জিয়াউর রহমান সুদূরপ্রসারী চিন্তা না করলে বাকশাল দেশ চালাত

প্রচ্ছদ মুক্তমত রাজনীতি

বিশেষ প্রতিনিধি : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সুদূরপ্রসারী চিন্তার ফসল ছিল বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেছেন, বিএনপি প্রতিষ্ঠিত না হলে বাকশাল দেশ চালাত।

শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বাংলাদেশ ও গণতন্ত্র’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন। জিয়াউর রহমানের ৮৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ এই আলোচনার আয়োজন করে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘তিনি (জিয়াউর রহমান) রাজনীতিতে কত সুদূরপ্রসারী চিন্তা করলে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। যদি জাতীয়তাবাদী দল প্রতিষ্ঠিত না হতো, বাকশাল হয়েছিল, আবার এখন অলিখিত বাকশাল চলছে, তারাই দেশ চালাত এবং এই দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব থাকত কি না, সন্দেহ।’

‘জিয়াউর রহমানের জীবনে তিনটি সফলতা—সৈনিক জিয়া, রাষ্ট্রনায়ক জিয়া ও রাজনীতিক জিয়া’ উল্লেখ করে খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষণার মাধ্যমে, এর আগে রিভোল্ট (বিদ্রোহ) করার মাধ্যমে সৈনিক জিয়াউর রহমান নিজেকে সফল সৈনিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। একজন সৈনিক দেশমাতৃকার জন্য শুধু যুদ্ধ করতে পারলেই তাঁকে সফল সৈনিক বলা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশ যখন সম্পূর্ণ দিশাহারা, নেতৃত্বহীন তখন কী সাহসী ও কী পরিমাণ দেশপ্রেমিক হলে একজন মেজর হয়ে তাঁর অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল থেকে রিভোল্ট করেছিলেন। রিভোল্ট করা মানে, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে রিভোল্ট করা। তার কনসিকোয়েন্সে (পরিণতিতে) আসে স্বাধীনতার ঘোষণা; যা তিনি নিজের পক্ষ থেকে দিয়েছিলেন।’

আজকে যাঁরা গায়ের জোরে ক্ষমতায় আছেন, তাঁরা জিয়াউর রহমানকে, তাঁর পরিবারকে ও তাঁর প্রতিষ্ঠিত দলকে ভয় পায় বলে মন্তব্য করেন খন্দকার মোশাররফ। তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ আজ আওয়াজ তুলেছে। যারা গণতন্ত্র হত্যা করেছে, তারা গণতন্ত্র ফিরিয়ে দিতে পারবে না। যারা দেশের অর্থনীতিকে লুটপাট করে বিদেশে পাচার করেছে, তারা অর্থনীতি মেরামত করতে পারবে না। যারা বিচারব্যবস্থাকে দলীয়করণ করে ধ্বংস করে দিয়েছে, তারা বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা দিতে পারবে না। এর জন্য সরকারকে বিদায় করা ছাড়া আর বিকল্প কিছু নেই।’

সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, অধ্যাপক সিরাজউদ্দিন আহমেদ, আবদুল কুদ্দুছ, লুৎফুর রহমান, সিদ্দিক আহমেদ খান, চলচ্চিত্র অভিনেতা আশরাফউদ্দিন উজ্জ্বল, আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার, সাংবাদিক এম এ আজিজ, আবদুল হাই শিকদার, সংগঠনের সদস্যসচিব কাদের গনি চৌধুরী প্রমুখ।

আরো পড়ুন : গাইবান্ধায় দুস্থ শীতার্ত মানুষের মাঝে প্রকৃতি ও জীবন স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের শীতবস্ত্র বিতরণ

Share The News

Leave a Reply

Your email address will not be published.