সচিবালয়ের কর্মসূচি আপাতত স্থগিত হলেও কাটেনি সংকট

অনুসন্ধানী অর্থনীতি জাতীয় তথ্য-প্রযুক্তি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রচ্ছদ মুক্তমত লাইফ স্টাইল হ্যালোআড্ডা

স্টাফ রিপোর্টার : সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে সচিবালয়ে আন্দোলনরত কর্মচারীরা তাদের কর্মসূচি আপাতত স্থগিত করেছেন। গতকাল সচিবদের সঙ্গে বৈঠক শেষে উভয়পক্ষ প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানায়। ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ বাতিল করার বিষয়ে কর্মচারীদের দাবি বুধবার মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে তুলে ধরবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত সচিবেরা। এমন পরিস্থিতিতে আন্দোলন কর্মসূচি একদিনের জন্য স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কর্মচারীরা। ওদিকে গতকাল কর্মচারীদের বিক্ষোভ কর্মসূচি এবং বাইরে জুলাই মঞ্চের নামে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা সচিবালয়ের ৬ নম্বর ভবনের সামনে জড়ো হয়ে সমাবেশ করেন। এসময় তারা নতুন অধ্যাদেশ বাতিলের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। টানা চতুর্থ দিনের আন্দোলনে নিয়মিত অফিসিয়াল কাজে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে।

এদিকে বিকালে বৈঠকের বিষয় তুলে ধরে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ বলেন, আমরা কয়েকজন সচিব বসে তাদের (আন্দোলনকারী) বক্তব্য শুনেছি। আসলে আমরা উভয়পক্ষই সরকারের কর্মচারী। সরকার একটা আইন করেছে। তারা এ বিষয়ে সংক্ষুব্ধ হয়েছে। আইনটি বাতিল চেয়েছে। আমরা তাদের দাবির সারাংশ বুধবার মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে উপস্থাপন করবো। পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। তিনি বলেন, আলোচনার স্বার্থে আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচি স্থগিত করেছেন। এ সময় আন্দোলনকারীদের পক্ষে দুজন কথা বলেন। তারাও আন্দোলন স্থগিতের বিষয়ে সম্মত হয়েছেন বলে জানান। মঙ্গলবার বিকাল পৌনে ৩টায় ভূমি মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে কর্মচারী নেতাদের সঙ্গে ভূমি সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদের সভাপতিত্বে বৈঠক শুরু হয়। সভায় আরও পাঁচজন সচিব অংশ নেন। এ ছাড়া সচিবালয়ে আন্দোলনরত কর্মচারীদের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা সভায় যোগ দেন। সচিবালয়ে কর্মচারীদের লাগাতার আন্দোলনের মধ্যে মঙ্গলবার সকালে মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশিদ বেশ কয়েকজন সচিবকে নিয়ে জরুরি সভা করেন। ওই সভায় সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ পর্যালোচনায় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। সেই সভা থেকেই কর্মচারী নেতাদের সঙ্গে কথা বলতে ভূমি সচিবকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

আন্দোলনকারীদের একজন নেতা বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরামের কো- চেয়ারম্যান ও সচিবালয় কর্মকর্তা- কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের একাংশের সভাপতি মুহা. নুরুল ইসলাম জানান, তারা বুধবার কোনো কর্মসূচি পালন করবেন না। এ সময় আন্দোলনকারী নেতাদের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন অপর অংশের নেতা বাদিউল কবীর, নজরুল ইসলাম, মোহাম্মদ বেলাল হোসেন।

অন্যদিকে কর্মচারীদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে গতকালও সচিবালয়ে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়া হয়। সচিবালয়ের প্রধান ফটকে বিশেষায়িত বাহিনী সোয়াট সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। এ ছাড়া বিজিবি, র?্যাবও মোতায়েন করা হয়। সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া কেউ ঢুকতে পারেননি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থার মধ্যেই গতকাল সচিবালয়ের ভেতরে বিক্ষোভ করেন কর্মচারীরা। বেলা একটা পর্যন্ত সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রবেশের অনুমোদন দেয়া হয়নি। কর্মচারীদের গতকালের বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর বেলা একটার পর সাংবাদিকদের সচিবালয়ের ভেতরে প্রবেশ করতে অনুমোদন দেয়া হয়।

অন্যদিকে ‘জুলাই মঞ্চের মুখপাত্র আরিফুল ইসলাম জানান, সাতদিনের মধ্যে অর্থ উপদেষ্টা ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জুলাই মঞ্চের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এর আগে গতকাল সকালে পুলিশের ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে সচিবালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করে জুলাই মঞ্চ। সচিবালয় ও এনবিআরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চলমান আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের ফ্যাসিবাদের দোসর উল্লেখ করে তাদের উৎখাতের দাবিতে সোমবার রাত থেকে তারা সচিবালয়ের সামনে ওসমানী মিলনায়তনের পাশে অবস্থান করছিলেন। বেলা ১১টার দিকে তাদেরকে পুলিশ অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহারের অনুরোধ করলেও তারা অনড় থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

গত বৃহস্পতিবার অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ সংশোধন করে সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর খসড়া অনুমোদন হয়। এর পর থেকে এই অধ্যাদেশের বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মচারীরা। আন্দোলনের মধ্যেই গত রোববার সন্ধ্যায় সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করে সরকার। এই অধ্যাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে টানা চারদিন সচিবালয়ের ভেতরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মচারীরা।

সারা দেশে ২৫টি ক্যাডারের কর্মকর্তাদের কলম বিরতি কর্মসূচি পালন: এদিকে গতকাল সারা দেশে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের ২৫টি ক্যাডারের কর্মকর্তারা কলম বিরতি কর্মসূচি পালন করেছেন। আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদের আহ্বানে দেশের বিভিন্ন দপ্তরে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত পরিষদের অন্তর্ভুক্ত সিভিল সার্ভিসের ২৫টি ক্যাডারের কর্মকর্তারা এ কর্মসূচি পালন করেন। প্রশাসন ক্যাডার কর্তৃক বৈষম্যমূলকভাবে বিভিন্ন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সাময়িক বরখাস্ত ও বিভাগীয় মামলার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগসহ অন্যান্য জরুরি সেবা কার্যক্রম এই কর্মসূচির আওতাবহির্ভূত ছিল। একই দাবিতে আজও সারা দেশে একই সময়ে তাদের কলম বিরতি পালনের কর্মসূচি রয়েছে।

আরো পড়ুন : অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি লাগামছাড়া অপরাধীরা 

Share The News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *