তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিলে আওয়ামী লীগের কোনো চিহ্ন থাকবে না

প্রচ্ছদ রাজনীতি হ্যালোআড্ডা

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া কোনো নির্বাচন হবে না। হতে দেওয়া হবে না। শেখ হাসিনাকে পদত্যাগ করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে।

আজ শনিবার বিকেলে খুলনায় বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশ থেকে সরকারপ্রধানকে উদ্দেশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। কারণ আপনারা বৈধ না। সংসদ বাতিল করুন। নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন।

এ সময় তিনি প্রশ্ন রাখেন, কেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে চান না? কারণ আপনারা জানেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিলে ১০টি আসনও পাবেন না। আপনাদের কোনো চিহ্ন থাকবে না।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, এই সরকার নিশিরাতের ভোটের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছিল ২০১৮ সালে। বিনা ভোটে ক্ষমতায় আসে ২০১৪ সালে। ২০২৩ সালে নির্বাচন আসছে। সেই নির্বাচনে একই কায়দায় ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। আর এই লক্ষ্যে তার নির্বাচন কমিশনার গঠন করেছে। আওয়ামী লীগ জনগণকে ধোঁকা দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। তাই গণতন্ত্র ফেরাতে আমাদের সামনে কোনো বিকল্প নেই। এখন একটাই বিকল্প আন্দোলন, আন্দোলন, আন্দোলন। ফ্যাসিবাদি, কর্তৃত্ববাদী শেখ হাসিনা সরকারকে আন্দোলনের মাধ্যমে পরাজিত করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এজন্য ত্যাগ স্বীকার করতে হবে এবং আপনাদের প্রস্তুত থাকতে হবে।

খুলনার সমাবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, এটা একটা প্রতীক মাত্র। এখানে যারা অংশগ্রহণ করেছেন তারা প্রত্যেকেই বীর সেনানি। খালেদা জিয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা সঠিক পথে আছি বলে তিনি মনে করেন। আমাদের আগামী দিনের স্বপ্নের নেতা তারেক রহমান আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগকে উদ্দেশ করে ফখরুল বলেন, এক সময় আপনারা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ১৭৩ দিন একটানা হরতাল করেছিলেন। আমরা দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে দেশনেত্রী বেগম খাদেলা জিয়া সরকার তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধানে সন্নিবেশ করেছিল। শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসার পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে বাতিল করে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, এ সরকার সংবিধানকে লঙ্ঘন করেছে। বিচার বিভাগকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে, দলীয়করণ করেছে, ধ্বংস করেছে। মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আওয়ামী লীগের আর বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ছাত্রলীগের আখড়ায় পরিণত করেছে। স্বাস্থ্য বিভাগ ধ্বংস করেছে, সাধারণ মানুষ কোথাও স্বাস্থ্যসেবা পায় না। সমাজ এখন লোভী, লুটেরা, অধিকার হরণকারীদের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। তারা সবকিছু ধ্বংস করেছে শুধু ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য। দেশকে অবৈধ হাসিনা সরকার নরকে পরিণত করেছে। দেশের অর্থনীতি, সব অর্জনকে ধ্বংস করেছে। দেশের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় যত প্রতিষ্ঠান আছে সবটিকে শেষ করেছে।

তিনি বলেন, সমাবেশকে বানচাল করার লক্ষ্যে পাঁচ শতাধিক মানুষকে আহত করছে। কেশবপুরে মিছিল করার সময় ১৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। চুকনগরে ২০ জন গুলিতে আহত হয়েছে। রূপসা তেরখাদায় দিঘলিয়া জনগণের একমাত্র বাহন ট্রলার হওয়া সত্ত্বেও তা ডুবিয়ে দিয়ে ১০০ নেতাকর্মীকে আহত করেছে। বাগেরহাটের মিছিলে হামলা চালিয়েছে। রেল স্টেশনে নামার পর আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানা এলাকায় মিছিলে হামলা করে আমাদের নেতাকর্মীদের আহত করেছে। এত মানুষ আহত হলো? এরা কি মানুষ। গণতন্ত্রের কথা এদের মুখে মানায় না।

সরকারের তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, মুখে উন্নয়নের কথা বললেও এ সরকার কোনো কাজ করেনি। মেগা প্রকল্পের নামে মেগা লুটপাট হয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে জনগণের সাথে প্রতারণা করেছে। শতভাগ বিদ্যুৎ দেওয়ার কথা বললেও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রসঙ্গ টেনে ফখরুল বলেন, আপনারা কি ১০ টাকার চাল পান? বর্তমানে ৮০-৯০ টাকা দরে চাল কিনতে হয়। উন্নয়নের নামে সরকার ২৮ হাজার কোটি টাকা ক্যাপাসিটি ট্যাক্স নিচ্ছে। হাজার হাজার কোটি টাকা লুটপাট করে বেগম পাড়ায় পাচার করা হয়েছে। ঘরে ঘরে চাকরি দেওয়ার নামে আওয়ামী লীগ লোকদের কাছ থেকে ২০ লাখ করে টাকা নিয়ে চাকরি দেওয়া হচ্ছে। এখন বলছে, দেশে দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। ১৯৭৪ সালে দুর্নীতির কারণে লুটপাটের কারণে দুর্ভিক্ষ হয়েছিল। বর্তমান সরকারের আমলেও সেই একই অবস্থা।

বর্তমান সরকারকে বর্গী সরকারের সঙ্গে তুলনা করে তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আগামীতে যুবকরাই দেশের নেতৃত্ব দেবে। এ সরকারকে সব লুটপাটের হিসাব দিতে হবে। আপনারা সবাই প্রস্তুত থাকুন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খুলনা মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম মনা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরীসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা সভায় বক্তৃতা করেন।

আরো পড়ুন : স্ত্রী’র সহযোগীতায় আসাদুল্লাহকে মাদকাশক্ত বানান গাইডেন্স মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র

Share The News

Leave a Reply

Your email address will not be published.