ইসরায়েলি বাহিনী আমাদের খাবার-পানি-ঘুম কেড়ে নিয়েছিল: ইতালির এমপি

অর্থনীতি আইন-আদালত আন্তর্জাতিক জনপ্রতিনিধি তথ্য-প্রযুক্তি প্রচ্ছদ প্রবাস মুক্তমত রাজনীতি হ্যালোআড্ডা

গাজায় মানবিক সহায়তা নিয়ে যাওয়া একটি ত্রাণবহরে অংশ নেওয়ার পর ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ইতালির ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য (এমপি) বেনেদেত্তা স্কুডেরি। সোমবার তিনি জানান, তার সঙ্গে আরও শত শত মানবাধিকার কর্মীকে ইসরায়েলি বাহিনী আটক করে দুর্ব্যবহার করে।

ফ্রান্সের স্ত্রাসবুর্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে স্কুডেরি সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন। তিনি জানান, ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামের ওই ত্রাণবহরে তিনিসহ ইউরোপীয় পার্লামেন্টের পাঁচজন সদস্য ছিলেন। আন্তর্জাতিক জলসীমায় তাদের জাহাজগুলোর ওপর হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী এবং প্রায় ৪০০ কর্মীকে জোরপূর্বক আশদোদ বন্দরে নিয়ে যায়।

আটক থাকা অবস্থায় তাদের সঙ্গে হওয়া দুর্ব্যবহারের কথা তুলে ধরে ইতালির এই আইনপ্রণেতা বলেন, সেখানে তাদের খাবার, পানি, ঘুম এবং ওষুধের মতো মৌলিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত করা হয়। এমনকি কয়েকজনের ওপর শারীরিক লাঞ্ছনার ঘটনাও ঘটে।

স্কুডেরি বলেন, তাদের এই ত্রাণবহরের উদ্দেশ্য ছিল সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং মানবিক। ইসরায়েলি অবরোধ ও দুর্ভিক্ষের কারণে অবর্ণনীয় দুর্ভোগে থাকা গাজার মানুষের পাশে দাঁড়াতেই তারা গিয়েছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার রক্ষায় ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠান এবং সরকারগুলোর নিষ্ক্রিয়তার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতারা যা করতে ব্যর্থ হয়েছেন, ত্রাণবহরের কর্মীরা কেবল সেই দায়িত্বই পালন করছিলেন।

তিনি আরও জানান, ফরাসি এমপি রিমা হাসান ও এমা ফোর‍্যুর মতো কয়েকজন অংশগ্রহণকারী এখনো মুক্তি পাননি। এছাড়া ফরাসি এমপি মেলিসা কামারাসহ ইউরোপীয় কর্মীদের বহনকারী আরেকটি ত্রাণবহর এখনো গাজার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। স্কুডেরি গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের রক্ষক হিসেবে এই মিশনের লক্ষ্যকে সমর্থন করার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতি আহ্বান জানান।

এদিকে, স্কুডেরির রাজনৈতিক দল ‘দ্য গ্রিনস’ ত্রাণবহরে ইসরায়েলি হামলা এবং অংশগ্রহণকারীদের বেআইনিভাবে আটকের বিষয়টি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব দিলেও তা নাকচ করে দেওয়া হয়।

আরো পড়ুন : দায়সারা দায়িত্ব পালনের জন্য কিছু উপদেষ্টার কোনো সেফ এক্সিট নেই, আছে মৃত্যু!

Share The News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *