১০ মাস আগে ‘আত্মহত্যা’ বলে চালিয়ে দেয়া মেয়েটি ধর্ষণের শিকার ছিল

নারী নারী ধর্ষণ প্রচ্ছদ শিশু অধিকার শিশু ধর্ষণ শিশু নির্যাতন শিশু/কিশোর

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর রামপুরার পূর্ব হাজীপাড়ায় রাজিন আহম্মেদের বাসায় এক কিশোরী গৃহকর্মীর মৃত্যু হয়েছিল ১০ মাস আগে। তখন রাজিন বলেছিলেন, মেয়েটি গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করেছে। এখন ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেয়ে পুলিশ জানতে পেরেছে, ধর্ষণের শিকার হয়ে ওই কিশোরী গলায় ফাঁস নিয়ে আত্মহত্যা করে। এ বিষয়ে ওই কিশোরীর মা মঙ্গলবার রামপুরা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন।

রামপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বুধবার রাতে বলেন, সাড়ে ১১ বছরের মেয়েটিকে কারা ধর্ষণ করেছে, তার কোনো প্রত্যক্ষদর্শী নেই। এখন তদন্তে ধর্ষককে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হবে।

কিশোরীর মায়ের করা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় বলা হয়, তাঁর মেয়ে পূর্ব হাজীপাড়ায় রাজিন আহম্মেদের বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করত। চলতি বছরের ২৮ জানুয়ারি মেয়ে তার মাকে ফোন করে জানায়, তার ওপর নির্যাতন করা হচ্ছে, সে আর এই বাসায় কাজ করবে না। পরদিন ২৯ জানুয়ারি বিকেলে রাজিন আহম্মেদ ও তাঁর স্ত্রী রিফাত জাহান মেয়ের মাকে ফোন করে বলেন, আপনার মেয়ের সমস্যা হয়েছে। তাঁরা তাকে স্থানীয় বেসরকারি একটি হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন। কিশোরীর স্বজনেরা ওই হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারেন, মেয়েটি মারা গেছে। তবে রাজিন আহম্মেদ ও তাঁর স্ত্রী তখন দাবি করেন, কিশোরী গৃহকর্মী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়।

মামলায় বলা হয়, মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় রামপুরা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছিল। কিন্তু মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় তার মা রাজিন আহম্মেদ ও রিফাত জাহানের বিরুদ্ধে আদালতে নালিশি মামলা করেন। পরে মেয়ের মা অপমৃত্যু মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রামপুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তওফিকা ইয়াসমিনের কাছে জানতে পারেন, তাঁর মেয়ে ফাঁসিতে ঝুলে থাকায় শ্বাসরোধ হয়ে মারা গেছে এবং এর আগে সে ধর্ষণের শিকার হয়েছিল। রাজিন আহম্মেদের বাড়িতে অনেকেই থাকতেন এবং আসতেন। ধারণা করা হচ্ছে, তাঁদের কেউ মেয়েটিকে ধর্ষণ করেছেন। সম্ভ্রমহানির অপমান সইতে না পেরে সে আত্মহত্যা করেছে।

তবে রাতে যোগাযোগ করা হলে মেয়েটির বাবা বলেন, তাঁর মেয়ে কোনোভাবেই আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এখন এই ঘটনায় জড়িতদের তিনি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বিচার চান।

আরো পড়ুন : কোরিয়ার বড় তারকা সন হিউং মিন খেলবেন উরুগুয়ের বিপক্ষে 

Share The News

Leave a Reply

Your email address will not be published.