কোনো দলের প্রতি বিশেষ নজর নেই সেনাবাহিনীর

অনুসন্ধানী অর্থনীতি আইন-আদালত ওকে নিউজ স্পেশাল জাতীয় তথ্য-প্রযুক্তি প্রচ্ছদ মুক্তমত লাইফ স্টাইল শিক্ষা হ্যালোআড্ডা

স্টাফ রিপোর্টার : আমরা কখনো কোনো রাজনৈতিক দলকে বিশেষভাবে সহায়তা করিনি। আমাদের দায়িত্বের মধ্যে আমরা কাউকেই বিশেষভাবে দেখিনি। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আমাদের কাছে সকলেই সমান। যেখানে জনদুর্ভোগ বা ও জীবননাশের হুমকি থাকে সেখানেই আমরা কঠোর হই। জনসাধারণকে সহায়তা করি। সেনাবাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে গতকাল দুপুরে ঢাকা সেনানিবাসের অফিসার্স মেস ‘এ’-তে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন মিলিটারি অপারেশনস ডাইরেক্টরেটের কর্নেল স্টাফ কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম।

গোপালগঞ্জের কথা উল্লেখ করে স্টাফ কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গোপালগঞ্জে যেটা হয়েছে- সেখানে ওই রাজনৈতিক দলের (এনসিপি) অনেকেরই জীবননাশের হুমকি ছিল। তাদের জীবন বাঁচানোর জন্যই সেনাবাহিনী সহায়তা করেছে। এখানে জীবন বাঁচানোই মূল লক্ষ্য ছিল। আমরা কঠোর না হলে হতাহতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা ছিল। তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দল কোথায় কখন তাদের সভা-সমাবেশ বা মিটিং করবে এটা সাধারণত স্থানীয় প্রশাসন পুলিশের কাছ থেকে ক্লিয়ারেন্স নিতে হয়। তাই এক্ষেত্রেও গোপালগঞ্জের সভা বা সমাবেশের কথাটি স্থানীয় প্রশাসন বা পুলিশ জানতো। সেখানে কী হবে বা হতে পারে এমন কোনো তথ্য আগে থেকে আমাদের ছিল না। এরপরও সেখানে অনাঙ্ক্ষিত একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়। শুধু ইট-পাটকেল নিক্ষেপই করা হয়নি ককটেলও ছোড়া হয়েছে। যখন সেখানে জীবননাশের হুমকি ছিল তখন আত্মরক্ষার্থে সেখানে আমাদের যেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ছিল তারা বলপ্রয়োগ করেছেন। বলপ্রয়োগ করতে তারা বাধ্য হয়েছেন। এখানে প্রাণঘাতী কোনো অস্ত্রের ব্যবহার করা হয়নি। এরপরও ওখানে (গোপালগঞ্জে) ঠিক কী হয়েছিল তার সত্য ঘটনা উন্মোচনের জন্য ও উদ্ঘাটনের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা আশা করি এই তদন্ত কমিটি সঠিক ও সত্য ঘটনা উন্মোচনে সফল হবে। তবে প্রত্যেকটা জীবন মূল্যবান। কোনো জীবনহানি ঘটবে এটা কখনো আমরা কামনা করি না। আশাও করি না। তিনি বলেন, অপরাধী যে যেখান থেকেই অপরাধ করে থাকুক না কেন বা সন্ত্রাসীমূলক কর্মকাণ্ড করে থাকুক না কেন সেখানেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে এবং অপরাধীকে গ্রেপ্তার করবে। অপরাধীকে টার্গেট করেই আমাদের আভিযানিক কার্যক্রমগুলো হয়ে থাকে। এ ছাড়াও বিশেষ কোনো এলাকাতে অপরাধ কার্যক্রম চললে আমরা অবশ্যই সেখানে ব্যবস্থা নিবো। তবে অপরাধীদের আটকের পর বিচারিক প্রক্রিয়ায় হস্তান্তর করার পর আমাদের আর কিছু করার থাকে না।

স্টাফ কর্নেল বলেন, আমরা আগেই বলেছি, মব ভায়োলেন্স বা যেকোনো জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারীর বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান কঠোর হবে। সেটার কোনো ব্যত্যয় নেই। আগামী জাতীয় নির্বাচনে ৬০ হাজার সেনা সদস্য মোতায়েন করা হবে- প্রেস সচিবের এমন মন্ত্যব্যের বিষয়ে এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি প্রত্রিকা থেকে আমরা দেখেছি। তবে সরকার বা নির্বাচন কমিশন থেকে এখনো এ বিষয়ে আমাদেরকে কিছুই জানানো হয়নি। কোনো নির্দেশনাও দেয়া হয়নি। আমরা শুধু এতটুকুই বলবো- আমাদের একটা প্রস্তুতি আছে। যখন আমরা সরকারিভাবে নির্দেশনা পাবো তখন আমরা পরিকল্পনা করবো কোথায় কতোটুকু ফোর্স আমরা মাঠে নামাবো।

বিভিন্ন স্থানে চাঁদাবাজির বিষয়ে তিনি বলেন, মাদক ও চাঁদাবাজির ঘটনায় এখন পর্যন্ত আমরা ৫ হাজার ৫শ’ ৮৬ জনকে আটক করেছি। আসলে এইগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য আইনশৃঙ্খলার অন্যান্য যেসব বাহিনী রয়েছে যাদেরকে এসব বিষয়ে সর্বাত্মক দায়িত্ব পালনের কথা তারা যদি আরও ইফেকটিভ হয় তাহলে এসব অপরাধ আরও কমে আসবে। একইসঙ্গে আমাদের যেই আভিযানিক দায়িত্ব রয়েছে সেটা আমরা সর্বদা পালন করছি।
মেজর সাদিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ট্রেনিং দিচ্ছে এমন অভিযোগের বিষয়ে এই সেনা কর্মকর্তা বলেন, মেজর সাদিকের বিষয়ে আমরা ইতিমধ্যেই অবগত হয়েছি। তার বিরুদ্ধে তদন্তও চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে এই বিষয়ে নির্দিষ্ট করে বলা যাবে। এ সময় আমেরিকার সেনা সদস্যদের সঙ্গে টাইগার লাইটেনিং প্রশিক্ষণের বিষয়ে তিনি বলেন, টাইগার লাইটেনিং একটা প্রশিক্ষণ। যেটা বাংলাদেশ আর্মি ইউএস আর্মির সঙ্গে করে থাকে। নিয়ম অনুসারে এটা প্রতি বছরই হয়ে থাকে। এটা নতুন কোনো কিছু না। জ্ঞানবৃদ্ধির জন্যই এই ট্রেনিংটা হয়ে থাকে।

আরো পড়ুন : জুলাই সনদের অপেক্ষায় পুরো দেশ

Share The News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *