মায়ের জন্য ক্ষমা চেয়েও রক্ষা পেলনা আশিক, পিটিয়ে হত্যা করল প্রতিবেশীরা

অনুসন্ধানী আইন-আদালত ক্রাইম নিউজ জনদুর্ভোগ জাতীয় প্রচ্ছদ মুক্তমত স্বাস্থ্য কথা হ্যালোআড্ডা

পাবনা প্রতিনিধি : গরু ক্ষেত খাওয়ার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মাকে পিটিয়ে আহত করে প্রতিবেশীরা। ক্ষেত খাওয়ায় ক্ষমা ও মাকে অপমানের প্রতিবাদ করতে গিয়ে শেষ রক্ষা হলো না ১৭ বছরের কিশোর আশিকের। তাকে মারধর ও পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে পাবনার আমিনপুর থানার সাগরকান্দি ইউনিয়নের রামকান্তপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত আশিক মন্ডল (১৭) রামকান্তপুর গ্রামের মো. সন্তোষ মন্ডলের ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার বিকেলে প্রভাবশালী প্রতিবেশী আরোফ মৃধার ক্ষেত খায় গরু। সেই গরু আশিকের মায়ের গরু অপবাদ দিয়ে তার মাকে বেধড়ক মারপিট করেন অভিযুক্ত ওই প্রতিবেশী। পরে সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে মা’কে মারধরের বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবেশীদের কাছ যান এবং ক্ষেত খাওয়ায় ক্ষমা চেয়ে মাকে অপমানের প্রতিবাদ করে। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আশিককেও পিটিয়ে গুরুতর আহত করেন অভিযুক্ত আরোফ মৃধা ও তার স্বজনরা। পরে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কাশিনাথপুর স্বাস’্য কেন্দ্রে এবং পরবর্তীতে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। সেখানেও অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেলে নেয়ার পথে রাত ১ টার দিকে মারা যায় আশিক। এ বিষয়ে আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা বলেন, গরুর ক্ষেত খাওয়া নিয়ে ঝামেলায় তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরো জানান, বুধবার দুপুরে নিহতের ভাই নুর ইসলাম বাদি হয়ে ৬ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আরোফ মৃধার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে পলাতক থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার মুঠোফোনও বন্ধ পাওয়া গেছে।

আরো পড়ুন : বিবিসির বিশ্লেষণে ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের কয়েকটি সম্ভাব্য পরিণতি

Share The News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *