ব়্যাবের করা তিন মামলায় চনপাড়ার ‘রাজা’ বজলুরকে ২১ দিন রিমান্ডের আবেদন

আইন-আদালত ক্রাইম নিউজ জনদুর্ভোগ পুরুষ প্রচ্ছদ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রের (চনপাড়া বস্তি) অঘোষিত ‘রাজা’ বজলুর রহমানের বিরুদ্ধে মাদক, অস্ত্র ও জাল টাকা রাখার অভিযোগে তিনটি মামলা করেছে ব়্যাব।

রূপগঞ্জ থানায় করা এই তিন মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে প্রতিটিতে সাত দিন করে মোট ২১ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়; রোববার এ রিমান্ড শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

শুক্রবার বিকাল ৪টায় চনপাড়া থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। আলোচিত বুয়েট ছাত্র ফারদিন নূর পরশ হত্যাকাণ্ডে তার সংশ্লিষ্টতা খোঁজা হচ্ছে বলে র‌্যাব জানিয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালত পুলিশের পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, মাদক ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলায় সাত দিন করে ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। জাল নোট রাখার অভিযোগে আরেকটি মামলাও সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে বজলুরকে আদালতে পাঠিয়েছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। রোববার রিমান্ড শুনানি হবে।

৮ সেপ্টেম্বর চনপাড়ায় মাদকবিরোধী অভিযানে বজলু ও তার সহযোগীরা র‌্যাবের ওপর আক্রমণ চালায়। এ ঘটনায় মামলা হলে ১০ নভেম্বর র‌্যাব ফের চনপাড়ায় অভিযান চালায়। এ সময় সিটি শাহীনের নেতৃত্বে ১০-১২ জন অস্ত্রধারী র‌্যাব সদস্যদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে র‌্যাব পালটা গুলি ছুড়লে গুলিবিদ্ধ হন শাহীন।

বজলু বাহিনীর অপকর্ম নিয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ওই প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল : “সবাই যেখানে অসহায়/সন্ত্রাসের জনপদ চনপাড়ার অঘোষিত ‘রাজা’ বজলু”। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, দখলবাজিসহ এলাকার সব ধরনের অপরাধের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি ওপেন সিক্রেট।

চনপাড়ার অস্ত্র ব্যবসা, প্লট বাণিজ্য, নৌকার ঘাট, বাজার, পরিবহণ, জুয়া এবং সালিশি বৈঠকসহ চনপাড়ার সবকিছুর নিয়ন্ত্রণই বজলুর হাতে। বজলুর নেতৃত্বে চনপাড়ায় চলছে ত্রাসের রাজত্ব। তার আছে অস্ত্রধারী বিশাল সন্ত্রাসী বাহিনী। প্রয়োজনে যাকে-তাকে অপহরণ করে আনা হয় তার ডেরায়। টর্চার সেলে রেখে করা হয় অমানুষিক নির্যাতন। তার ভয়ে কেউ মুখ খোলে না। কারণ, ভুক্তভোগীদের মতে, বজলুই চনপাড়া এলাকার অঘোষিত রাজা।

অনুসন্ধানে জানা যায়, অস্ত্র ও খুনের মামলায় একসময়ের জেলখাটা বজলু সমাজের প্রভাবশালী ব্যক্তির খাতায় নাম লিখিয়েছিলেন। অবৈধ টাকার জোরে তিনি স্থানীয় কায়েতপাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদটিও হাতিয়ে নেন। হন ইউপি সদস্য।

আরো পড়ুন : বিএনপির গণসমাবেশ শেষ হতেই সিলেটে যান চলাচল শুরু

Share The News

Leave a Reply

Your email address will not be published.