জবিশিস কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন-২০২৩ ঘিরে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের দু’গ্রুপের পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন

নির্বাচন প্রচ্ছদ রাজনীতি শিক্ষা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির (জবিশিস) কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন-২০২৩ ঘিরে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন নীল দলের দু’গ্রুপ পাল্টাপাল্টি সংবাদ সম্মেলন করেছে। সংবাদ সম্মেলনে নীল দলের দু’গ্রুপ নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। সোমবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় নীলদলের দু’গ্রুপ শিক্ষক মিলনায়তনে আলাদা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দু’টি আলাদা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন।

প্রথমে নীল দলের বর্তমান কমিটির সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম, ড. আবুল কালাম ও মো. লুৎফর রহমান প্যানেল ঘোষণা করেন। প্যানেলের সভাপতি হিসেবে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আইনুল ইসলাম, সহ- সভাপতি গণিত বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সারোয়ার আলম, কোষাধ্যক্ষ ম্যানেজমেন্ট স্টাডিস বিভাগের মিরাজ হোসেন, সাধারণ সম্পাদক রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আবুল কালাম, মো. লুৎফর রহমান এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের গোলাম আদম।
এই প্যানেলের সদস্য হিসেবে রয়েছেন সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক ড. মো আবুল হোসেন, রসায়ন বিভাগের মোহাম্মদ সৈয়দ আলম, পরিসংখ্যান বিভাগের সিদ্দিকুর রহমান, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের নুরুল আমিন, একাউন্টিং এ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগের আব্দুল মান্নান, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের রফিকুল ইসলাম, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের আবদুল মালেক, অর্থনীতি বিভাগের দীপিকা মজুমদার, দর্শন বিভাগের নুসরাত জাহান পান্না ও ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সুমন কুমার মজুমদার।

এসময় অধ্যাপক ড. মো. আইনুল ইসলাম ও অধ্যাপক ড. আবুল কালাম মো. লুৎফর রহমান প্যানেলের নির্বাচনী অঙ্গীকারে উচ্চশিক্ষা, উচ্চপদে নিয়োগ, গবেষণা, চাকরি বিষয়ক এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক বিষয়ের প্রতি গুরুত্ব দেয়া হয়। ইশতেহারে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব উদ্যোগে ভর্তি পরীক্ষা নেয়ার ব্যবস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় সংবিধি বাস্তবায়ন ও যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ; প্রশাসনিক পদে নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে নতুন নিয়োগ প্রদানসহ নতুন ক্যাম্পাসের কাজ ত্বরান্বিত করার কথা উল্লেখ করেন।

অপরদিকে, নীলদলের অপর অংশ বিকেলে সাংবাদিকদের নির্বাচনী ইশতেহার দেন। এসময় অধ্যাপক ড. শাহজাহান ও ড. জহির উদ্দিন আরিফ প্যানেল ঘোষণা করা হয়। এই প্যানেলের সভাপতি হিসেবে আছেন প্রার্থী রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. অধ্যাপক মো. শাহজাহান ও সাধারণ সম্পাদক পদে মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো জহির উদ্দিন আরিফ।

প্যানেলের নির্বাহী পদে সহ-সভাপতি হিসেবে কম্পিউটার সাইন্স ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার আচার্য্য, কোষাধ্যক্ষ পদে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সুরঞ্জন কুমার দাস, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে ইতিহাস বিভাগের আব্দুস সামাদ নির্বাচন করবেন। এছাড়াও সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে রয়েছেন প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. দোলন রায়, প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের রফিকুল ইসলাম, মার্কেটিং বিভাগের ফারিজুল ইসলাম, সংগীত বিভাগের মাহমুদুল হাসান, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের নাজিয়া আরিফ, ফিন্যান্স বিভাগের আয়েশা আক্তার, আইইআর এর কাজী ফারুক হোসেন, দর্শন বিভাগের সাজিয়া আফরিন, চারুকলা বিভাগের রাসেল রানা ও আইএমএল ইইন্সটিটিউটের বেনজির এলাহী মুন্নি।

অধ্যাপক মো. শাহজাহান ও জহির উদ্দিন আরিফ বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাসম্পন্ন শিক্ষার্থী ভর্তির বর্তমান সমস্যা নিরসণ, শিক্ষকদের মান বৃদ্ধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ ব্যবস্থাকরণসহ মোট ২৬টি বিষয় উল্লেখ করে বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেন। শিক্ষকদের এ নির্বাচনে ১৫টি পদের বিপরীতে লড়ছেন ৩০ শিক্ষক। তাদের মধ্যে সভাপতি, সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ পদে একজন করে নির্বাচিত হবেন এবং সদস্য পদে ১০জন শিক্ষক নির্বাচিত হবেন। ৬৭৫ জন শিক্ষক এ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। তবে বরাবরের মতোই এবারেও নির্বাচন অংশ নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি-জামায়েত পন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদাদল। দীর্ঘ আট বছর পর সাদাদলের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যায়ে তারা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

এদিকে, নীল দলের একাধিক সদস্য বলছেন বরাবরের মতো এইবারও নির্বাচনে সাদাদলের দেড় শতাধিক ভোটার নীল দলের দুই গ্রুপের জয়-পরাজয়ের ভাগ্য নির্ধারণে ব্যবধান গড়ে দিবেন। নীল দলের প্রভাবক। নির্বাচনের সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম বলেন, ‘২১ ডিসেম্বর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ভোটার ও প্রার্থীতালিকা প্রকাশ হয়েছে। সুষ্ঠ নির্বাচন হবে।’

আরো পড়ুন : অবসর নেওয়া না নেওয়া মেসির একান্তই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত

Share The News

Leave a Reply

Your email address will not be published.