‘সরকার পতনে প্রয়োজনে কাফনের কাপড় নিয়ে রাস্তায় নামব।’

জনপ্রতিনিধি পুরুষ প্রচ্ছদ মুক্তমত রাজনীতি হ্যালোআড্ডা

বিরোধী দলের চলমান আন্দোলন হামলা-মামলা করে বন্ধ করা যাবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গণঅধিকার পরিষদের সদস্য সচিব নুরুল হক নুর। তিনি বলেন, ‘সরকার পতনে প্রয়োজনে কাফনের কাপড় নিয়ে রাস্তায় নামব।’

আজ শনিবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে গণঅধিকার পরিষদ আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এই হুঁশিয়ারি দেন নুর। গত ৭ অক্টোবর গণঅধিকার পরিষদের গ্রেপ্তারকৃত ছাত্রনেতাসহ সব রাজবন্দির মুক্তি ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে এই কর্মসূচি পালিত হয়।

সমাবেশে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে জনপ্রিয়তা যাচাইয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানান নুর। তিনি বলেন, ‘এই সরকার পুরোনো কায়দায় খেলা শুরু করেছে। ক্ষমতায় থাকার জন্য পশ্চিমাদের বুঝাতে জঙ্গিবাদের নাটক সাজাচ্ছে। ডিসেম্বরে বিরোধীদের আন্দোলন দমন করার জন্য আবারও বাসে পেট্রোল বোমা ও অগ্নি সন্ত্রাসের নাটক সাজাচ্ছে। এসব বিষয়ে সরকারি দলের নেতারা গোয়েন্দা সংস্থার লোকদের সঙ্গে দফায় দফায় মিটিং করছেন।’

নুরুল হক নুর বলেন, ‘একদিকে সরকার বিরোধীদের সভা-সমাবেশে বাধা দিচ্ছে। অন্যদিকে তারা তাদের সমাবেশকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকা চাঁদা তুলছে। আর সেই টাকা দিয়ে লোক ভাড়া করে সমাবেশ করছে।’

তিনি বলেন, ‘জনগণের ভ্যাট ট্যাক্সের টাকায় বেতন পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অথচ এরাই জনগণের ওপর গুলি চালাচ্ছে, জনগণকে হয়রানি করছে। ফলে এই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি জনগণের কোনো বিশ্বাস নেই।’

রিজার্ভ সংকটের কারণে ব্যবসায়ীরা এলসি খুলতে পারছে না উল্লেখ করে নুর বলেন, ‘আপনারাই (ক্ষমতাসীনরা) তো নয়-ছয় করছেন। একবার বলেন দুর্ভিক্ষ হবে, আরেকবার বলেন দুর্ভিক্ষ হবে না। আপনাদের কথায়ই তো গরমিল। আপনারা অনতিবিলম্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন। দেশের এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসুন। অন্যথায় আলোচনায় বসতে বাধ্য করা হবে।’

সমাবেশে তিনি অবিলম্বে আটক ছাত্রনেতাসহ সব রাজবন্দির মুক্তির দাবি জানান। অন্যথায় সরকার পতনে কাফনের কাপড় নিয়ে রাস্তায় নামার হুঁশিয়ারি দেন ডাকসুর সাবেক এই ভিপি।

বিক্ষোভ সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীর প্রতীক, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, ভাসানী অনুসারী পরিষদের সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান রিজু, এনডিপির চেয়ারম্যান ক্বারী আবু তাহের, নৈতিক সমাজের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) আমসা আমিন, গণঅধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান, হাসান আল মামুন, ফারুক হাসান, যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রহমান প্রমুখ।

আরো পড়ুন : ইরানে চলমান বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ৩২৬ জন নিহত

Share The News

Leave a Reply

Your email address will not be published.