল আলম পারভেজ বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে কোনো টাকা নেননি। নগদের লোক তাঁর খরচের টাকা নিয়েছেন।

নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ইউপিএও) মোহাম্মদ আলী সিদ্দিক বলেন, শিক্ষার্থীদের মায়েদের মুঠোফোনে উপবৃত্তির টাকা পাঠানো হয়। উপবৃত্তির অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে শিক্ষকের কোনো ভূমিকা পালনের প্রয়োজন নেই। সরকার ট্রানজেকশন (লেনদেন) ফিসহ উপবৃত্তির অর্থ পাঠিয়ে থাকে। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপবৃত্তি থেকে টাকা কেটে রাখার অভিযোগটি তিনি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।

আরো পড়ুন : বাংলাদেশকে ৫ উইকেটে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজও জিতে নিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ

Share The News

Leave a Reply

Your email address will not be published.