নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসে বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় যখন শোকের মাতম, তখন এক শিক্ষিকার আত্মত্যাগের গল্প উঠে এসেছে, যা সবাইকে স্তম্ভিত করেছে। ওই ভয়াবহ মুহূর্তে অন্তত ২০ জন শিক্ষার্থীকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়ে নিজে প্রাণ হারিয়েছেন শিক্ষিকা মাহেরীন চৌধুরী।
সোমবার (২১ জুলাই) রাতে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান।
এদিন দুপুরে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ বিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাইমারি সেকশনের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়। দুর্ঘটনার সময় ওই ভবনে ক্লাস চলছিল, যেখানে বহু শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী ও উদ্ধারকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর যখন আগুন ও ধোঁয়ায় চারদিক ছেয়ে যায়, তখন শিক্ষক মাহেরীন নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে শুরু করেন। তিনি দ্রুততার সঙ্গে আতঙ্কিত শিশুদের বের করে আনার চেষ্টা করেন।
৮ জনের মরদেহ অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর : মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহতদের মধ্যে ৮ জনের মরদেহ অভিভাবকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
আইএসপিআর যে ৮ জনের মরদেহ হস্তান্তরের কথা জানিয়েছে, তাঁরা হলেন বাগেরহাটের গনি শেখের মেয়ে ফাতেমা আক্তার (৯), বরিশালের সামিউল করিম (৯), কুষ্টিয়ার রজনী ইসলাম (৩৭), টাঙ্গাইলের মেহনাজ আফরিন হুরায়রা (৯), ঢাকার রফিক মোল্লাহর মেয়ে শারিয়া আক্তার (১৩), ঢাকার নুসরাত জাহান আনিকা (১০), ঢাকার মুকুল সালাউদ্দিনের ছেলে সাদ সালাউদ্দিন এবং গাজীপুরের শাহ আলমের মেয়ে সায়মা আক্তার (৯)।
আইএসপিআরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তৌকির ইসলামের মরদেহ মর্গে রয়েছে।
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বেলা একটার কিছুক্ষণ পর উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি ভবনে বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন দেড় শতাধিক।
আরো পড়ুন : উত্তরার যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত বেড়ে ২২, আহত ১৭১ জন
