10:43pm  Saturday, 24 Aug 2019 || 
   
শিরোনাম
 »  শিবগঞ্জ উপজেলা-ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের মতবিনিময়     »  শিবগঞ্জে হোটেলের বর্জ্যে জন্ম নিচ্ছে মশা ও দূষিত হচ্ছে পরিবেশ     »  সুন্দরগঞ্জে বিনাধান-১৯ কর্তন ও মাঠ দিবস      »  সুন্দরগঞ্জে ফকিরপাড়া মসজিদের ছাদ ঢালায়ের উদ্বোধন      »  গাইবান্ধায় ধানের চারা ও বীজ বিতরণ      »  গোবিন্দগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ডের নতুন কমিটি গঠন     »  ‘বঙ্গবন্ধু মানেই সততা ও দেশপ্রেম’ -নজরুল ইসলাম বাবু এমপি     »  ঝালকাঠিতে সাতদিন ব্যাপী বৃক্ষরোপন অভিযান, ফলদ ও বৃক্ষ মেলা ২০১৯ উদ্বোধন      »  ইসলাম ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করায় হিন্দু যুবককে কারাগারে পাঠিয়েছে     »  জিম করছেন নুসরাত ফারিয়া   



ইহুদি যুবক কোরআনের বৈজ্ঞানিক বিবরণ পড়ে মুসলিম হলেন
৬ আগস্ট ২০১৯, ২২ শ্রাবণ ১৪২৬, ৪ জিলহজ ১৪৪০



সৌদি আরবের জনপ্রিয় গণমাধ্যম আরব নিউজের কাছে ইহুদি পরিবারে জন্ম নেয়া মুসা ইসলাম গ্রহণের কথা বলেন একটি । মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি ধর্ম বিষয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। তিনি ইহুদি ধর্ম ও ইসলামের মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয়ের চেষ্টা করেন। মূলত এটিই তাঁকে ইসলাম গ্রহণে উৎসাহিত করে।

আমি একটি ইহুদি পরিবারে জন্মগ্রহণ করি। ইহুদি হিসেবেই বেড়ে উঠি; যদিও আমার পরিবার খুব ধার্মিক ছিল না। ইহুদি ধর্ম আমি শিখেছি অন্যান্য ধার্মিক ইহুদির কাছ থেকে। আমি একটি অর্থডক্স ইহুদি সিনাগগে যাতায়াত করতাম। লেখাপড়াও করেছি একটি অর্থডক্স ইহুদি স্কুলে। আমি আমেরিকার একটি ইহুদি কমিউনিটিতে বড় হই, যাতে খুব সামান্যই বৈচিত্র্য অনুমোদিত ছিল। আমার কোনো অ-ইহুদি বন্ধু ছিল না। এ থেকেই ধারণা নিতে পারেন, আমাদের ওপর ইহুদিবাদের প্রভাব কত প্রবল ছিল। এক বছর আগে আমি অনলাইনে মুসলিমদের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করি। তখন অন্যান্য ধর্ম সম্পর্কে পড়ার আগ্রহটা অনেক বেড়ে যায়। ইসলামের প্রতি আমি বিশেষ মনোযোগ দিলাম। কারণ আমি জানতাম, ইসলামের সঙ্গে তার দূরত্ব খুব সামান্যই। যেমন উভয় ধর্মের প্রেরিত পুরুষ, উৎস, বোধ, বিশ্বাস ও শিষ্টাচারগুলোর ভেতর বহু মিল রয়েছে। তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো উভয় ধর্মের অনুসারীরা অভিন্ন প্রভু আল্লাহর ইবাদত করে। এ কারণেই আমি ইসলাম সম্পর্কে আরো বেশি জানার চেষ্টা করলাম। আমি সৌভাগ্যবান যে অনলাইনে আমি কয়েকজন প্রকৃত মুসলিম বন্ধু পেয়েছিলাম। তাদের ভেতর একজন মেয়ে বন্ধুও ছিলেন। মূলত তিনিই আমাকে ইসলামের পথে পথপ্রদর্শন করেন। ইসলামের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেন। অতঃপর আল্লাহ আমাকে ইসলামের জন্য কবুল করেন।

