দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য অটুট রাখাই দুর্গাপূজার মূল দর্শন: প্রেসিডেন্ট

ওকে নিউজ স্পেশাল জাতীয় ধর্ম প্রচ্ছদ

রোববার শারদীয় দুর্গোৎসব ও বিজয়া দশমী ২০২৬ উপলক্ষে ঢাকার রমনা কালীমন্দির পরিদর্শনকালে প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য অটুট রাখতে হবে । তিনি আরো বলেন, অন্যায়, অত্যাচার, অসততা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো ও এসবকে পরাজিত করাই দুর্গাপূজার মূল দর্শন।

প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা খুব দৃঢ় কণ্ঠে, জোর গলায় বলতে পারি যে, বাংলাদেশে যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রয়েছে তা বিশ্বের আর কোথাও আছে বলে আমার জানা নাই। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন সংঘাত, হানাহানি ও হিংসা-বিদ্বেষ বিরাজ করছে, তখন বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উদ্‌যাপন করতে পারছেন-এটি আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এই উৎসব ন্যায়, শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের শিক্ষা দেয়। এই দেশে বারবার অসুরের আবির্ভাব হয়েছে এবং বাংলাদেশের মানুষ তাদেরকে পরাজিত করেছে।

রমনা কালীমন্দিরের ইতিহাস তুলে ধরে প্রেসিডেন্ট বলেন, ১৯৭১ সালে এটাকে ধ্বংস করার চেষ্টা হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালে এটাকে ধ্বংস করা হয়। যারা ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে, তাদের হাতেই এই অপকর্ম হয়েছিল। এরপর ২০০১ সালে বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের উদ্যোগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে এই রমনা কালীমন্দির পুনঃস্থাপিত হয় এবং তখন থেকেই এটাকে আবার পুরোনো

ঐতিহ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হয়। এসময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান তিনি।

দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সকলকে একতাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ে সবসময় অপব্যাখ্যা দেওয়া হয়, অপপ্রচার করা হয়। একই সঙ্গে বর্তমানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের যে সকল সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সমাধানে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

প্রেসিডেন্ট পূজার সফলতা কামনা করেন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনকারীদের ধন্যবাদ জানান। এসময় মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) বিজন কান্তি সরকার, রমনা মন্দিরের সভাপতি অর্পনা রায় দাস ও সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্য। অনুষ্ঠানে রমনা মন্দিরের সদস্য সুভাষ চন্দ্র দাস প্রেসিডেন্টকে উত্তরীয় পরিধান করিয়ে দেন।
আরো পড়ুন : অভিনব জালিয়াতি করে আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ের ভূমি অধিগ্রহণে লুটের টাকা হাজার কোটির সম্ভাবনা

Share The News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *