পূর্ব শত্রুতার জের ধরে জন্মদিনে হাসপাতাল থেকে তুলে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা

ক্রাইম নিউজ জনদুর্ভোগ প্রচ্ছদ শিশু অধিকার শিশু/কিশোর হ্যালোআড্ডা

রাজশাহী ব্যুরো: রাজশাহীতে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে সনি (১৭) নামের এক কিশোরকে তুলে নিয়ে গিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। রোববার রাত ৯টার দিকে নগরীর হেতেমখাঁ সবজিপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সনি নগরীর রেলগেট এলাকার শ্রমিক নেতা রফিকুল ইসলাম পাখির ছেলে।

রফিকুল ইসলাম পাখি রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি। সনি দুই মাস আগে বিয়ে করেছেন। রোববার তার জন্মদিন ছিল। আর এ দিনই তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হলো।

পুলিশ জানিয়েছে, হেতেমখাঁ সবজিপাড়া মহল্লার সমবয়সী কিছু ছেলের সঙ্গে রেলগেট এলাকার সনিসহ আরও কয়েকজনের বিরোধ চলছিল। এর আগে দুই গ্রুপের মধ্যে একাধিকবার মারামারির ঘটনা ঘটেছে। পরে মীমাংসাও হয়েছে। কিন্তু এই বিরোধের জের ধরেই রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের সামনে থেকে সনিকে তুলে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়।

সনিসহ মোট চারজনকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। এই চারজনের একজনের নাম মো. নয়ন (১৯)। নয়ন জানান, রাতে তারা কয়েক বন্ধু সনির জন্মদিন উদযাপন করেন। সেখানে বাথরুমে পড়ে গিয়ে সিজার (১৮) নামের একজনের থুতনি কাটে। এরপর সনি, নয়ন ও তৈয়বুর নামের আরেকজন আহত সিজারকে হাসপাতালে নিয়ে আসছিলেন। তখনই রামেক হাসপাতালের সামনে চারজনকে একসঙ্গে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। এ সময় সিজারকে আহত দেখে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এ সময় নয়ন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। আর তৈয়বুর ও সনিকে হেতেমখাঁ সবজিপাড়া এলাকায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সনিকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। আহত হন তৈয়বুরও।

সনির চাচা যুবরাজ জানান, দুজনকে কোপানোর পর হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে তারা দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক সনিকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত তৈয়বুর চিকিৎসাধীন। কেন এ ধরনের ঘটনা তা তিনি জানেন না।

এদিকে ঘটনার রামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনেই উত্তেজনা দেখা দেয়। সনি হত্যার প্রতিবাদে জড়ো হন শতাধিক নারী-পুরুষ। তারা একত্রিত হয়ে হেতেমখাঁ সবজিপাড়ার দিকে যান। এ সময় ওই এলাকাতেও উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রামেক হাসপাতালের সামনে ও হেতেমখাঁ সবজিপাড়ায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

নগরীর বোয়ালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতরা ঘটনার পরই গা-ঢাকা দিয়েছেন। তাদের আটকের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের পর নিহত সনির মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

আরো পড়ুন : ইউক্রেনের গুরুত্বপূর্ণ লিসিচানস্ক শহর রাশিয়ার দখলে

Share The News

Leave a Reply

Your email address will not be published.