আমি ধর্মবিশ্বাস নিয়ে গভীর পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নিই। বিশেষত আমার ধর্মের ত্রুটিবিচ্যুতি বের করার চেষ্টা করি। যেমন ওল্ড টেস্টামেন্টে লেখা হয়েছে, মহান নবী হারুন (আ.) নিকৃষ্টতম পাপ করেছেন। নাউজুবিল্লাহ। হজরত মুসা (আ.) তুর পাহাড়ে তাওরাত লাভের জন্য গেলে তিনি সাধারণ মানুষের চাপে মূর্তি তৈরি করেন। আমার মনে প্রশ্ন জাগে, একজন নবী কিভাবে এমন ভয়ংকর পাপ করতে পারেন। এর চেয়ে তো তাঁর কাছে মৃত্যুবরণ করাই শ্রেয়। কোরআনে এই ঘটনার বিবরণে হারুন (আ.)-কে নিষ্পাপ ঘোষণা করা হয়েছে। কোরআনের বিবরণ অনুযায়ী মুসা (আ.) তুর পাহাড় থেকে ফিরে এসে যখন দেখলেন সাধারণ মানুষ একটি সোনার তৈরি গরুর বাছুরের ইবাদত করছে তখন তিনি হারুন (আ.)-কে পাকড়াও করলেন। হারুন (আ.) তখন প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরে বলেন, তিনি তাঁর পক্ষ থেকে সব চেষ্টাই করেছেন; কিন্তু তাঁর সম্প্রদায় তাঁর নিষেধের ভ্রুক্ষেপ করেনি। দুটি ঘটনার উপস্থাপনে দুই ধর্মীয় গ্রন্থের ভিন্নতা থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। এমন জঘন্য অপরাধের পরও কি কোনো সম্প্রদায় ক্ষমা পেতে পারে? তাওরাত বিকৃতির ব্যাপারে কোরআনের দাবির সঙ্গে আমার দৃষ্টিভঙ্গি মিলে যায়। কোরআন বলছে, বহু আগে ওল্ড টেস্টামেন্টে (তাওরাতে) পরিবর্তন আনা হয়েছে। অতীতের বহু ধর্মনেতা দুর্নীতিগ্রস্ত ছিলেন। যাঁরা অর্থের বিনিময়ে ইহুদি ধর্মকে মূল স্রোতধারা থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছেন। আরেকটি বিষয়, যা আমাকে ইসলাম গ্রহণে উৎসাহিত করেছে তা হলো কোরআনের বর্ণনার বৈজ্ঞানিক সত্যতা। আধুনিক আবিষ্কারের বহু বছর আগে কোরআনে মানবভ্রূণের ক্রমবিকাশের যে নিখুঁত বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, তা বিস্ময়কর। সুরা মুমিনুনের ১২ থেকে ১৪ আয়াতে মানবভ্রূণের ক্রমবিকাশ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা এসেছে। একইভাবে কোরআনে পাহাড়ের শ্রেণিবিন্যাস, বায়ুমণ্ডলের স্তর সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে, যা ১৪০০ বছর পর আধুনিক বিজ্ঞান আবিষ্কার করেছে।

আরেকটি বিষয় আমাকে মুগ্ধ করেছে, তা হলো ইসলাম ধর্মের নাম ও তার অর্থ। ইসলাম অর্থ আত্মসমর্পণ, যা এসেছে সালামা ধাতু থেকে। আরবি সালামা অর্থ শান্তি ও বিশুদ্ধতা। যে ব্যক্তি এক ও অদ্বিতীয় স্রষ্টার কাছে আত্মসমর্পণ করবে তার দেহ ও মন বিশুদ্ধ হবে এবং জীবনে শান্তির সন্ধান পাবে। যে ব্যক্তি তাওহিদ ও রিসালাতে বিশ্বাসী হবে, সে-ই মুসলিম বলে গণ্য হবে। পূর্ববর্তী বহু নবী (আ.) যাঁরা ইহুদি ধর্মের প্রচারক ছিলেন, তাঁরা একত্ববাদ ও সত্য দ্বিনের প্রচার করায় ইসলাম তাঁদের মুসলিম স্বীকৃতি দিয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে তাঁরা সবাই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ মানুষ ছিলেন। অন্য ধর্মের নবীদের ব্যাপারে এই উদারতা ইহুদি ও খ্রিস্ট ধর্মে নেই।

যা হোক, বয়স অল্প হওয়ায় এবং ইহুদি এলাকায় বসবাস করায় সত্য ধর্ম গ্রহণ করা আমার কঠিন ছিল। আমার মা-বাবা ও আত্মীয়রা অন্য ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিল। তবু আমি নিশ্চিত ছিলাম না যে তারা আমার ধর্মান্তর কিভাবে গ্রহণ করবে। আমি যেহেতু সত্যের সন্ধান পেয়েছি, তাই সত্য গ্রহণে বিলম্ব করলাম না; যদিও আমি প্রকাশ্যে ইসলাম পালন করতে পারছিলাম না। তবে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ যে আমি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় ও কোরআন তিলাওয়াত করতে পেরেছি। অনলাইনে ইসলাম সম্পর্কে পড়ারও সুযোগ ছিল আমার। ইসলাম গ্রহণের পর থেকে আমি সব ধরনের মাদক, পর্ন ও অবৈধ নারী সংস্রব পরিহার করে চলি। যেসব বন্ধু এসবে আসক্ত তাদের বিরত রাখার চেষ্টা করি বা তাদের থেকে দূরে থাকি। এটি আমার জন্য সহজ। কারণ আমি বিশ্বাস করি, আমার প্রতিটি কাজ ও কথার জন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করতে হবে। কোরআনকে আমার কাছে একটি আয়নার মতো মনে হয়। এখানে আমি নিজেকে খুঁজে পাই। আমার রোগের আরোগ্য, হতাশায় আশা, ভবিষ্যতের পথনির্দেশ সব আছে পবিত্র কোরআনে। আলহামদুলিল্লাহ! আল্লাহ তাআলা আমাকে ঈমান ও কোরআনের মতো উত্তম বন্ধু দান করেছেন।
এই নিউজ মোট   600    বার পড়া হয়েছে


ধর্ম



বিজ্ঞাপন
ওকে নিউজ পরিবার
Shekh MD. Obydul Kabir
Editor
See More » 

প্রকাশক ও সম্পাদক : শেখ মো: ওবাইদুল কবির
ঠিকানা : ১২৪/৭, নিউ কাকরাইল রোড, শান্তিনগর প্লাজা (২য় তলা), শান্তিনগর, ঢাকা-১২১৭।, ফোন : ০১৬১৮১৮৩৬৭৭, ই-মেইল-oknews24bd@gmail.com
Powered by : OK NEWS (PVT) LTD.