স্টাফ রিপোর্টার : কামরুল আহসান সাধন। গুলশান থানা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক। রোববার রাত ১০টার দিকে বাড্ডার গুদারাঘাট এলাকার ৪ নম্বর রোডে এলাকাটির সাবেক কমিশনার কাইয়ুমের কার্যালয়ের সামনে বসে চা খাচ্ছিলেন। তার সঙ্গে তখন বসে কথা বলছিলেন কাইয়ুমের ভাগিনা কামরুলসহ আরও তিনজন। তাদের সামনেই দোকানের সিঁড়িতে বসে ও রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন আরও বেশ কয়েকজন। এরইমধ্যে ১০টা ৬ মিনিটের দিকে হঠাৎ দুই যুবক পেছন দিক থেকে হেঁটে এসে খুব কাছ থেকে চেয়ারে বসে থাকা সাধনের ঘাড়ে, পিঠে ও বুকে গুলি করে। ঘাড়ে প্রথম গুলি লাগার সঙ্গে সঙ্গেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সাধন। এরপরও তাকে লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি ছোড়া হয়। গুলি ছুড়তে ছুড়তে বীরদর্পে চলে যায় ওই যুবকরা। আর এসব কিছুই হয় মাত্র ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে।
ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ৪ নম্বর রোডের মাথায় বসে হাতে চায়ের কাপ নিয়ে সামনের চেয়ারে বসা কামরুলের সঙ্গে কথা বলছেন বিএনপি নেতা কামরুল আহসান সাধন। তার সামনে কিছুটা দূরে কালো গেঞ্জি ও জিন্স প্যান্ট পরা এক যুবক পায়চারি করছেন। ভিডিও ফুটেজেই দেখা যাচ্ছে সে স্বাভাবিক নয়। কিছুটা অস্থির। সাদা শার্ট পরা আরেক যুবক পানির বোতল নিয়ে সাধনের সামনে দিয়ে হেঁটে সাধনের পেছনের দিকে ডাক্তার জিয়ার বাড়ির কোনায় গিয়ে দাঁড়ায়। এরই মধ্যে আরেক যুবক সাধনের পেছন দিক থেকে এসে সামনের রাস্তার দিকে চলে যায়। ঠিক ওই যুবকের পেছন পেছনই আসা কালো ট্রাউজার (প্যান্ট) ও সাদা গোল গলা গেঞ্জি মুখে মাস্ক পরে প্রথম একজন যুবক পিস্তল বের করে সাধনের দিকে এগিয়ে যান। তার সঙ্গেই সাদা কালো চেক শার্ট ও জিন্স প্যান্ট পরা আরেক যুবক। তার হাতেও পিস্তল ও মুখে মাস্ক। তাদের দু’জনের মধ্যে সাদা রঙের গেঞ্জি পরা প্রথম যুবকটি সাধনের চেয়ারের কাছে গিয়ে তার মাথা বরাবর পরপর দুটি গুলি ছোড়ে। গুলি দুটিই সাধনের ঘাড়ে ও পিঠে লাগে। এর পরপরই পেছনে থাকা আরেক যুবক সাধনকে লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি চালাতে চালাতে সামনে এগিয়ে যায়। এ সময় কেউ যেন তাদের কাজে বাধা না দেয় এজন্য সামনের যুবক নিচের রাস্তার দিকে ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে হেঁটে ডান পাশের রাস্তা দিয়ে বের হয়ে চলে যায়। ওই সময় অস্ত্রের ভয়ে সাধনের সঙ্গে বসে থাকা বিএনপি নেতা কাইয়ুমের ভাগিনা কামরুলসহ রাস্তায় উপস্থিত কেউ তাদের ঠেকানোর চেষ্টা করেনি।
এদিকে কামরুল আহসান সাধন হত্যার ঘটনায় গতকাল তার স্ত্রী দিলরুবা আক্তার বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। দিলরুবা আক্তার বলেন, রোববার তিনি প্রয়োজনীয় কিছু জিনিসপত্র আর বিস্কুট কিনে বাসায় ফেরেন রাত পৌনে ১০টায়। আমি তখন নামাজ আদায় করছিলাম। বললাম আর তিন রাকাত নামাজ বাকি। শেষ করে খাবার দিচ্ছি, খেয়ে যান। এর মধ্যে একটা কল আসে। ওই কলে কথা বলতে বলতে তিনি দরজা বাইরে থেকে লক করে বের হয়ে যান। আমি নামাজ শেষে খাবারও টেবিলে সাজাই। কিন্তু সেই খাবার আর কারোরই খাওয়া হয়নি। তার আগেই খবর আসে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তিনি।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বিএনপি নেতা ও সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার কাইয়ুমের ভাগনে কামরুল ইসলাম বলেন, আমরা একসঙ্গে বসা ছিলাম। হঠাৎ দু’জন এসে এলোপাতাড়ি গুলি করে। গুলিতে সাধন ঘটনাস্থলেই পড়ে যান। আমি কোনোরকম হামাগুড়ি দিয়ে সটকে পড়ি।
বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, সাধন হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী দিলরুবা আক্তার সোমবার ভোরে বাড্ডা থানায় অজ্ঞাতদের আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেছেন। আমরা ঘটনাস্থলের আশপাশের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করছি। প্রাথমিকভাবে ওই দুই শুটারকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে কাজ করছে পুলিশ ও র্যাবের কয়েকটি টিম। আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যেই ঘাতকরা আইনের আওতায় চলে আসবে।
এসব বিষয়ে ডিএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণের পর মনে হচ্ছে এটা টার্গেটেড কিলিং। কারণ সেখানে আরও মানুষ থাকলেও শুধু টার্গেট করে সাধনকেই গুলি করা হয়েছে। আমরা পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। অপরাধী যারাই হোক কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।
আরো পড়ুন : সুইস ডিজাইনার কেভিন জার্মানিয়ের ফেলে দেওয়া উপকরণ দিয়ে দামি পোশাক
