নিরাপত্তা শঙ্কায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত জরুরি সাক্ষাৎ করলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে

আন্তর্জাতিক প্রচ্ছদ মুক্তমত হ্যালোআড্ডা

বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাস গতকাল বুধবার সকালে নিখোঁজ বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের বাসায় গিয়ে তার পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ঢাকা সফররত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বাংলাদেশ ডেস্কের কর্মকর্তা লিকা জনসন। তবে সুমনের বাসায় গিয়ে ‘মায়ের কান্না’ নামে একটি সংগঠনের হট্টগোলের মুখে পড়েন তারা। নিরাপত্তা শঙ্কায় দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন রাষ্ট্রদূত। পরে তিনি জরুরি ভিত্তিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। মন্ত্রী তাকে অধিকতর নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়ে আশ্বাস দেন।

ঢাকা মহানগর ৩৮ (বর্তমান ২৫) নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সুমন ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে নিখোঁজ হয়েছিলেন। পরিবারের দাবি, তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে গেছে। এরপর থেকেই সুমনের বোন আফরোজা ইসলাম আঁখি ভাইকে খুঁজতে থাকেন। বর্তমানে তিনি গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। জানা যায়, নিখোঁজ সুমনের বোন আঁখির সঙ্গে দেখা করতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত গতকাল সকাল ৯টায় রাজধানীর শাহীনবাগে তার বাসায় যান। সেখানে তিনি প্রায় ২৫ মিনিট অবস্থান করেন। এ সময় তিনি সুমনের পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন।

এদিকে সুমনের বাসায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত আসছেন এমন খবরে সেখানে উপস্থিত হন ‘মায়ের কান্না’ নামে একটি সংগঠনের সদস্যরা। ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর সেনা ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের ফাঁসি, কারাদণ্ড, চাকরিচ্যুত সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সংগঠন হলো ‘মায়ের কান্না’। তারা নিখোঁজ সুমনের বাসার সামনের রাস্তায় অবস্থান নেন। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাসা থেকে বের হওয়ার সময় হট্টগোল হয়। মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিরাপত্তা কর্মীদের পরামর্শে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

এদিকে গতকাল বিকালে মার্কিন দূতাবাসের এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দূতাবাসের মুখপাত্র জেফ রিডেনর জানান, নিরাপত্তাজনিত কারণে রাষ্ট্রদূত পিটার হাস নিখোঁজ সুমনের বাসা থেকে দ্রুত চলে এসেছিলেন। এ বিষয়টি সরকারকে জানিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।

অধিকতর নিরাপত্তা চাইলে দেব : মোমেন

এ বিষয়ে গতকাল বিকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন জানান, রাষ্ট্রদূত জরুরি ভিত্তিতে আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সকালে তিনি এক বাসায় যান, সেখানে বাইরের অনেক লোক ছিল। তারা কিছু বলতে চাচ্ছিল। পরে নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে দ্রুত চলে যেতে বলে, নইলে গাড়ি আটকে দেবে। আমি পিটার হাসকে বলেছি—অধিকতর নিরাপত্তা চাইলে আমরা দেব। তবে, তিনি যে ঐ বাসায় যাবেন এটা তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানত না। এই খবর কীভাবে ফাঁস হলো, কে ফাঁস করল জানতে চেয়েছি, সেটা পিটার জানাতে পারেননি। উনি একটু দুশ্চিন্তায় আছেন। উনাকে জানিয়েছি, দেশে গণমাধ্যম সোচ্চার। কোনো জায়গায় যেতে সাংবাদিকদের বাধা দেওয়া সম্ভব নয়।

আরো পড়ুন : সেমিফাইনালে এগিয়ে থাকল ফ্রান্স

 

Share The News

Leave a Reply

Your email address will not be published.