স্টাফ রিপোর্টার : গতকাল সচিবালয়ে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলের সঙ্গে বৈঠকের পর জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার বদলে জাতীয় অনৈক্য প্রতিষ্ঠার একটা প্রচেষ্টা গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, জুলাই সনদে থাকা সুপারিশ ২৭০ দিনের মধ্যে সংস্কার পরিষদ পাস না করলে অটোমেটিক পাস হয়ে যাবে, এটা হাস্যকর। পরীক্ষায় অটোপাসের মতো বিষয় সংবিধানে থাকতে পারে না। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন নিষ্কৃতি পাওয়ার জন্যই এমন সুপারিশ করেছে। তবে আইনানুগ ও সাংবিধানিক ভিত্তি বিবেচনায় সরকার একটা সিদ্ধান্ত নেবে বলে আশা করি।
তিনি বলেন, যে জুলাই জাতীয় সনদে রাজনৈতিক দলগুলো স্বাক্ষর করেছে সেই স্বাক্ষরিত সনদ বহির্ভূত অনেক পরামর্শ বা সুপারিশ, সনদ বাস্তবায়নের আদেশের খসড়ায় যুক্ত করা হয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ ৮৪টি দফা সম্ভবত, সেখানে বিভিন্ন দফায় আমাদের এবং বিভিন্ন দলের কিছু ভিন্ন মত আছে, নোট অব ডিসেন্ট আছে। পরিষ্কারভাবে সেখানে উল্লেখ করা আছে যে, এই সমস্ত নোট অব ডিসেন্টের বিষয়গুলো রাজনৈতিক দলসমূহ যারা দিয়েছে, তারা যদি নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহারে উল্লেখপূর্বক ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত হয় তাহলে তারা সেইভাবে সেটা বাস্তবায়ন করতে পারবেন। সেটা এই প্রিন্টেড জাতীয় জুলাই সনদের যে বই এখানে আপনারা পাবেন সমস্ত দফায় দফায় যেখানে যেখানে ডিসেন্ট আছে, সেখানে আছে। অথচ বিস্ময়করভাবে আজকে যে সংযুক্তিগুলো দেয়া হলো সুপারিশমালার সঙ্গে, সেখানে এই নোট অব ডিসেন্টের কোনো উল্লেখ নাই।
তিনি আরও বলেন, হয়তোবা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমস্যাটা নিয়ে আবার আলোচনা হতে পারে। এখানে একটা নতুন বিষয় সংযুক্ত করা হয়েছে যে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের নামে একটা আইডিয়া এখানে সংযুক্ত করা হয়েছে। যেটা আগে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে কখনো টেবিলে ছিল না, আলোচিত হয়নি। এ বিষয়ে কোনো ঐকমত্য হয়নি। তিনি বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্রের স্বার্থে জোটভুক্ত হয়ে নির্বাচন করলেও প্রত্যেক দলের নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করা উচিত- এমন বিধান আরপিও’র আগের আইন বহাল রাখার অনুরোধ জানাতে আইন উপদেষ্টার কাছে এসেছি। আইন উপদেষ্টা জানিয়েছেন, বিষয়টি উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। আমরা সে পর্যন্ত অপেক্ষা করবো। তিনি আরও বলেন, ঐকমত্য কমিশন আজকে তাদের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেয়ায় ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তবে এই প্রতিবেদনে কিছু অনৈক্য তৈরি হয়েছে, যার সঙ্গে একমত নয় বিএনপি।
তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো দল বলেনি ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে না। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অবশ্যই হবে- সরকারের এ প্রস্তুতিতে আমরা আশ্বস্ত। সালাহউদ্দিন আহমদ আরও জানান, বিএনপি’র সঙ্গে এনসিপি জোটভুক্ত হয়ে নির্বাচন করবে কি-না, তা বলার সময় এখনো আসেনি। তিনি বলেন, বিএনপি’র সঙ্গে আলোচনা না করেই ঐকমত্য কমিশন অনেক সুপারিশ জমা দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কাছে, যেগুলোর সঙ্গে একমত নয় বিএনপি। দু’-এক দিনের মধ্যে বিএনপি এ নিয়ে তাদের মতামত জানাবে।
গণভোটে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে রায় এলে যে প্রক্রিয়ায় এই সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেই নোট অব ডিসেন্টসহ সেটি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলো বাধ্য থাকবে বলে উল্লেখ করেন সালাহউদ্দিন আহমদ। কিন্তু জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে ভিন্নতা দেখছেন উল্লেখ করে বিএনপি’র এই নেতা বলেন, ‘যে সমস্ত প্রশ্নগুলো আমি দেখলাম এখানে বলা হয়েছে আপার হাউসে অর্থাৎ উচ্চকক্ষে নিম্নকক্ষের প্রাপ্ত ভোটের আনুপাতিক হারে আসনের মধ্যদিয়ে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। এই রকম তো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত হয়েছে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে ১০০ সদস্যের এবং তারা কীভাবে কোন পদ্ধতিতে নির্বাচিত হবে সে ব্যাপারে তো ঐকমত্য হয়নি।’
উচ্চকক্ষের এখতিয়ার বিষয়ে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বলা আছে যে অর্থ বিল এবং আস্থা বিল বাদে, আস্থা ভোট বাদে সব বিষয় উচ্চকক্ষে উত্থাপন করা হবে। এখানেও কর্মপরিধি কার্যপরিধি-সংক্রান্ত নোট অব ডিসেন্ট আছে যে উচ্চকক্ষ যেহেতু নির্বাচিত নয় সরাসরি সে ক্ষেত্রে সংবিধান সংশোধনীসহ অন্যান্য বিষয় তারা বিবেচনা করতে পারেন না। জনগণের সরাসরি নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়া সংবিধান সংশোধনের এখতিয়ার কারও নেই। এই বিষয়গুলো আলোচিত হওয়ার পরেও নোট অব ডিসেন্ট থাকার পরেও তারা সরাসরি এই আদেশের সংযুক্তিতে রেখেছেন। এগুলো কোনোভাবে বিবেচনা করা যায় না।’
আগামী সংসদ সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে ২৭০ দিনের মধ্যে গণভোটে পাস হওয়া প্রস্তাবগুলো অনুমোদন না করলে এগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে যুক্ত হয়ে যাবে এ প্রস্তাবের বিষয়ে তিনি বলেন, এটা একটা হাস্যকর ব্যাপার। সংবিধানের কোনো বিষয় সংশোধিত হওয়ার পরে এটা একটা আইন। সেই আইনটা পার্লামেন্টে যথাযথভাবে পাস হওয়ার পরে যখন স্পিকার সই করে রাষ্ট্রপতির কাছে দেবেন, রাষ্ট্রপতি সই হওয়ার পরে সেটা তখন আইনে পরিণত হবে। সেটা সংবিধান সংশোধন হোক বা অন্য আইন, …পরীক্ষায় অটো পাসের মতো কোনো বিষয় তো সংবিধানে থাকতে পারে না। এগুলো কীভাবে সুপারিশে এলো আমি জানি না।’
আরো প ড়ুন : নভেম্বরে গণভোট আর নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে ১৭ দফা সুপারিশ করেছে জামায়াত
